শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে খাস জমির দখল নিয়ে দ্বন্দ্বে প্রতিপক্ষের হামলায় ইমান আলী ফেকাসু (৪৭) নামে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যা করেছে প্রতিপক্ষরা। ৬ অক্টোবর বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলার কাংশা ইউনিয়নের কাংশা বাজারের রাস্তার পাশে ওই ঘটনা ঘটে। ইমান আলী ওই গ্রামের মৃত গোলাম মোস্তফার ছেলে। হামলায় ফেকাসুর ২ ভাই শামসুল মিয়া ও আব্দুল লতিফ আহত হয়েছে। তারা বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এদিকে এই ঘটনায় ৫ জনকে আটক করেছে পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত ফেকাসুর বিরুদ্ধে থানায় মাদক, চুরি, অস্ত্র ও বিস্ফোরক মামলাসহ অন্তত ৬টি মামলা রয়েছে। ঝিনাইগাতী উপজেলার কাংশা বাজারের একটি খাস জমির দখল নিয়ে স্থানীয় মো. জুব্বার ও মো. জলিলের পরিবারসহ বেশ কয়েকজনের সাথে ফেকাসুর দীর্ঘদিন ধরে মামলা-মোকদ্দমা ও শত্রুতা চলছিলো। সম্প্রতি জুব্বার ও জলিলের বিরুদ্ধে ফেকাসু তার মেয়েকে অপহরণের মামলা করে৷ বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ফেকাসু মোটরসাইকেলযোগে পার্শ্ববর্তী শ্রীবরদী উপজেলায় তার মেয়ের বাড়ি যাওয়ার পথে জুব্বার ও জলিলের পরিবারের সদস্যসহ কয়েকজন ফেকাসুর উপর হামলা করে৷
ওই সময় ফেকাসু দৌড়ে ধানক্ষেত দিয়ে পালাতে চাইলে সেখানে গিয়েই প্রতিপক্ষরা ধারালো দা, ফালা দিয়ে ফেকাসুর মাথা ও পায়ে কোপাতে ও কেচাতে থাকলে তার পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিবেশ নিয়ন্ত্রণে আনে এবং নিহত ফেকাসুর লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।

এদিকে খবর পেয়ে সহকারী পুলিশ সুপার (নালিতাবাড়ী সার্কেল) আফরোজা নাজনীন ও ঝিনাইগাতীর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনিরুল আলম ভুইয়া ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
কাংশা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আতাউর রহমান জানান, এই জায়গাটা নিয়ে বেশ কিছুদিন যাবত তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছিলো। তারই জের ধরে আজ এই ঘটনা ঘটেছে।
এ ব্যাপারে ঝিনাইগাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনিরুল আলম ভুইয়া জানান, ওই ঘটনায় ৫ জনকে আটক করা হয়েছে। একইসাথে ওই ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।




