ময়মনসিংহের ধোবাউড়া ও হালুয়াঘাট সীমান্ত দিয়ে ২২ জনকে পুশ ইন করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। ২২ জন ব্যাক্তিকেই ভারতের গুজরাট হতে আটক করা হয়েছিল। ৩ জুন সোমবার দিনগত রাত ৩টার দিকে তাদের পুশ ইন করা হয়। এরমধ্যে ধোবাউড়া সীমান্তের মুন্সিপাড়া পয়েন্ট দিয়ে দুই পরিবারের নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ১২ জনকে এবং হালুয়াঘাট সীমান্ত দিয়ে ১০ জনকে পুশ ইন করা হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বিজিবি সেক্টর কমান্ডার কর্ণেল সরকার মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান, পিবিজিএমএস, পিএসসি জানান, রাতের আধারপ এভাবে পুশ ইন করা ঠিক হয়নি। এ বিষয়টি বিএসএফকে প্রতিবাদ জানিয়ে চিঠি দেয়া হয়েছে। ওদের আমরা বলেছি বাংলাদেশের নাগরিক হলে ওরা নিয়ম অনুসারে আমাদের কাছে চিঠি দিতে পারে। আমরা তদন্ত করে দেখব, বাংলাদেশের নাগরিক নিশ্চিত হলে আমরা তাদের গ্রহণ করতে পারি। কিন্তু এভাবে পুশইন করা মোটেই উচিত নয়। তিনি আরও জানান, পুশ ইন রুখতে আমরা আরো কড়াকড়ি ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি।
ময়মনসিংহ-৩৯ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ব্যাটালিয়নের নায়েক মো. ইজ্জত আলী বলেন, রাত ৩টার দিকে হালুয়াঘাটের সূর্যপুর ক্যাম্পের সীমান্ত এলাকা দিয়ে ১০ জনকে পুশ ইন করে বিএসএফ। এসময় বিজিবির নজরে এলে তাদেরকে হেফাজতে নেয়। তাদের হালুয়াঘাট থানায় হস্তান্তর প্রক্রিয়াধীন।

ধোবাউড়া সীমান্তের মুন্সিপাড়া বিজিবি ক্যাম্প সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাত ৩টার দিকে ১১৪১ এর ৮ এস পিলার মুন্সিপাড়া বিওপি এলাকায় ১২ জনকে পুশ ইন করা হয়। পরে মুন্সিপাড়া এলাকা থেকে তাদের আটক করে বিজিবি। আটকদের মধ্যে তিনজন নারী, আটজন পুরুষ ও একজন শিশু রয়েছে। তাদের মধ্যে বাংলাদেশের খুলনার এক পরিবারের ৮ জন ও নড়াইলের এক পরিবারের ৪ জন রয়েছে।
জানা যায়, ২০০৪ সালে দালালের মাধ্যমে বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে ভারতে চলে যান তারা। গুজরাটে তারা বিভিন্ন দোকানে কাজ ও ব্যবসা-বাণিজ্য করতেন। একপর্যায়ে ভারতীয় নাগরিকত্বও পান। তবে হুট করে অভিযান চালিয়ে বস্তি ও বিভিন্ন দোকান থেকে তাদের আটক করে গুজরাট পুলিশ। কিছুদিন আটকে রেখে সোমবার রাতে মুন্সিপাড়া বিওপি এলাকায় দিয়ে তাদের পুশ ইন করা হয়।




