ads

বৃহস্পতিবার , ২৩ এপ্রিল ২০২৬ | ১০ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  1. ENGLISH
  2. অনিয়ম-দুর্নীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আমাদের ব্লগ
  6. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  7. ইসলাম
  8. উন্নয়ন-অগ্রগতি
  9. এক্সক্লুসিভ
  10. কৃষি ও কৃষক
  11. ক্রাইম
  12. খেলাধুলা
  13. খেলার খবর
  14. চাকরির খবর
  15. জাতীয় সংবাদ

ময়মনসিংহে সম্ভাবনাময় পর্যটন শিল্প বিকাশে পৃথক কর্তৃপক্ষ গঠনের প্রস্তাব

শ্যামলবাংলা ডেস্ক
এপ্রিল ২৩, ২০২৬ ৭:১৭ অপরাহ্ণ

ঘন বনাঞ্চলের নৈসর্গিক সৌন্দর্যে মোড়ানো গারো পাহাড়

পাহাড়, নদী, ঝর্ণা, লেক, সাদা মাটির পাহাড় আর নীলাভ জলরাশির অপূর্ব সম্মিলনে সাজানো সীমান্তবর্তী গারো পাহাড় যেন প্রকৃতির এক জীবন্ত চিত্রপট। হাতি, বানরসহ নানা বন্যপ্রাণী ও পাখির কোলাহলে মুখর এই অঞ্চল প্রতিনিয়তই ডাকছে ভ্রমণপিপাসু মানুষকে। এমন প্রাকৃতিক ঐশ্বর্যে ভরপুর ময়মনসিংহ বিভাগে পর্যটন শিল্পের অপার সম্ভাবনা কাজে লাগাতে পৃথক পর্যটন কর্তৃপক্ষ গঠনের প্রস্তাব উঠে এসেছে এক সেমিনারে।
২২ এপ্রিল বুধবার বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত ‘ময়মনসিংহ বিভাগের পর্যটন, ইতিহাস-ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির বিকাশে করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা বলেন, পরিকল্পিত উদ্যোগ, আধুনিক অবকাঠামো এবং কার্যকর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এই অঞ্চলকে দেশের অন্যতম প্রধান পর্যটন গন্তব্যে রূপান্তর করা সম্ভব।

Shamol Bangla Ads

অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার কাজী জিয়াউল বাসেতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিভাগীয় কমিশনার ফারাহ শাম্মী, এনডিসি। তিনি বলেন, “সংস্কৃতি ও বৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ ময়মনসিংহ বিভাগকে পর্যটনের মাধ্যমে অর্থনৈতিক শক্তিতে পরিণত করতে হলে সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।” তিনি পর্যটন খাতের উন্নয়নে আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।

সেমিনারে বক্তারা তুলে ধরেন, গারো পাহাড়ের সবুজ টিলা, ঘন বনাঞ্চল ও মেঘলা আবহাওয়া পর্যটকদের জন্য এক অনন্য আকর্ষণ। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ি ঝর্ণাগুলো প্রাণ ফিরে পায়, যা ভ্রমণপ্রেমীদের জন্য বাড়তি আনন্দ বয়ে আনে। পাশাপাশি পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জীবনধারা, নৃত্য-সংগীত ও ঐতিহ্যবাহী পোশাক পর্যটনের নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। ভারতের মেঘালয় রাজ্যের গারো হিল জেলা এবং ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার সীমান্ত ঘেঁষা গোবরাকুড়া-কড়ইতলী স্থলবন্দর এলাকা রাজধানী ঢাকা থেকে মাত্র ১৬৫ কিলোমিটার দূরে হওয়ায় যোগাযোগ সুবিধাও এখানে একটি বড় সম্ভাবনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

Shamol Bangla Ads

বক্তারা বলেন, ময়মনসিংহ অঞ্চলে ইতোমধ্যে প্রায় ১৪২টি পর্যটন স্পট চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য—শশী লজ, আলেকজান্ডার ক্যাসেল, গারো পাহাড়, চীনা মাটির পাহাড় ও নীল পানির লেক, বড়বিলা জলমহাল, রাবার বাগান, কুমির খামার, অর্কিড বাগান, ত্রিশালে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্মৃতিবিজড়িত স্থান, শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন পার্ক এবং বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। এছাড়া নেত্রকোনার বিরিশিরি ও সুসং দুর্গাপুর, শেরপুরের গজনী অবকাশ কেন্দ্র এবং জামালপুরের লাউচাপড়া ও লুইস ভিলেজসহ পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতেও রয়েছে অসংখ্য পর্যটন সম্ভাবনাময় স্থান।

সেমিনারে অংশগ্রহণকারীরা জোর দিয়ে বলেন, পর্যটন শিল্পের টেকসই বিকাশ নিশ্চিত করতে হলে প্রয়োজন নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার, উন্নত সড়ক যোগাযোগ, আধুনিক অবকাশ কেন্দ্র, ওয়াশ ব্লক, পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা গেলে স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং অর্থনীতিতে আসবে নতুন গতি।

প্রধান অতিথি বিভাগীয় কমিশনার ফারাহ শাম্মী আরও বলেন, “পর্যটন খাতের উন্নয়ন ঘটলে পরিবহন, বাণিজ্য, অবকাঠামোসহ নানা খাতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। দেশের অর্থ দেশের মধ্যেই আবর্তিত হবে, যা জাতীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে।”

সেমিনারে ময়মনসিংহ রেঞ্জের ডিআইজি কার্যালয়ের প্রতিনিধি, বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ের প্রশাসনের কর্মকর্তারা, চার জেলার জেলা প্রশাসক, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিনিধিসহ প্রায় অর্ধশতাধিক অংশগ্রহণকারী উপস্থিত ছিলেন।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সমন্বিত পরিকল্পনা ও কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর ময়মনসিংহ অঞ্চল খুব শিগগিরই দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে।

Need Ads

সর্বশেষ - ব্রেকিং নিউজ

Shamol Bangla Ads
error: কপি হবে না!