শেরপুরে কৃষি বিভাগের আয়োজনে বিনামূল্যে আমন ধানের নতুন জাত ‘ব্রি ধান-৯৮’ এর বীজ বিতরণ ও কৃষকদের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২ এপ্রিল মঙ্গলবার দুপুরে সদর উপজেলার কামারেরচর ইউনিয়নের লতারিয়া গ্রামের আউশ আবাদ বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রায় ২শ কৃষকের মাঝে ওই ধানের বীজ বিতরণ উদ্বোধন করা হয়। লতারিয়া গ্রামের কৃষক জানে আলমের উঠানে ওই বীজ বিতরণ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত থেকে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা খামারবাড়ি মহাপরিচালক কৃষিবিদ বাদল চন্দ্র বিশ্বাস।

ওইসময় তিনি বলেন, দেশে আউশের ফলন বৃদ্ধি লক্ষ্যে আমাদের এ ‘ব্রি ধান-৯৮’ জাতের ধান উদ্ভাবন করা হয়েছে। এ ধান রোপনের ১২০ দিনের মধ্যে ফলন পাওয়া যায় এবং একরে ফলন হয় ৮০ মণেরও বেশি। তাই কৃষকদের মাঝে এই ধান চাষে আগ্রহ বাড়াতে কৃষকদের সাথে মতবিনিময়ের মাধ্যমে এ বিষয়ে বিস্তারিত উপস্থাপন করা হয়েছে। এই এলাকায় ২০০ কৃষকের মাঝে প্রায় ২০০ একর জমি আউশের আওতায় আনার টার্গেট করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক মো. এনায়েত উল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. মো. শাহজাহান কবীর ও জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ ড. সুকল্প দাস। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন কামারেরচর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. হাবিবুর রহমান হাবিব।

এদিকে এ ধানের বীজ পেয়ে স্থানীয় কৃষকরা জানান, কৃষি বিভাগের লোকজন আমাদেরকে এ ধান চাষে উদ্বুদ্ধ করেছে এবং এই ধান চাষে নানা সুফল ও লাভের কথা বলা হয়েছে। আমরাও আগ্রহ হয়ে ধানের বীজ নিলাম। এ সপ্তাহের মধ্যে এ ধানের বীজতলা তৈরি করা হবে। ফলন ভালো পেলে আমরা পরবর্তী বছরগুলোতেও এ জাতের আমন ধান চাষে আগ্রহ হবো।
ভুট্টা চাষীরা এ ধান রোপণে সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে বলে জানান কৃষকরা। কারণ বর্তমানে ভুট্টা ফলন উঠে গেছে এবং জমিও খালি পড়ে আছে। আবার যেসব জমিতে বোরো ধান রয়েছে তা উঠতে আরো এক থেকে দেড় মাস সময় লাগবে। তাই যারা ভুট্টার আবাদ করেছে তারা এই মুহূর্তে এই আমন ধানের চারা রোপন করতে পারবে।




