শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার সীমান্তবর্তী নাকুগাঁও স্থলবন্দরের লোড-আনলোড শ্রমিকদের এক টাকা মজুরি বৃদ্ধির দাবি মেনে নেয়ায় কর্মবিরতি প্রত্যাহার করে নিয়েছেন শ্রমিকরা। ৩ সেপ্টেম্বর শনিবার বিকেলে নাকুগাঁও স্থলবন্দরের কার্যালয়ে নাকুগাঁও স্থলবন্দর আমদানি-রপ্তানীকারক সমিতি ও লোড-আনলোড শ্রমিক ইউনিয়নের যৌথ বৈঠকে ওই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

ওইসময় আমদানি রফতানিকারক সমিতির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান মুকুল, সাধারণ সম্পাদক অরুন চন্দ্র সরকার, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি ও নালিতাবাড়ী পৌরসভার মেয়র আবুবকর সিদ্দিক, যুবলীগের আহবায়ক জাহাঙ্গীর আলম, লোড আনলোড শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আলম মিয়া ও সাধারণ সম্পাদক সুজন মিয়াসহ শ্রমিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন ।
বৈঠক শেষে লোড-আনলোড শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আলম মিয়া জানান, শ্রমিকদের মজুরি সিএফটি প্রতি এক টাকা বৃদ্ধির দাবি মেনে নেওয়ায় আমরা কাজে ফিরেছি। এখন থেকে সিএফটি প্রতি চার টাকা করে পাবেন শ্রমিকরা।

নাকুগাঁও স্থলবন্দর আমদানি-রপ্তানীকারক সমিতির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান মুকুল বলেন, শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের মজুরি বাড়ানোর দাবিটি আমরা মেনে নিয়েছি। আমরা তাদের মেশিন ব্যবহার না করে শ্রমিক দিয়ে পাথর লোড-আনলোড করার শর্তে এই দাবি মেনেছি। মেশিন ব্যবহার করলে বন্দরের পাশাপাশি পাথরেরও ক্ষতি হয়। কারণ মেশিন ব্যবহার করলে শ্রমিক কম লাগে। ফলে অনেক শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েন। মেশিন ব্যবহার না করলে বন্দরে শ্রমিক বাড়বে, কাজও বাড়বে।
জানা গেছে, বন্দরে লোড-আনলোড কাজে যুক্ত আছে প্রায় এক হাজার শ্রমিক। এই শ্রমিকরা ভারতসহ বিভিন্ন দেশ থেকে থেকে আমদানি করা পণ্য গাড়িতে উঠানো-নামানোর কাজ করে থাকেন। গত ২৫ বছর ধরে প্রতি সিএফটি পণ্য লোড-আনলোড করতে তাদের মজুরি ছিলো তিন টাকা।
বতর্মান বাজারে সকল নিত্যপণ্যের দাম বাড়লেও শ্রমিকের মজুরি বাড়েনি। তাই বন্দরের শ্রমিকরা প্রতি সিএফটি পাথর লোড আনলোড করতে তিন টাকার স্থলে চার টাকা করার দাবি জানান। এই দাবিতে গত বৃহস্পতিবার থেকে নাকুগাঁও স্থলবন্দরে মানববন্ধন ও কর্মবিরতি শুরু করেন তারা।




