বাগেরহাটের রামপালে নৌবাহিনীর বাস ও মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছেন। ১২ মার্চ বৃহস্পতিবার বিকেল চারটার দিকে উপজেলার বেলাইব্রিজ এলাকায় খুলনা-মোংলা মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা সুকান্ত কুমার পাল ও খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার মেহেনাজ মোশাররফ।

নিহতরা হলেন সাব্বির (৩০), নববধূ (সাব্বিরের স্ত্রী) মারজিয়া আক্তার মিতু (২৫), মিতুর নানী আনোয়ারা (৭০), বোন লামিয়া (১২), সাব্বিরের বাবা আব্দুর রাজ্জাক (৭০), মা আঞ্জুমান বেগম (৬০), ভাবি পুতুল (৩৫), আলিফ (১২) ঐশি (৩০), সামিউল, ইরাম, মাইক্রোবাসের চালক নাঈম (৩০) ও অজ্ঞাত একজন। নিহতদের মধ্যে চারজনের মরদেহ রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং ৯ জনের মরদেহ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রয়েছে। আহতদের খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নিহত ব্যক্তিদের সবাই মাইক্রোবাসের যাত্রী বলে জানিয়েছেন বাগেরহাটের কাটাখালী হাইওয়ে থানার ওসি জাফর আহমেদ।
প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন জানান, মোংলা থেকে ছেড়ে আসা নৌবাহিনীর একটি বাস বেলাইব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা মোংলাগামী মাইক্রোবাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে উভয় গাড়ির সামনের অংশ দুমড়েমুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই কয়েকজন নিহত হন। আহত ব্যক্তিদের অবস্থা গুরুতর।

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক মেহেনাজ মোশাররফ বলেন, সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত হাসপাতালে আটজনের মরদেহ এসেছে। এর মধ্যে তিনজন শিশু, তিনজন নারী আর দুজন পুরুষ। আরেকজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। তিনিও মারা গেছেন।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে ওসি জাফর আহমেদ গণমাধ্যমকে বলেন, বাসটি মোংলা থেকে ছেড়ে এসেছিল। আর মাইক্রোবাসটি খুলনা থেকে মোংলায় যাচ্ছিল। বেলাই ব্রিজের কাছে দুই গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। তাতে তিন নারীসহ মাইক্রোবাসের চারজন ঘটনাস্থলেই মারা যান। স্থানীয় লোকজন এসে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।




