শেরপুরের নকলায় উপজেলা প্রশাসকের গোপনীয় সহকারি আইনুল নাঈম পানেলের বিরুদ্ধে নারীঘটিত অনৈতিক কাজ এবং ছাত্রদলনেতা আসাদ ও রাজুর বিরুদ্ধে পানেলকে ছিনিয়ে নিতে তাঁদেরকে ধাক্কা মেরে ফেলে দেওয়া ও ধস্তাধস্তির অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছে নকলা উপজেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধিগণ।

২১ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টায় উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে ওই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দীপ জন মিত্র, জুলাই গণঅভ্যুত্থান বিষয়ক বিশেষ সেল এর মুখ্য সংগঠক মোর্শেদ জিতু, সংগঠক আরাফাত রহমান, নকলা উপজেলা বৈষম্যবিরোধী বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধি রাইয়্যান আল মাহাদী অনন্ত, এসএম মাসুমসহ জেলার নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় সাংবাদিকগণ উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে রাইয়্যান আল মাহাদি অনন্ত জানান, আমরা ২০ ফেব্রুয়ারি রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে স্থানীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। হঠাৎ একজন ফোন করে জানায়, উপজেলা পরিষদ ভবনের ভিতরে দু’জন লোক অবস্থান করছেন। খবর পেয়ে ভবনের কাছাকাছি গিয়ে ২য় তলার একটি কক্ষে বৈদ্যুতিক বাতি জ্বলতে দেখে ইউএনওকে ফোন করে জিজ্ঞাসা করি রাতের বেলায় অফিসে কোন কর্মকর্তা থাকেন বা কেউ অফিসিয়াল কাজ করছেন কিনা। তখন ইউএনও আমাদেরকে জানান অফিসে কেউ থাকেননা এবং এত রাতে অফিসে কোন কর্মকর্তার কাজ করার কথা না। তখন আমাদের সন্দেহ হলে কয়েকজন মিলে উপজেলা পরিষদ ভবনের প্রধান ফটকের কাছে গিয়ে মুখে মাস্ক পরিহিত একজন মেয়েকে দেখতে পাই। পরে ভিতরে ঢুকে খুঁজাখুঁজি করে কাউকে না পেয়ে আমাদের কয়েকজন সহকর্মীকে সেখানে রেখে বাকী সবাই রাত ১১টা ৫৫ মিনিটের সময় পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে স্থানীয় শহীদ মিনারে দিকে চলে যাই। যাওয়ার সময় পরিষদ এলাকায় গোপনীয় সহকারি পানেলের স্ত্রীকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখি।

শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে রাত ১২টা ৪৫ মিনিটের দিকে আবার উপজেলা পরিষদ এলাকায় এসে পানেলের স্ত্রীকে একই জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে আমাদের সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়। এরমধ্যে হঠাৎ করে উপজেলা পরিষদ ভবনের দ্বিতীয় তলার এপাশ থেকে ওপাশের বাথরুমের দিকে একজনকে দৌড়ে যেতে দেখি। তখন প্রধান ফটকের কাছে এসে দেখি একজন বাউন্ডারি টপকে উপজেলা কৃষি অফিসারের কার্যালয়ের পেছন দিয়ে দৌড়ে পালাচ্ছে। তখন আমরাো তার পিছু নিয়ে তাকে ধরে ফেলে দেখি তিনি উপজেলা প্রশাসকের গোপনীয় সহকারি আইনুল নাঈম পানেল। তবে তার (পানেলের) সাথে পরিষদ ভবনে ভিতরে যে মেয়েটি ছিল আমাদের উপস্থিতির কারণে সে আগেই পালাতে সক্ষম হলেও আটকে গিয়েছিল পানেল। পরে জিজ্ঞাসাবাদে পানেল কোন সদুত্তোর দিতে না পারায় আমরা তাকে পরিষদ ভবনে নিয়ে আসি। তখন স্থানীয় ছাত্রদল নেতা আসাদ ও রাজুসহ ৪/৫ জন মিলে আমাদেরকে ধাক্কা মেরে ফেলে দেয় এবং আমাদের সাথে ধস্তাধস্তি করে পানেলকে ছিনিয়ে নিয়ে মোটর সাইকেলে চলে যায়।
সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা পরিষদ ভবনের সিসি টিভি’র ফুটেজ দেখে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের কাছে সুবিচার প্রার্থনা করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধিগণ।
উপজেলা পরিষদের নৈশপ্রহরী নয়ন মিয়া জানান, রাতের বেলা দু’জন লোক উপজেলা পরিষদ ভবনে ঢুকে আমাকে মারধর করেছে। আমি তাদেরকে চিনি না।
উপজেলা প্রশাসকের গোপনীয় সহকারি পানেল জানান, ২১ ফেব্রুয়ারি একটি বিশেষ দিন। ২০ ফেব্রুয়ারি রাতের বেলা শহিদ মিনারে ফুল দেওয়া হবে। আমি উপজেলা পরিষদ ভবনে সরকারি কাজ করছিলাম। হঠাৎ বাহিরে হট্টগোলসহ চোর চোর শব্দ শুনতে পাই। তখন কে যেন ভবনের দেওয়াল টপকে বাহিরে যাচ্ছে দেখতে পেয়ে আমি তার পিছু নেই। কিন্তু ততক্ষণে সে পালিয়ে যায়। তখন ছাত্ররা আমাকে পরিষদে নিয়ে এলে সেখান থেকে কয়েকজনের সাথে আমি বাসায় চলে যাই।
ছাত্রদল নেতা আসাদ জানান, রাতের বেলা উপজেলা পরিষদ এলাকায় হট্টগোলের কথা শুনে আমরা সেখানে যাই এবং উপজেলা পরিষদ ভবনের ভিতরে অপরিচিত একটি মেয়েকে দেখতে পাই। সেখানে মেয়ের সাথে অন্য কাউকে দেখিনি। পরে আমরা পরিষদ থেকে পানেলকে সাথে নিয়ে চলে আসি। তবে আমরা কাউকে ধাক্কা দেইনি বা কারও সাথে ধস্তাধস্তি করিনি। কেউ যদি আমাদের উপর এমন অভিযোগ এনে থাকে তাহলে সেটা মিথ্যা। আমাদের ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য এসব বলা হচ্ছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দীপ জন মিত্র জানান, ঘটনাটি আমি শুনেছি। এখন পর্যন্ত কোন লিখিত অভিযোগ পাইনি। তবে তদন্ত করে যদি এই ঘটনার সাথে গোপনীয় সহকারি পানেলের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগের সত্যতা মিলে তাহলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমি ইতিমধ্যে বিষয়টি উর্ধতন কর্মকর্তাদের জানিয়েছি।




