প্রতিষ্ঠার ৫২ বছর উদযাপন করেছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ। ১ এপ্রিল শুক্রবার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে হয়েছে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর উদ্বোধনী আয়োজন। ‘সমতার চেতনা প্রতিষ্ঠা করি, নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধে শক্তিশালী নেতৃত্ব গড়ে তুলি’ স্লোগানে এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম।

জাতীয় পতাকা ও সংগঠনের পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় উদ্বোধনী আনুষ্ঠানিকতা। এরপর জাতীয় সংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী শায়লা ইমাম কান্তা, বিপ্লবী কর্মকার ও সহশিল্পীরা। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা করেন সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু। শুভেচ্ছা বক্তৃতা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন ও অণুবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক হাসিনা খান, চিত্রশিল্পী অশোক কর্মকার, বাংলাদেশ উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক শাহানা জেফরীন। ঘোষণা পাঠ করেন সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সীমা মোসলেম।
আলোচনা শেষে পটগান পরিবেশন করে রূপান্তর থিয়েটার। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সাংগঠনিক সম্পাদক উম্মে সালমা বেগম। এরপর একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে রাজু ভাস্কর্যের সামনে গিয়ে শেষ হয়। পরে রাজু ভাস্কর্যের সামনে মোমবাতি প্রজ¦ালন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই উদ্বোধনী আয়োজনে আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃবৃন্দ, ঢাকা মহানগর, নারায়ণগঞ্জ ও সাভার জেলা শাখার বিভিন্ন পাড়া কমিটির সদস্যরা।

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু বলেন, স্বেচ্ছাসেবী এই নারী সংগঠনের ৫২ বছরের পদযাত্রা অত্যন্ত গৌরবের। নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়ার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে আমাদের পূর্বসূরিরা আমাদের পথ দেখিয়েছেন তারা এই গৌরবের অংশীদার।
অধ্যাপক হাসিনা খান বলেন, নারীর মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য মহিলা পরিষদ যে কাজ করছে তার সুবিধাভোগী অনেক নারীই। ৫২ বছরে এসে নারীদের মধ্যে যে সাহসের সঞ্চার হতে দেখি তা মহিলা পরিষদ জুগিয়েছে।
শাহানা জেফরীন বলেন, সমতার চেতনা প্রতিষ্ঠিত করতে প্রত্যেক নারীকে যোগ্য হতে হবে। পরিবারে, রাজনীতিতে নারীর নিজ অধিকারকে আদায় করে নিতে ভয়েজ রেস করতে হবে। কর্মক্ষেত্রে নারীর নিরাপত্তা ও কাজের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
সভাপতির বক্তৃতায় ডা. ফওজিয়া মোসলেম বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা আজকের নারীদের অগ্রসর করেছে। ৫০ বছরে বাংলাদেশের অগ্রগতিতে নারীর অনেক ভূমিকা আছে। অগ্রগতি হাজার হলেও নারী আজ কেমন আছেন সেটি এখন দেখতে হবে।




