ads

রবিবার , ২৪ মে ২০২৬ | ১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  1. ENGLISH
  2. অনিয়ম-দুর্নীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আমাদের ব্লগ
  6. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  7. ইসলাম
  8. উন্নয়ন-অগ্রগতি
  9. এক্সক্লুসিভ
  10. কৃষি ও কৃষক
  11. ক্রাইম
  12. খেলাধুলা
  13. খেলার খবর
  14. চাকরির খবর
  15. জাতীয় সংবাদ

আগামী এক বছর ‘নজরুল বর্ষ’ ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

শ্যামলবাংলা ডেস্ক
মে ২৪, ২০২৬ ১২:১৭ পূর্বাহ্ণ

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম-এর সাহিত্য, চেতনা, সাম্যবাদী দর্শন ও মানবিক মূল্যবোধ নতুন প্রজন্মের কাছে আরও গভীরভাবে পৌঁছে দিতে আগামী এক বছরকে ‘নজরুল বর্ষ’ ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ২৩ মে শনিবার সন্ধ্যায় ত্রিশাল-এ জাতীয় পর্যায়ে আয়োজিত জাতীয় কবির ১২৭তম জন্মজয়ন্তী উদ্‌যাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন। কবির স্মৃতিবিজড়িত ত্রিশাল এদিন পরিণত হয়েছিল এক প্রাণবন্ত সাংস্কৃতিক জনপদে। নজরুলসংগীত, আবৃত্তি, নৃত্যনাট্য ও মনোমুগ্ধকর পরিবেশনায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো আয়োজন।

Shamol Bangla Ads

সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দেন— ২০২৬ সালের ২৫ মে থেকে ২০২৭ সালের ২৫ মে পর্যন্ত সারা দেশে পালিত হবে ‘নজরুল বর্ষ’। ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে উপস্থিত হাজারো দর্শক-শ্রোতার করতালি ও উচ্ছ্বাসে উৎসবমুখর হয়ে ওঠে অনুষ্ঠানস্থল।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, শুধু আনুষ্ঠানিক আয়োজনের মধ্যেই নজরুলকে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। নতুন প্রজন্মের কাছে তাঁর সাহিত্য, দর্শন ও বিদ্রোহী চেতনাকে আধুনিকভাবে তুলে ধরতে হবে। সেই লক্ষ্য নিয়েই আগামী এক বছরকে আমরা ‘নজরুল বর্ষ’ হিসেবে পালন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

Shamol Bangla Ads

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের প্রতিটি জেলায় নজরুলভিত্তিক সাহিত্যসভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আলোচনা, আবৃত্তি প্রতিযোগিতা ও তরুণদের অংশগ্রহণমূলক নানা আয়োজন করা হবে। যাতে নতুন প্রজন্ম বুঝতে পারে— বিদ্রোহ, প্রেম, মানবতা, সাম্য ও অসাম্প্রদায়িকতার প্রতীক কাজী নজরুল ইসলাম শুধু একজন কবি নন; তিনি আমাদের জাতীয় চেতনার অন্যতম প্রধান আলোকবর্তিকা।

সরকারি সূত্রে জানা গেছে, ‘নজরুল বর্ষ’ উপলক্ষে বছরব্যাপী বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা, ডিজিটাল আর্কাইভ নির্মাণ, নজরুলসংগীত উৎসব, ভ্রাম্যমাণ সাংস্কৃতিক আয়োজন, তরুণ লেখক-শিল্পীদের সম্পৃক্তকরণ এবং দেশের বিভিন্ন জেলায় বিশেষ আলোচনা সভা।

সংস্কৃতিজনরা বলছেন, প্রযুক্তিনির্ভর এই প্রজন্মকে নজরুলের দর্শনের সঙ্গে যুক্ত করতে আধুনিক ও সৃজনশীল উপস্থাপনার বিকল্প নেই। তাদের মতে, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, শর্টফিল্ম, ডকুমেন্টারি, অনলাইন ক্যাম্পেইন ও শিক্ষাক্রমভিত্তিক উদ্যোগের মাধ্যমে নজরুলচর্চাকে আরও জনপ্রিয় করে তোলা সম্ভব।

বিশেষজ্ঞদের অভিমত, ‘নজরুল বর্ষ’ কেবল একটি আনুষ্ঠানিক উদ্‌যাপন নয়; এটি হতে পারে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গঠনে নতুন প্রজন্মকে উদ্বুদ্ধ করার এক শক্তিশালী সাংস্কৃতিক আন্দোলন। মানবমুক্তি, সাম্য, প্রতিবাদ ও ভালোবাসার কবি কাজী নজরুল ইসলাম-কে ঘিরে রাষ্ট্রীয় এই উদ্যোগ বাংলা সাহিত্য-সংস্কৃতিতে নতুন প্রাণসঞ্চার করবে বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ত্রিশালের মাটিতে প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ‘নজরুল বর্ষ’ এখন শুধু একটি সাংস্কৃতিক কর্মসূচি নয়— এটি নতুন প্রজন্মের হৃদয়ে জাতীয় কবিকে নতুন করে আবিষ্কারের এক ঐতিহাসিক অঙ্গীকার।

Need Ads
error: কপি হবে না!