বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার চিকিৎসা সহায়তায় যুক্তরাজ্য থেকে নতুন একটি বিশেষজ্ঞ দল ঢাকায় পৌঁছেছেন। ৩ ডিসেম্বর বুধবার সকাল ১০টা ২০ মিনিটে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক রিচার্ড বিয়েল হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছেন। ঢাকায় নেমে তিনি রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চলে যান যেখানে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর চিকিৎসা চলছে। বিএনপি চেয়ারপারসনের মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবীর খান ওই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

জানা যায়, বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার অবস্থা এখনও সংকটজনক। তবে তিনি চিকিৎসায় সাড়া দিচ্ছেন। তাঁর স্বাস্থ্যের বিভিন্ন প্যারামিটারও আগের চেয়ে ভালো আসছে। যদিও আরও ভালো চিকিৎসার জন্য তাঁকে দেশের বাইরে নিয়ে যাওয়ার মতো উন্নতি এখনও হয়নি। খালেদা জিয়াকে বিদেশে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে তাঁর শারীরিক অবস্থা ও মেডিকেল বোর্ডের সিদ্ধান্তের ওপর।
এর আগে গত জানুয়ারিতে উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডনে গিয়েছিলেন খালেদা জিয়া। সেখানে প্রথমে হাসপাতালে এবং পরে ছেলে তারেক রহমানের বাসায় থেকে চিকিৎসা নিয়েছিলেন খালেদা জিয়া। প্রায় চার মাস লন্ডনে অবস্থানের পর গত ৬ মে তিনি দেশে ফেরেন।

এভারকেয়ার হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) খালেদা জিয়ার চিকিৎসা চলছে। মঙ্গলবার দুপুরে এ হাসপাতালের সামনে সংবাদ সম্মেলনে খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, খালেদা জিয়াকে বিদেশে নেওয়ার জন্য বিএনপির সব প্রস্তুতি রয়েছে। তবে বর্তমান অবস্থা ও মেডিকেল বোর্ডের বাইরে কিছু করার সুযোগ নেই। যুক্তরাজ্য থেকে তাঁকে (খালেদা জিয়া) দেখার জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক আসবেন। তারা দেখার পর তিনি যদি বাইরে যাওয়ার মতো অবস্থায় আসেন এবং যদি মেডিকেল বোর্ড মনে করে, তখন তাঁকে যথাযথভাবে চিকিৎসার জন্য বাইরে নিয়ে যাওয়া হবে।
চিকিৎসক দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন তালুকদার। চিকিৎসায় যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের কয়েকজন বিশেষজ্ঞ অনলাইনে এবং সরাসরি যুক্ত আছেন।
এদিকে মঙ্গলবার রাতে চীনের একটি নতুন বিশেষজ্ঞ দল ঢাকায় পৌঁছেছে। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে গতকাল তাঁর সরকারি বাসভবন যমুনায় উপদেষ্টা পরিষদের বিশেষ সভায় খালেদা জিয়ার আশু রোগমুক্তি কামনা করে দোয়া ও প্রার্থনা করা হয়।
বিশেষ নিরাপত্তায় এসএসএফ
সরকার খালেদা জিয়াকে ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি (ভিভিআইপি)’ ঘোষণা করার পর গতকাল দুপুর ২টা ২০ মিনিটে এভারকেয়ার হাসপাতালের ভেতরে দায়িত্ব নেয় স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ)। বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী আইন, ২০২১ অনুযায়ী তাঁকে এসএসএফ সুরক্ষা দেওয়া হচ্ছে। এসএসএফ দায়িত্ব নেওয়ার পর হাসপাতালের লবি, চত্বর ও কেবিন এলাকার নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।




