এশিয়া কাপের গায়ে গায়ে আফগানিস্তানের সঙ্গে কেন এই সিরিজ? এর গুরুত্বই বা কতটা? সমর্থকদের কৌতূহল রয়েছে প্রশ্ন দুটি ঘিরে। প্রথমত, এফটিপির সূচি অনুযায়ী আফগানিস্তানের হোম ভেন্যু আরব আমিরাতে এই সিরিজ খেলতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। দ্বিতীয়ত, তিন ম্যাচের এই সিরিজের গুরুত্বও অনেক। ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপ খেলতে হলে বাংলাদেশকে র্যাঙ্কিংয়ে ৯-এর মধ্যে থাকতেই হবে। সে ক্ষেত্রে আফগানিস্তানের বিপক্ষে চলমান এই সিরিজ ৩-০ ব্যবধানে জিতলে ১০ থেকে ৯ নম্বরে যাওয়ার সম্ভাবনা ছিল মেহেদী হাসান মিরাজদের।

প্রথম ম্যাচটি হেরে যাওয়ায় আপাতত সে সুযোগ হাতছাড়া হয়েছে। আজ তাদের সামনে সিরিজ বাঁচানোর চ্যালেঞ্জ। এই সিরিজের বাকি দুই ম্যাচের সঙ্গে ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে তিনটি ম্যাচ জিতলে র্যাঙ্কিংয়ের ৮ নম্বরে যাওয়ার সুযোগ থাকবে।
আফগানদের সঙ্গে টি২০ সিরিজ জিতলেও ওয়ানডে ফরম্যাটে বরাবরই চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে বাংলাদেশ। দুই দলের সর্বশেষ সিরিজের দুটিতেই জিতেছে আফগানরা। সেখানে আজ সিরিজ বাঁচানোর ম্যাচে বোলিং স্কোয়াডে একটা পরিবর্তনের ইঙ্গিত রয়েছে। লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেনকে দেখা যেতে পারে আজকের একাদশে। তাসকিনের বদলে মুস্তাফিজও থাকতে পারেন এই ম্যাচে। যদিও এই ফরম্যাটে গত এক বছরের মাত্র দুটি ম্যাচ জিতেছে মিরাজরা, সেখানে দলের কম্বিনেশন ঠিক করারও একটা চ্যালেঞ্জ থাকছে অধিনায়ক মিরাজের ওপর।

আগের ম্যাচে তিনি রান পেলেও ব্যাটিং ছিল শ্লথ। সেদিন পুরো ম্যাচে ১৬৮টি বল ডট খেলেছিল বাংলাদেশ, শতকরা ৫৭.৩৪; যেখানে আবুধাবির এই মাঠে গত পাঁচ বছরে ওয়ানডেতে গড় ইনিংস ২৭৬, সেখানে আড়াইশর কাছাকাছি না গেলে ম্যাচ জেতাটা কঠিন। আজকের ম্যাচে সেই ভাবনা থেকেই ব্যাটসম্যানদের রান করতে হবে।
টপ অর্ডারে নাজমুল হোসেন শান্তর ওপর অনেক কিছু নির্ভর করছে। সেই সঙ্গে মিডল অর্ডারে মেহেদী মিরাজ এবং তাওহিদ হৃদয়কেও পরিস্থিতি বুঝে ব্যাটিং করতে হবে। সেদিন আফগান স্পিনার রশিদ খানের গুগলির কাছে ২২১ রানে গুটিয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ দল। আজকের ম্যাচেও আফগানরা চার স্পিনার নিয়েই ছক করার ইঙ্গিত দিয়েছে। সেই ক্ষেত্রে রশিদ খানকে সামলানোর কৌশলও কাজে লাগতে হবে জাকের-সোহানদের।
আসলে এই মুহূর্তে সাত নম্বরে রয়েছে আফগানিস্তান, ৯-এ ওয়েস্ট ইন্ডিজ আর দশে বাংলাদেশ। সেখানে ২০২৭ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত র্যাঙ্কিংয়ের অবস্থান বিবেচনা করা হবে বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার যোগ্যতা অর্জনের জন্য। আফগানিস্তানের সঙ্গে এখন মিরাজরা ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জিতলেও ৯ নম্বরে আসতে পারবে না।
তবে রেটিং পয়েন্ট ৭৭ থেকে ৮০ হবে। যদি সিরিজটি ২-১ ব্যবধানে হেরে যায় বাংলাদেশ তাহলেও রেটিং পয়েন্ট ৭৭-ই থাকবে। আফগানদের কাছে হোয়াইটওয়াশ হলে রেটিং পয়েন্ট ৭৪-এ চলে আসবে। এ অবস্থায় আফগানদের সঙ্গে সিরিজ জয়ের আশা ছাড়েননি অধিনায়ক মিরাজ। ‘সিরিজে এখনও দুটি ম্যাচ বাকি আছে। আশা করি, প্রথম ম্যাচের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে আমরা ঘুরে দাঁড়াতে পারব।’




