ads

সোমবার , ২ আগস্ট ২০২১ | ২৮ অক্টোবর ২০২৬
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  1. ENGLISH
  2. অনিয়ম-দুর্নীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আমাদের ব্লগ
  6. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  7. ইসলাম
  8. উন্নয়ন-অগ্রগতি
  9. এক্সক্লুসিভ
  10. কৃষি ও কৃষক
  11. ক্রাইম
  12. খেলাধুলা
  13. খেলার খবর
  14. চাকরির খবর
  15. জাতীয় সংবাদ

ময়মনসিংহ বিভাগে করোনায় মোট আক্রান্তের ৫৩.০৫ শতাংশই জুলাই মাসে

৯ দিনের লকডাউনে ২,৭৫১টি মামলায় ১৭ লক্ষাধিক টাকার অর্থদণ্ড

ময়মনসিংহ বিভাগের গত জুন মাসে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৩,৪৭২ আর গত জুলাই মাসে আক্রান্ত হয়েছে ১৪,০৬৪জন। গত মাসের চেয়ে ১০,৫৯০জন বেশী আক্রান্ত জুলাই মাসেই। সরকার কঠোর লকডাউন দিলেও তা মানছেনা অনেকেই, স্বাস্থ্যবিধি অমান্য করে বেপরোয়া গতিতে রাস্তা-ঘাট, হাট-বাজার, কর্মস্থলসহ নানা স্থানে বেপরোয়া গতিতে ছুটছে মানুষ। পাল্লা দিয়ে বেপরোয়া গতিতে করোনায় আক্রান্ত, মৃত্যু, ঝুঁকি, আতংক এই বিভাগে সবই বাড়ছে। সংক্রমণ হ্রাস না পেলে করোনাভাইরাসের হটসপট ময়মনসিংহ বিভাগের অবস্থা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। এভাবে রোগী বৃদ্ধি পেলে চিকিৎসা ব্যবস্থাও ভেঙ্গে পড়ার আশংকা করছেন স্বাস্থ্য বিশেজ্ঞরা।
ময়মনসিংহ বিভাগীয় পরিচালক স্বাস্থ্য অফিসের তথ্যমতে, ময়মনসিংহ বিভাগে গত জুলাই মাসে মোট ৪৫ হাজার ৩৫৭টি নমুনা পরীক্ষা করে ১২ হাজার ৪৪৪ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছে, হার ২৭.৪৩ শতাংশ। একমাসে বিভাগে করোনায় মৃত্যুবরণ করেছে ২০৩জন। গত ৩১ জুলাই পর্যন্ত ময়মনসিংহ বিভাগে করোনায় মোট আক্রান্ত হয়েছে ২৬ হাজার ৫০৮জন। করোনার শুরু গত বছরের মার্চ থেকে ১৬ মাসে জুন’২০২১ পর্যন্ত মোট আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১৪ হাজার ৬৪জন, আর শুধু জুলাই’২০২১ এক মাসেই আক্রান্ত ১২ হাজার ৪৪৪জন। বিভাগে সর্বমোট করোনায় আক্রান্তের ৫৩.০৫ শতাংশ রোগী একমাসে আক্রান্ত হয়েছে। গত জুন’২০২১ মাসে মোট করোনায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ছিল ৩ হাজার ৪৭২জন এবং মৃত্যুরণ করেছে ৪৩জন।

Shamol Bangla Ads

অপরদিকে শুধু ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালের করোনা ইউনিটে গত জুলাই মাসে করোনা ও উপসর্গ নিয়ে ৪৬৯জনের মৃত্যু হয়েছে। কঠোর লকডাউন গত (২৩-৩১ জুলাই) ৯দিনে স্বাস্থ্যবিধি না মানায় ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে ২ হাজার ৭৫১টি মামলা দিয়ে মোট ১৭ লাখ ৪১ হাজার ৮৩০টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটগণ।
ময়মনসিংহ বিভাগীয় পরিচালক স্বাস্থ্য ডাঃ মোঃ শাহ আলম জানান, ময়মনসিংহ বিভাগে গত জুলাই ২০২১ একমাসে করোনায় আক্রান্ত জেলাওয়ারী ময়মনসিংহ জেলায় ২৫,৫৯৮টি নমুনা পরীক্ষা করে ৭,০১৭ জনের করোনা সনাক্ত হয়েছে, আক্রান্তের হার ২৭.৪১ শতাংশ এবং মৃত্যুবরণ করেছে ৭১জন। নেত্রকোণা জেলায় ৬,৫০১টি নমুনা পরীক্ষা করে ১,৯৭৪ জনের করোনা সনাক্ত হয়েছে, আক্রান্তের হার ৩০.৩৬ শতাংশ এবং মৃত্যুবরণ করেছে ৫৫জন। জামালপুর জেলায় ৭,১৮১টি নমুনা পরীক্ষা করে ১,৪৪০ জনের করোনা সনাক্ত হয়েছে আক্রান্তের হার ২০.০৫ শতাংশ এবং মৃত্যুবরণ করেছে ৩৫জন। শেরপুর জেলায় ৬,০৭৭টি নমুনা পরীক্ষা করে ২,০১৩ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে, আক্রান্তের হার ৩৩.১২ শতাংশ এবং মৃত্যুবরণ করেছে ৪২জন।
করোনা পরিস্থিতি নিয়ে সবচেয়ে খারাপ সময় পার করছে। সরকার বাইরে সকলকে মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করলেও অধিকাংশ মানুষই মাস্ক পড়ছে না। সবাইকে সঠিকভাবে মাস্ক ব্যবহার ও স্বাস্থ্য বিধি মানতে হবে। সংক্রমণ কমাতে দরকার উপসর্গ যাদের আছে তাদের দ্রুত আইসোলেসনে নেয়া, পরীক্ষা করা এবং যারা সংস্পর্শে এসেছিলেন তাদের কোয়ারেন্টাইনে নেয়া যা চরমভাবে অবহেলিত। এন্টিজেন টেস্ট বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
অকারণ ঘোরাঘুরি, শপিংসহ সবকিছু খুলে দেয়ার প্রেক্ষিতে অবাধ চলাচলের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বলে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞগণ জানান। গণপ‌রিবহন ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠা‌নে স্বাস্থ‌্যবি‌ধি অমান্য চলছে এবং সামা‌জিক দূরত্ব নিশ্চিত না করে করোনায় আক্রান্ত রোগীরা বাইরে ঘুরাঘুরি করার প্রেক্ষিতে করোনা সংখ্যা দিন দিন ব্যাপক হারে বাড়ছে। দ্রুত আক্রান্তের লাগাম ধরে টানতে হলে স্বাস্থ্যবিধি মানাতে জনগণকে বাধ্য করা ছাড়া কোনো পথ খোলা নেই বলে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানান।
মেয়র মো: ইকরামুল হক টিটু জানান, করোনা সংকট মোকাবিলায় সিটি করপোরেশনের বরাদ্দ থেকে দেওয়া হয়েছে ১ হাজার ৩২৭ টন চাল ও ৬৫ লক্ষ টাকার খাদ্য সহায়তা। করোনায় তার ( মেয়র টিটুর) ব্যক্তিগত উদ্যোগে প্রায় ৭০ হাজার প্যাকেট খাবার বিতরণ করেছেন। সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে জনবহুল ৫২৫টি স্থানে করা হয়েছে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা ও ১০০ টি মাইকে দৈনিক সচেতনতা বার্তা প্রচার, ২০টি স্থানে ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে সচেতনতামূলক বার্তা প্রচার করা এবং বিতরণ করা হয়েছে কয়েক লক্ষ মাস্ক। ৪টি গাড়ি এবং ২৫টি স্প্রে ম্যাশিনের মাধ্যমে জীবাণুনাশক ছিটানো হচ্ছে নিয়মিত। ডাক্তারদের যাতায়াত এবং স্বাস্থ্য কর্মীদের নমুনা সংগ্রহে করা হয়েছে পরিবহনের ব্যবস্থা। মানুষ যেন ঘরে বসে চিকিৎসা সেবা নিতে পারে সেজন্য চালু করা হয়েছে টেলিমেডিসিন সেন্টার। এছাড়াও করোনা সচেতনতা বাড়াতে নগরীর একাধিক পয়েন্টে নিয়মিত বিরতিতে করা হচ্ছে মাস্ক ক্যাম্পেইন। করোনা ভ্যাকসিন প্রদান ব্যবস্থাপনায়ও সিটি করপোরেশন দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছে। শুরু থেকেই ময়মনসিংহ বিভাগের সকল জেলার মধ্যে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন এলাকায় করোনা ভ্যাকসিন রেজিস্ট্রেশন এবং টিকা গ্রহণের পরিমাণ ছিল সর্বোচ্চ।
ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল হক জানান, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ কর্তৃক সর্বশেষ জারিকৃত নির্দেশনা অনুযায়ী জেলার ১৩টি উপজেলায় ১৩ জন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট, ১২ জন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট এবং জেলা প্রশাসন কর্তৃক নিয়োজিত ২৮ জন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটসহ মোট ৫২ জন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট প্রতিদিন ভোর ৬টা হতে রাত ১০টা পর্যন্ত পুরো ময়মনসিংহ জেলায় শহরে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিতকরণে অভিযান পরিচালনা করে অর্থদণ্ড প্রদান করা হচ্ছে। কঠোর লকডাউন গত (২৩-৩১ জুলাই) ৯দিনে ২ হাজার ৭৫১টি মামলায় মোট ১৭ লাখ ৪১ হাজার ৮৩০টাকা অর্থদণ্ড দেয়া হয়েছে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রিটগণ। জেলা প্রশাসনের সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ, র‍্যাব ও আনসার বাহিনী অভিযান পরিচালনায় সার্বক্ষণিকভাবে সহযোগিতা করছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য বিধি নিশ্চিতকরণে স্কাউট, বিএনসিসি ও বিভিন্ন সেচ্ছাসেবী সংগঠন জেলা প্রশাসনকে সহায়তা করছে। প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া সাংবাদিকগণ সর্বক্ষণ মাঠে থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করছেন। জনস্বার্থে জেলা প্রশাসন এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল হক।
ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার মোহা. আহমার উজ্জামান জানান, গণপ‌রিবহন ও ব‌্যবসা প্রতিষ্ঠা‌নে স্বাস্থ‌্যবি‌ধি মে‌নে চলা ও সামা‌জিক দূরত্ব নি‌শ্চিতকরণে সকললে এগিয়ে আসতে হবে। এক‌টি নিরাপদ ময়মন‌সিংহ গ‌ড়ে তু‌লতে সবাইকে স‌চেতন হওয়ার আহবান জানিয়েছেন পুলিশ সুপার মোহা. আহমার উজ্জামান।
স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ) কেন্দ্রীয় পরিষদের ময়মনসিংহ বিভাগীয় করোনা মনিটরিং সেলের সমন্বয়ক, বি.এম.এ ময়মনসিংহ জেলা শাখা ও বাংলাদেশ প্রাইভেট ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক ওনার্স এসোসিয়েশন, ময়মনসিংহ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ডাঃ এইচ. এ. গোলন্দাজ জানান, সরকার মাস্ক বাধ্যতামূলক করলেও এখনো মাস্ক পড়ছে না। গণপ‌রিবহন ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠা‌নে স্বাস্থ্যবি‌ধি অমান্য চলছে এবং সামা‌জিক দূরত্ব নিশ্চিত না করে করোনায় আক্রান্ত রোগীরা বাইরে ঘুরাঘুরি করার প্রেক্ষিতে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন ব্যাপক হারে বাড়ছে। দ্রুত আক্রান্তের লাগাম ধরে টানতে হলে স্বাস্থ্যবিধি মানাতে জনগণকে বাধ্য করা ছাড়া কোনো পথ খোলা নেই।

Need Ads