আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে শেরপুরের নকলা উপজেলায় উপজেলা চেয়ারম্যান পদে নৌকা প্রতীক চান নকলা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এ্যাডভোকেট মাহবুবুল আলম সোহাগ। ১৭ জানুয়ারি বুধবার বিকেলে উপজেলা পরিষদের সামনে স্থানীয় সাংবাদিকদের সাথে মতবনিময়ককালে তিনি ওই আশাবাদ ব্যক্ত করেন। সোহাগ নকলা পৌরসভার কায়দা মহল্লার মরহুম আব্দুল লতিফের ছেলে। তিনি বর্তমানে নকলা পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি।

মতবিনিময় সভায় সোহাগ জানান, পুরো উপজেলাকে ঢেলে সাজানোর জন্য, উপজেলাবাসীর জীবন মানোন্নয়নের জন্য এক বছর সময় যথেষ্ট নয়। তারপরেও আমি সাধ্যমত চেষ্টা করেছি উপজেলাবাসীর পাশে থাকার জন্য। তবে এক বছরে আমি সকলের সহযোগিতায় নকলা উপজেলাকে বাল্যবিয়ে মুক্ত ঘোষণা করতে পেরেছি এবং নকলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সার্টিফিকেট বাণিজ্য বন্ধ করতে পেরেছি। আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দল যদি আমাকে নৌকা প্রতীক দিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ দেয় এবং আমি যদি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হতে পারি তাহলে আমি নকলাকে একটি মডেল উপজেলায় রূপান্তরিত করব। নকলাকে মাদকমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত করব। মানুষ যেন হয়রানি ছাড়া সরকারি সুযোগসুবিধা গ্রহণ করতে পারে, উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডগুলো যেন সঠিক নিয়মে পরিচালিত হয় সে লক্ষ্যে কাজ করব। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ বানিজ্য বন্ধ করব এবং শিক্ষার্থীদের জন্য মানসম্পন্ন শিক্ষার ব্যবস্থা করব। উপজেলাবাসির জীবন মানোন্নয়ন করব।
মতবিনিময় সভায় উপজেলায় কর্মরত প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকগণ উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, নকলা উপজেলা পরিষদের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান প্রয়াত মাহবুব আলী চৌধুরী ওরফে মনির চৌধুরীর মৃত্যুর পর নৌকা প্রতীক নিয়ে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী উপজেলা পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান শাহ মো. বোরহান উদ্দিনকে হারিয়ে ২০১৮ সালে এক বছরের জন্য উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন সোহাগ। কিন্তু পরবর্তী নির্বাচনে সোহাগকে নৌকা প্রতীক না দেওয়ায় তিনি দলীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গিয়ে নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া থেকে নিজেকে বিরত রাখেন। সেবার নৌকা প্রতীক দেওয়া হয় উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা শফিকুল জিন্নাহকে। কিন্তু তিনি নির্বাচনে পরাজিত হন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী উপজেলা পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান শাহ মো. বোরহান উদ্দিনের কাছে।




