চোট থেকে ওঠার পর আইপিএলটা বেশ খারাপ গেছে আনরিখ নরখিয়ার। এপ্রিলের শুরুতে মুম্বাইয়ের বিপক্ষে ৪ ওভারে ৬৫ রান দিয়েছেন দিল্লির হয়ে খেলতে নেমে। তাই অনেকেই ভেবেছিলেন, আগের সেই ধার বুঝি হারিয়ে ফেলেছেন তিনি। তবে বিশ্বকাপের শুরুতেই দেখা মিলল সেই পুরোনো নরখিয়ার। আগুনে বোলিংয়ে শ্রীলঙ্কাকে মাত্র ৭৭ রানে গুটিয়ে দিয়েছেন প্রোটিয়া এ পেসার। তবে ছোট এ টার্গেট টপকাতেই ঘাম ছুটেছে দক্ষিণ আফ্রিকার। শেষ পর্যন্ত ২২ বল হাতে রেখে ৬ উইকেটে ম্যাচ জিতে বিশ্বকাপ শুরু করেছে প্রোটিয়ারা।

বিশ্বকাপ সামনে রেখে মাত্র পাঁচ মাসে তৈরি হওয়া নাসাউ কাউন্টি ক্রিকেট স্টেডিয়ামে এটা প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ। এত অল্প সময়ে চমৎকার স্টেডিয়াম তৈরি করে আয়োজকরা চমক দেখালেও এই মাঠের ড্রপ ইন পিচ নিয়ে কৌতূহল ছিল সবার। এই কৌতূহল যে মোটেও অমূলক ছিল না, তা বুঝতে খুব একটা সময় লাগেনি। উইকেটের পেস ও বাউন্স দেখে মোটেও টি২০ ক্রিকেটের উপযুক্ত পিচ মনে হয়নি। এ ধরনের পিচে অস্ট্রেলিয়া-দক্ষিণ আফ্রিকায় সাধারণত টেস্ট হতে দেখা যায়। এই পেস উইকেটে নিজেদের টি২০ ইতিহাসে সর্বনিম্ন ৭৭ রানে অলআউট হলো শ্রীলঙ্কা। আগের সর্বনিম্ন স্কোর ছিল ৮২, ভারতের বিপক্ষে ২০১৬ সালে। এই রান তাড়া করতে নেমে প্রোটিয়ারাও স্বস্তি পায়নি। ২৩ রানে হেনড্রিকস ও মার্করামকে হারানোর পর তাদের রানের গতিতে ভাটা পড়ে। এর পর কুইন্টন ডি কক ও ত্রিস্তান স্টাবসকে আউট করে হাসারাঙ্গা বেশ উত্তেজনা ফিরিয়ে এনেছিলেন। তবে পেস উইকেটে অভ্যস্ত প্রোটিয়ারা ঠান্ডা মাথায় পরিস্থিতি সামাল দিয়ে জয় নিয়ে ফেরে। এ ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখেন মারকুটে ব্যাটিংয়ের জন্য পরিচিত হেনরিক ক্লাসেন।
শ্রীলঙ্কাকে লজ্জার রেকর্ডে ডোবাতে সবচেয়ে অবদান রাখেন নরখিয়া। ৩০ বছর বয়সী এ পেসার ৪ ওভারে ৭ রান দিয়ে ৪ উইকেট তুলে ক্যারিয়ারসেরা বোলিংয়ের নজির গড়েন। টি২০ বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষেও এটা সেরা বোলিং। আগের সেরাও নরখিয়াই ছিলেন। গত বিশ্বকাপে সিডনিতে বাংলাদেশের বিপক্ষে ১০ রানে ৪ উইকেট নিয়ে রেকর্ডটি গড়েছিলেন। গতকাল টসে জিতে ব্যাটিং করতে নেমে প্রথম ৩ ওভারে বিনা উইকেটে ১৩ রান তুলে নিয়েছিল শ্রীলঙ্কা।

তবে দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে দ্বিতীয় ম্যাচ খেলতে নামা বার্টম্যান বল হাতে নিয়েই পাথুম নিশাঙ্কাকে আউট করে ওপেনিং জুটি ভাঙেন। সেটা ছিল বিশ্বকাপে বার্টম্যানের প্রথম ডেলিভারি। নরখিয়াও আক্রমণে এসে উইকেট তুলে নেন। পরের ওভারে স্পিনার কেশভ মহারাজ পর পর দুই বলে হাসারাঙ্গা ও সামারাবিক্রমাকে ফিরিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা জাগিয়ে ছিলেন। হ্যাটট্রিক তিনি না পেলেও লঙ্কানদের বড় ধাক্কা দেন। এর পর নরখিয়ার তোপে পড়ে তারা। শেষ দিকে কাগিসু রাবাদা জোড়া শিকার করলে ১৯.১ ওভারে ৭৭ রানে গুটিয়ে যায় শ্রীলঙ্কা।




