জেমি সিডন্স, বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে এক স্মরণীয় নাম। আজকের সাকিব-তামিম গড়ার পেছনে জড়িয়ে এই অস্ট্রেলিয়ানের নাম। ২০০৭ সালে জাতীয় দলের প্রধান কোচ হিসেবে এসে চার বছর দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ২০১১ সালে ওয়ানডে বিশ্বকাপের পর অস্ট্রেলিয়ায় ফিরে যান। বাংলাদেশ থেকে যাওয়ার পর কোনো দেশের জাতীয় দলের সঙ্গে ছিলেন না সিডন্স। নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ায় ক্লাব দলের সঙ্গে কাজ করেছেন তিনি। গত কয়েক বছর কাজ করেন বয়সভিত্তিক ক্রিকেটারদের নিয়ে। নতুন করে বিসিবির ব্যাটিং পরামর্শক হয়ে ঢাকায় ফিরেছেন তিনি। দুই বছরের চুক্তিতে কাজ করতে কদিন আগেই এসেছেন ৫৭ বছর বয়সী এই কোচ।

জানা যায়, সিডন্সকে ফেরাতে ক্রিকেটারদেরও সায় আছে। জাতীয় দলের সিনিয়র ক্রিকেটাররা অন্তত ব্যাটিং কোচ হিসেবেই এই অস্ট্রেলিয়ানকে চাচ্ছিলেন। মাশরাফিও তাদের মধ্যে একজন। কিন্তু এই মাশরাফির এক দুঃখের সাথে জড়িয়ে আছে সিডন্সের নাম। ২০১১ বিশ্বকাপের মাশরাফিকে বাদ দিয়েই ঘরের মাঠের বিশ্বকাপ দল গঠন করেছিলেন তৎকালীন কোচ জেমি সিডন্স। বিশ্বকাপের দল ঘোষণার পর মাশরাফির কান্না এবং চোখের পানি ছুঁয়ে গিয়েছিল সবাইকে। এতে তখনকার অধিনায়ক সাকিব আল হাসান এবং কোচ জেমি সিডন্স তুমুল সমালোচনার শিকার হয়েছিলেন। মাশরাফিকে বাদ দেওয়ার জন্য এই দুজনকে সরাসরি দায়ী করেছিলেন ভক্ত-সমর্থকরা। তবে সেই অধ্যায় পেরিয়ে মাশরাফি পরে দেশের সেরা অধিনায়ক হয়েছেন।
গত ২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে এসে বিশ্রামে বেশি সময় কাটাননি অস্ট্রেলিয়ান এই কোচ। বিপিএল থাকায় আপাতত ক্রিকেটারদের নিয়ে কাজ করার সুযোগ নেই। যদিও এটাই তার জন্য বড় সুযোগ। বিপিএলের ম্যাচ দেখে ক্রিকেটারদের পরখ করে নিচ্ছেন সিডন্স। ঢাকা পর্ব শেষে সিলেটেও ছুটে গেছেন তিনি। সেখানেই এক ফাঁকে কোনো একসময় তার দেখা হলো মাশরাফির সঙ্গে।

সিডন্সকে দেখে সোমবার রাতে ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছেন ৩৮ বছর বয়সী এই পেসার। সিডন্সের সঙ্গে সামাজিক দূরত্ব মেনে ছবি তুলেছেন। লিখেছেন, ২০১১ সালের কষ্ট নাকি ভুলে গেছেন। নতুন ভূমিকায় এই অস্ট্রেলিয়ানের প্রতি শুভ কামনাও জানিয়েছেন চলমান বিপিএলে ঢাকার খেলোয়াড় মাশরাফি।
মাশরাফি তার পোস্টে লেখেন, ২০১১ এর কষ্ট তোমাকে দেখে ভুলে গিয়েছি জেমি। মনে প্রানে বিশ্বাস করি বাংলাদেশ ক্রিকেট এ পর্যন্ত আসার পেছনে যাদের অবদান আছে তুমি তাদের ভেতর অন্যতম।আমি হয়তো টিমে আর আসবো না তবে তোমার জন্য শুভকামনা।তোমার প্রতিটি শিক্ষা বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য বয়ে আনুক নতুনত্ব হয়ে উঠুক আনন্দময়।তোমার প্রতি অগাধ আস্থা রেখেই বলছি। সামাজিক দুরত্বে থেকে তোমার প্রতি ভালোবাসা। বাংলাদেশ ও তোমাকে ভালোবাসে।




