টস হেরে ফিল্ডিং করতে নেমে কামব্যাকের দুর্দান্ত গল্প লিখল বাংলাদেশ দল। এক পর্যায়ে উড়তে থাকা ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলকে বেশি দূর যেতে দিল না লিটন কুমার দাসের দল। মাঝে মাত্র ১২ রানের মধ্যে ৫ উইকেট নিয়েছিল বাংলাদেশ।

চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লা. লে. মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে আগে ব্যাট করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সংগ্রহ ৯ উইকেটে ১৪৯ রান। ম্যাচ জিতে সমতা ফেরাতে বাংলাদেশের সামনে তাই লক্ষ্য খুব একটা বড় নয়।
অথচ আলিক আথানেজ ও শাই হোপের শতরানের জুটিতে এক পর্যায়ে ১১ ওভারে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সংগ্রহ ছিল ১ উইকেটে ১০৫। সেখান থেকে পরের ৯ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে মাত্র ৪৪ রান করতে পারে সফরকারীরা। ১২ থেকে ১৫ ওভার পর্যন্ত মাত্র ১৪ রান খরচ করে ৫ উইকেট নেয় বাংলাদেশ। যেখানে ১ উইকেটে ১০৬ থেকে ৬ উইকেটে ১১৮ রানে পরিণত হয় ক্যারিবিয়ানরা। অর্থাৎ মাত্র ১২ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ফেলে তারা। সেখান থেকে আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তাই দুইশ রানের সম্ভাবনা জাগিয়েও শেষ পর্যন্ত দেড়শও হয়নি তাদের।

ম্যাচের প্রথম বলে তানজিম হাসান সাকিবের বলে ব্র্যান্ডন কিংয়ের ক্যাচ ছেড়ে দিয়েছিলেন লিটন। তবে কিংকে টিকতে দেননি তাসকিন আহমেদ। দ্বিতীয় ওভারেই ক্যাচ আউট হয়ে যান ৪ বলে ১ রান করা ক্যারিবিয়ান ওপেনার। এরপর শুরু হয় হোপ ও আথানেজের তাণ্ডব। দুজন মিলে ১১তম ওভারে উইন্ডিজের একশ পূর্ণ করে দেন। মাত্র ৩০ বলে ক্যারিয়ারের প্রথম ফিফটি করেন আথানেজ। হোপের অষ্টম ফিফটিও আসে ঠিক ৩০ বলেই।
১২তম ওভারে আথানেজকে ফিরিয়ে ১০৫ রানের জুটি ভাঙেন নাসুম আহমেদ। পরের বলে শেরফান রাদারফোর্ডকেও বোল্ড করেন বাঁহাতি স্পিনার। তবে হ্যাটট্রিক তিনি করতে পারেননি। পরের ওভারে আরেক সেট ব্যাটার শাই হোপকে ফিরিয়ে ক্যারিবিয়ানদের চাপে ফেলে দেন মোস্তাফিজ। এরপর যোগ দেন রিশাদ। ১৫তম ওভারে চার বলের মধ্যে ফিরে যান ভম্যান পাওয়েল ও জেসন হোল্ডার।
সপ্তম উইকেটে প্রতিরোধ গড়েন রোমারিও শেফার্ড ও রস্টোন চেজ। তবে রানের গতি তারা বাড়াতে ব্যর্থ হন। ২৬ রানের জুটি গড়তে তারা দুজন খেলেন ২৭ বল।ইনিংসের শেষ ওভারে পরপর দুই বলে শেফার্ড ও খ্যারি পিয়েরেকে আউট করেন মোস্তাফিজ। তিনিও হ্যাটট্রিক করতে পারেননি। সব মিলিয়ে শেষ ৬ ওভারে মাত্র দুইটি বাউন্ডারি মারতে পারে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ৪ ওভারে মাত্র ২১ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন মোস্তাফিজ। নাসুম আহমেদ ও রিশাদ হোসেনের শিকার ২টি করে উইকেট। সাফল্য না পেলেও ৪ ওভারে মাত্র ২৩ রান দেন সাকিব।




