শেরপুরের শ্রীবরদীতে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণের ঘটনায় দায়ের করা মামলার আসামি মোহাম্মদ আলীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ২ মার্চ শনিবার রাতে অভিযান চালিয়ে উপজেলার কুরুয়া ভাটিপাড়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এদিকে শিশু সন্তান কোলে নিয়ে স্বামীর স্বীকৃতির দাবিতে ঘুরছে মা।

ধর্ষিতা ওই নারী জানান, উপজেলার কুড়িকাহনীয়া গ্রামের হতদরিদ্র পরিবারের ওই নারীর সাথে প্রতিবেশী গ্রামে এক যুবকের সাথে বিয়ে হয়। দাম্পত্য কলহের কারণে তাদের মধ্যে তালাক হয়। পরে সে ফিরে আসে বাপের বাড়িতে। এই সুযোগে বাড়িতে একাকী পেয়ে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে একই গ্রামের হাসমত আলীর ছেলে মোহাম্মদ আলী (২৭) দীর্ঘদিন তাকে ধর্ষণ করে। ফলে অন্তঃসত্ত্বা হয় ২৬ বছর বয়সের ওই নারী। এ খবর শুনে সে তাকে বিয়ে করতে অস্বীকার করে। পরে গত ৩১ ডিসেম্বর মোহাম্মদ আলীসহ দুইজনকে আসামি করে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। সম্প্রতি ওই নারীর গর্ভ থেকে জমজ সন্তান হয়। সন্তান জন্মের পর একটি সন্তান মারা যায়। আরেকটি ছেলে সন্তান কোলে নিয়ে পিতার স্বীকৃতির দাবিতে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন ওই নারী।
ওই নারী বলেন, মোহাম্মদ আলী আমাকে একজন মুন্সী দিয়ে বিয়ে পড়ায়। এরপর থেকে প্রায় ছয় মাস আমার সাথে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে। আমি অন্তঃসত্ত্বা হলে তাকে বিয়ে রেজিষ্ট্রি করার কথা বলি। কিন্তু সে ওই বিয়ে অস্বীকার করে। এমনকি রেজিষ্ট্রি করতে করতেও রাজী হয়নি। পরে আমি কোনো উপায় না পেয়ে থানায় মামলা দায়ের করি। আমি আমার সন্তানের বাবার স্বীকৃতি চাই।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ওই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. রাসেল মিয়া বলেন, বেশ কিছুদিন আসামী পলাতক ছিল। শনিবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে উপজেলার কুরুয়া ভাটিপাড়া এলাকা থেকে ওই মামলার প্রধান আসামি মোহাম্মদ আলীকে গ্রেফতার করা হয়। রবিবার দুপুরে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে শ্রীবরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাইয়ুম খান সিদ্দিকী বলেন, ভিকটিমের সন্তানের স্বীকৃতির ব্যাপারে ডিএনও পরীক্ষার জন্য প্রক্রিয়া চলছে। পরীক্ষার রিপোর্ট পেলে পরবর্তী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।




