শেরপুরে তৃতীয় লিঙ্গের হিজড়া জনগোষ্ঠীকে মূলধারায় সম্পৃক্তকরণের লক্ষ্যে শুরু হয়েছে ব্লক-বাটিক প্রশিক্ষণ। জেলা প্রশাসনের সহায়তায় জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর এ প্রশিক্ষনের আয়োজন করেছে। ৮ মার্চ সোমবার আন্তর্জাতিক নারী দিবসে জেলা প্রশাসকের তুলশীমালা ট্রেনিং কাম কম্পিউটার ল্যাবে ওই প্রশিক্ষণের উদ্বোধন করেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক এটিএম জিয়াউল ইসলাম। ওইসময় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফিরোজ আল মামুন, জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা লুৎফুল কবির, প্রেসক্লাব সভাপতি শরিফুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মো. মেরাজ উদ্দিন, হিজড়া কল্যাণ সংস্থার সভাপতি নিশি সরকার প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মুক্তাদিরুল আহাম্মদ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ওয়ালিউল ইসলাম, জনউদ্যোগ শেরপুর কমিটির সদস্য সচিব হাকিম বাবুল এবং স্থানীয় সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

হিজড়া নিশি সরকার তাদের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করায় জেলা প্রশাসক আনার কলি মাহবুব সহ সংশ্লিষ্টদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, আমরা ভিক্ষা করতে চাই না। কাজ করে খেতে চাই। এ প্রশিক্ষন আমাদের নতুন করে জীবন শুরু করার অনুপ্রেরণা যোগাবে।
প্রধান অতিথি স্থানীয় সরকার উপ-পরিচালক এটিএম জিয়াউল ইসলাম বলেন, সদর উপজেলার কামারিয়া ইউনিয়নের আন্ধারিয়া সুতিরপাড় গ্রামে ৪০ জন হিজড়াকে সরকারিভাবে আবাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, তাদের কর্মসংস্থানেরও ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এলক্ষেই এ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। শুধু ব্লক-বাটিক নয়, সরকারের বিভিন্ন বিভাগের মাধ্যমে সকল হিজড়াকেই সবধরনের প্রশিক্ষণ দিয়ে আত্মকর্মী হিসেবে গড়ে তোলা হবে। আশাকরি আগামী ২ বছরের মধ্যে শেরপুরের হিজড়ারা একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারবেন।
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফিরোজ আল-মামুন হিজড়াদের সংগঠিত করার কাজে ভূমিকা রাখার জন্য জনউদ্যোগ শেরপুর কমিটিকে অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, জেলা প্রশাসক আনার কলি মাহবুব-এর আন্তরিক প্রচেষ্ঠায় ইতোমধ্যে হিজড়াদের বাসস্থানের জন্য আবাসন প্রকল্প করা হয়েছে। সেখানে খুব শীঘ্রই ৪০ জন হিজড়াকে পুণর্বাসিত করা হবে। এছাড়া বিভিন্ন বিভাগের মাধ্যমে তাদেরকে সবধরনের সুযোগ সুবিধা দেওয়া হবে।
৭ দিনব্যাপী ব্লক-বাটিক প্রশিক্ষণে জেলার ২০ জন হিজড়া অংশগ্রহণ করছেন।




