বাংলাদেশ ও ভারতের বহুল কাঙ্ক্ষিত আখাউড়া-আগরতলা রেলপথ প্রকল্পের ট্রায়াল রান বা পরীক্ষামূলক ট্রেন চলাচল চলতি মাসেই হচ্ছে। মঙ্গলবার দুপুরে আখাউড়া-আগরতলা ডুয়েলগেজ রেলপথ প্রকল্পের পরিচালক (বাংলাদেশ অংশ) মো. আবু জাফর মিয়া এ কথা বলেন। এর আগে মো. আবু জাফর মিয়ার নেতৃত্বে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল গ্যাংকার যোগে প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেন। মঙ্গলবার সকালে রেলপথ প্রকল্প ট্রায়াল রান বা পরীক্ষামূলক ট্রেন চালানোর কথা থাকলেও অনিবার্য কারণবশত পরীক্ষামূলক ট্রেন চালানো হয়নি। তবে প্রথমবারের মতো গ্যাংকার যোগে প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে।
মো. আবু জাফর মিয়া সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা মূলত আজ আখাউড়া-আগরতলা রেলপথ প্রকল্প পরীক্ষামূলক ট্রায়াল করতে আসিনি। এ রেলপথ প্রকল্পের কাজটা কোন পর্যায়ে আছে তা দেখতে এসেছি।’ এ সময় তিনি বলেন, ‘ইতিমধ্যে প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি ৯৫ শতাংশের বেশি শেষ হয়েছে। আখাউড়া-আগরতলা রেলপথ প্রকল্পের রেললাইনের সর্বশেষ পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখার জন্য গঙ্গাসাগর রেলওয়ে স্টেশন থেকে বাংলাদেশের শূন্যরেখা পর্যন্ত ঘুরে দেখেছি। চলতি মাসের মধ্যেই দুই দেশের গুরুত্বপূর্ণ আখাউড়া-আগরতলা বহুল কাঙ্ক্ষিত রেলপথ প্রকল্পে পরীক্ষামূলক ট্রায়াল রান করা হবে।’

উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের চলমান পণ্য আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের পরিধি এই রেলপথে আরও বাড়বে বলে মনে করেন ব্যবসায়ীরা। সাশ্রয়ী মূল্যে পণ্য আমদানি-রপ্তানির সুফল মিলবে ভোক্তা পর্যায়েও।
আজ টেক্সমেকো রেল অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেডর কান্ট্রি হেড শরৎ শর্মা, টেক্সমেকো রেলওয়ে প্রজেক্টের এজিএম ভাস্কর বক্সি, আখাউড়া-আগরতলা প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী মেহেদী হাসান তারেক, ঊর্ধ্বতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম মনিরসহ আখাউড়া-আগরতলা রেলওয়ে প্রকল্পের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

রেলওয়ে সূত্র জানায়, ২০১৮ সালের জুলাইয়ে শুরু হওয়া আখাউড়া-আগরতলা ডুয়েলগেজ রেলপথ প্রকল্পের বাংলাদেশ অংশের নির্মাণকাজে ব্যয় হচ্ছে প্রায় ২৪১ কোটি টাকা। ভারতের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান টেক্সমেকো রেল অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড প্রকল্পের কাজ করেছে। আখাউড়ার গঙ্গাসাগর রেলস্টেশন থেকে শুরু হয়ে আগরতলার নিশ্চিন্তপুর গিয়ে মিশেছে এই রেলপথ। ইতিমধ্যে আখাউড়া-আগরতলা রেলপথের বাংলাদেশ অংশে সাড়ে ৬ কিলোমিটার রেললিংকিং তৈরি হয়ে গেছে।




