জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় উপনেতা জিএম কাদের বলেছেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসানীতি সমর্থন করে জাতীয় পার্টি। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন যাতে হয়, সেজন্য তারা একটা ব্যবস্থা নিয়েছে। এটা তাদের দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়, এটা তাদের অধিকার আছে। তারা যদি দেখে অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচনের বিপক্ষে কোন লোক কাজ করছে, তাদের বিরুদ্ধে তারা ব্যবস্থা নেবে। তাদের এই ভিসানীতি সুষ্ঠু নির্বাচনে সহায়ক হবে। তিনি ১৩ জুন মঙ্গলবার দুপুরে শেরপুর জেলা জাতীয় পার্টির ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে যোগ দিতে এসে স্থানীয় সার্কিট হাউজ মিলনায়তনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে ওইসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, বর্তমানে যেভাবে নির্বাচন হচ্ছে বা বর্তমান সরকারের অধীনে যে নির্বাচন হচ্ছে, তাদের কাছ থেকে কোনভাবেই অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আশা করা যায় না। এটার পরিবর্তন দরকার। তবে পরিবর্তনটা কিভাবে হবে, তা সব দল-মত সকলের সাথে কথা বলে একমত হতে হবে।
তিনি বলেন, বর্তমানে আমাদের শাসনপদ্ধতিতে প্রধানমন্ত্রীর হাতে দেশের একশভাগ ক্ষমতা ন্যস্ত রয়েছে। কাজেই মন্ত্রী পরিষদ সম্পূর্ণ পরিবর্তন হলেও খুব একটা গুণগত পরিবর্তন হবে না। বর্তমান শাসনব্যবস্থায় প্রধানমন্ত্রী যেখানে থাকবেন, সেরকম অবস্থায় চলতে থাকবে। ওই অবস্থায় জাতীয় পার্টি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সেটা পরিবেশ পরিস্থিতির উপর নির্ভর করবে। আমাদের নীতিনির্ধারণী যারা আছেন তাদের সাথে কথা বলে, দেশের মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব।

জিএম কাদের আরও বলেন, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ একটা নির্বাচন আমরা সবাই চাই। তবে নির্বাচন কিভাবে হবে এবং জাতীয় পার্টি কিভাবে নির্বাচনে অংশ নেবে এ বিষয়ে পরে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। আমরা দেশের মানুষের কল্যাণের জন্যই কাজ করছি। আগামী নির্বাচনে কীভাবে নির্বাচন করবো সেটা দলগতভাবে আলোচনা করে আমরা সিদ্ধান্ত নেবো। তবে আমরা ৩শ আসনেই নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি।
ওইসময় জিএম কাদেরের সাথে জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান এবিএম রহুল আমীন হাওলাদার, মহাসচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা মুজিবুল হক চুন্নু, প্রেসিডিয়াম সদস্য ফখরুল ইমাম এমপি ও কাজী ফিরোজ রশীদ এমপি, শেরপুর জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি ইলিয়াছ উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ শফিকুল ইসলাম ঠান্ডাসহ দলের কেন্দ্রীয় ও জেলা কমিটির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
পরে শহরের চকবাজারস্থ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শেরপুর জেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে যোগ দেন জিএম কাদের। এর আগে তিনি সার্কিট হাউজ পৌঁছালে তাকে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মনিরুল হাসান ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এ্যান্ড অপস) সোহেল মাহমুদের নেতৃত্বে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়।




