শেরপুরে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে কঙ্কাল চুরির ঘটনা। এক মাসের ব্যবধানে শুধু শেরপুর সদরেই অন্তত: ২৫টি কঙ্কাল চুরির ঘটনা ঘটেছে। এতে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষ। প্রিয়জনের মৃত্যুর পর কঙ্কাল চুরির এসব ঘটনায় ভয় ও আতঙ্ক কাজ করছে মৃতের স্বজনদের মাঝে।

সর্বশেষ ৪ মার্চ শুক্রবার জুমার নামাজের পর সদর উপজেলার রৌহা সামাজিক কবরস্থানে অন্তত: ১৪টি কঙ্কাল চুরির তথ্য মিলেছে। স্থানীয় শিক্ষক আবু জাহিদ জানান, জুমার নামাজের পর একজন তার আত্মীয়ের কবর জিয়ারত করতে যায় রৌহা বাজারের পাশের সামাজিক কবরস্থানে। সেখানে গিয়ে কবরে গর্ত দেখে স্থানীয়দের ডাক দেন। এ সময় আরো অন্তত: ১৩টি কবরে গর্ত দেখা যায়। পরবর্তীতে স্থানীয়রা কবরের মাটি সরিয়ে দেখতে পান, কবরে কোন মৃতদেহ নেই।
এর আগে গত ২ জানুয়ারি মধ্যরাতে একই ইউনিয়নের হালগড়া স্কুল সংলগ্ন ফটিয়ামারী সামাজিক কবরস্থান থেকে ১১টি কঙ্কাল চুরি হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মুসল্লী বলেন, শেরপুর সদরে এই কাজটা একটা চক্রই করে থাকে। পুলিশ তাদের ধরে নিয়ে জেলে পাঠালে, কিছুদিন আমরা শান্তিতে থাকি। এরপর বের হয়েই তারা আবার এই কাজ শুরু করে। আমরা খুবই চিন্তায় আছি।
স্থানীয় সাংবাদিক ও কলেজ শিক্ষক মহিউদ্দিন সোহেল বলেন, শেরপুরে প্রতিনিয়তই এই কঙ্কাল চুরির ঘটনা বেড়ে চলছে। স্থানীয়দের মধ্যে এ ঘটনায় আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। বাকি কবরগুলোর নিরাপত্তা নিয়েও শঙ্কায় রয়েছেন স্বজনরা। তাহলে কি কবরেও শান্তি নেই?
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মো. সাইফুজ্জামান সোহেল বলেন, জুমার নামাজের পর স্থানীয়রা আমাকে কঙ্কাল চুরির খবর দেয়। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি ১০/১২ টি কবরের মাথার কাছে খোঁড়া এবং কবরের বাঁশও কয়েকটি উঠানো।
সদর থানার এসআই ফারুক আহমেদ জানান, আমি ঘটনাস্থলেই আছি। এখানে পুরাতন ও নতুন কিছু কবরের মাটি মাথার দিক থেকে হালকা খোড়া। যেখান দিয়ে মানুষ প্রবেশ করে কঙ্কাল চুরি করা প্রায় অসম্ভব বলে মনে হচ্ছে। তবে বিষয়টি রহস্যজনক বিধায় তদন্ত চলছে।
এ ব্যাপারে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনসুর আহম্মেদ বলেন, বিষয়টি নিয়ে এখনও কেউ কোনো অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।




