ads

বৃহস্পতিবার , ১ জানুয়ারি ২০২৬ | ১০ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  1. ENGLISH
  2. অনিয়ম-দুর্নীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আমাদের ব্লগ
  6. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  7. ইসলাম
  8. উন্নয়ন-অগ্রগতি
  9. এক্সক্লুসিভ
  10. কৃষি ও কৃষক
  11. ক্রাইম
  12. খেলাধুলা
  13. খেলার খবর
  14. চাকরির খবর
  15. জাতীয় সংবাদ

পবিত্র কোরআন হাতে মেয়র হিসেবে শপথ গ্রহণ করলেন মামদানি

শ্যামলবাংলা ডেস্ক
জানুয়ারি ১, ২০২৬ ২:৪৮ অপরাহ্ণ

যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম শহর নিউ ইয়র্কের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে আনুষ্ঠানিকভাবে মেয়র হিসেবে শপথ নিয়েছেন জোহরান মামদানি। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) নতুন বছরের প্রথম প্রহরে ম্যানহাটনের একটি পরিত্যক্ত ঐতিহাসিক সাবওয়ে স্টেশনে পবিত্র কোরআন হাতে তিনি এই শপথ গ্রহণ করেন।

Shamol Bangla Ads

এই শপথের মাধ্যমে ৩৪ বছর বয়সী মামদানি নিউ ইয়র্ক সিটির প্রথম মুসলিম এবং গত কয়েক প্রজন্মের মধ্যে কনিষ্ঠতম মেয়র হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করলেন। শপথ অনুষ্ঠানে তিনি পবিত্র কোরআনের ওপর হাত রেখে তার দাপ্তরিক অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। নিউ ইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিটিয়া জেমস তাকে এই ঐতিহাসিক শপথবাক্য পাঠ করান, যা শহরটির বৈচিত্র্যময় রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে এক অনন্য নজির স্থাপন করেছে।

শপথ গ্রহণের জন্য জোহরান মামদানি বেছে নিয়েছিলেন ১৯৪৫ সালে বন্ধ হয়ে যাওয়া ওল্ড সিটি হল সাবওয়ে স্টেশনটি, যা এর স্থাপত্যশৈলী এবং নান্দনিক সিলিংয়ের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। তার ট্রানজিশন টিমের মতে, এই স্টেশনটি নিউ ইয়র্কের সেই শ্রমজীবী মানুষের ঐতিহ্যের প্রতীক যারা প্রতিদিন শহরটিকে সচল রাখে।

Shamol Bangla Ads

মধ্যরাতের এই ঘরোয়া অনুষ্ঠানের পর দুপুর ১টায় সিটি হলের সিঁড়িতে একটি বড় ধরণের জনসমাবেশে তিনি পুনরায় শপথ নেবেন। সেখানে তার অন্যতম রাজনৈতিক আদর্শ ও মার্কিন সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স তাকে শপথবাক্য পাঠ করাবেন এবং কংগ্রেসওম্যান আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্তেজ উদ্বোধনী বক্তব্য রাখবেন। এরপর ব্রডওয়ের ‘ক্যানিয়ন অব হিরোস’-এ একটি বর্ণাঢ্য গণসংবর্ধনা ও ব্লক পার্টির আয়োজন করা হয়েছে।

উগান্ডার কাম্পালায় জন্মগ্রহণ করা জোহরান মামদানি বিখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা মীরা নায়ার এবং বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ মাহমুদ মামদানির সন্তান। তার পরিবার ১৯৯৯ সালে নিউ ইয়র্কে স্থায়ী হয় যখন জোহরানের বয়স ছিল মাত্র ৭ বছর। ২০১৮ সালে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব লাভ করেন।

নিজেকে একজন ডেমোক্র্যাটিক সমাজতন্ত্রী হিসেবে পরিচয় দেওয়া মামদানি তার নির্বাচনী প্রচারণায় ‘জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো’র ওপর বিশেষ জোর দিয়েছিলেন। তার ঘোষিত কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে বিনা মূল্যে বাস পরিষেবা চালু করা, প্রায় ১০ লাখ ভাড়াটিয়া পরিবারের জন্য বাড়ি ভাড়া বৃদ্ধি স্থগিত করা, সবার জন্য চাইল্ডকেয়ার নিশ্চিত করা এবং পরীক্ষামূলকভাবে নগর-পরিচালিত গ্রোসারি স্টোর চালু করা।

মেয়র হিসেবে মামদানির সামনে এখন যেমন বিশাল জনসমর্থন রয়েছে, তেমনি রয়েছে বড় ধরণের প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জও। বিশ্বের অন্যতম ব্যয়বহুল এই শহরের আবর্জনা ব্যবস্থাপনা, তুষারপাত নিয়ন্ত্রণ এবং সাবওয়ের দীর্ঘসূত্রতা দূর করার মতো মৌলিক সমস্যাগুলো সমাধানে তাকে কঠোর পরীক্ষার সম্মুখীন হতে হবে।

তার প্রগতিশীল নীতিগুলো কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়, সেদিকে কেবল নিউ ইয়র্কবাসীই নয়, বরং পুরো যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক মহল গভীর নজর রাখছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো প্রভাবশালী নেতাদের সাথে তার রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও, শহরের সামগ্রিক উন্নয়নের স্বার্থে তিনি কতটা সমন্বয় করতে পারেন, সেটিই এখন দেখার বিষয়। সূত্র: আল জাজিরা

Need Ads
error: কপি হবে না!