বৈশাখ, তুমি এক অনন্য বিভা
এক স্বতন্ত্র অধ্যায়।
তুমি একুশের নিস্তব্ধ প্রহর কিংবা থার্টি-ফার্স্টের যান্ত্রিক কোলাহল নও;
তুমি তো সূর্যোদয়ের আগে সেই স্নিগ্ধ লগ্ন
যাতে মিশে থাকে অবারিত মাঠ আর দিগন্তছোঁয়া ঘাসের ঘ্রাণ।

অথচ আজ তোমার অবয়বে কেন এই নাগরিক প্রলেপ?
একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জে তুমি কি তবে ক্রমশ ‘পশ্চিমমুখো’?
সংশয় জাগে— তুমি কি কেবলই বিত্তবানের ঝলমলে মঞ্চের সজ্জা?
নাকি তুমি আজও মিশে আছ সেই মেহনতি মানুষের ললাটে?
যেখানে পান্তা-উৎসবের মোড়কে চলে কৃত্রিম আনন্দ-বিলাস,
সেখানে একদল মানুষ অগ্নিস্নানে পুড়ে কাঁপে আগামীর আশঙ্কায়;
যাদের কাছে নবজীবন মানেই হলো প্রখর রৌদ্রের তীব্র রক্তচক্ষু।
তবুও তোমাকে বরণ করাই বাঙালির শ্বাসত মাঙ্গলিক পাঠ;
‘ধন ধান্যে পুষ্পে ভরা’ এক বাসন্তী পৃথিবীর স্বপ্ন দেখা।
এই গুমোট আঁধার চিরে আমরা আলোক খুঁজি তোমার ভেতরেই।

তুমি কেবল দিনপঞ্জির বদল নও –
তুমি হয়ে ওঠো শ্রেণি-বিদ্বেষহীন এক সার্বজনীন আশ্রয়
ধর্ম, বর্ণ আর বৈষম্যের ঊর্ধ্বে এক চিরকালীন সম্প্রীতির হাতিয়ার।




