বিরুদ্ধে শ্লোগান দেয়ায় দলীয় নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে নাশকতার মামলা
স্টাফ রিপোর্টার ॥ শেরপুরে জাতীয় নির্বাচনে নৌকার পক্ষে একাট্টা হয়ে কাজ করার পরও অপছন্দের দলীয় নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে নাশকতার মামলাসহ নানা অভিযোগে এবার স্থানীয় সংসদ সদস্য মুক্তিযোদ্ধা আতিউর রহমান আতিককে সংসদের হুইপ ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব থেকে অব্যাহতির দাবিতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২৪ এপ্রিল বুধবার বিকেলে শহরের খরমপুর খাদ্যগুদাম মোড় এলাকায় জেলা কৃষক লীগের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ওই দাবি জানান হুইপ আতিকবিরোধী বলয়ের প্রধান ২ নেতা, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর রুমান ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান ছানুয়ার হোসেন ছানু।
সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ১৯ এপ্রিল সন্ধ্যায় শহরে কৃষক লীগের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে নানা কর্মসূচী শান্তিপূর্ণভাবে পালিত হলেও বর্ণাঢ্য মিছিলকালে হুইপ আতিউর রহমান আতিকের বিরুদ্ধে অশ্লীল শ্লোগানসহ নাশকতার উদ্দেশ্যে ভাংচুরের তথাকথিত অভিযোগ তুলে কৃষকলীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের বর্তমান ও সাবেক ২৯ নেতা-কর্মীকে স্ব-নামে ও অজ্ঞাতনামা ২০/৩০ জনকে আসামী করে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দেওয়া হয়েছে। ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকালীন সময়ে সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার প্রায় ২৫/৩০ জন দলীয় নেতা-কর্মীকে বিএনপি-জামায়াত নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় জড়ানো হয়েছে। সম্প্রতি স্থানীয় বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে তার বিরুদ্ধে থাকা বা অপছন্দের নেতা-কর্মীদের নগ্নভাবে বিষোদগার করে বলে যাচ্ছেন যে, ‘তাদের (রুমান-ছানু) রাজনীতির দিন শেষ। আর কোনোভাবেই তাদেরকে টিকে থাকতে দেওয়া হবে না। এখন আস্তে আস্তে অন্যদেরও শায়েস্তা করা হবে।’
হুইপ আতিক একদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা উপেক্ষা করে শহর যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, জেলা জামায়াতের রুকন মাওলানা আব্দুর রাজ্জাক, জেলা শিবির নেতা ও শেরপুর সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচনে শিবির প্যানেলের ভিপি প্রার্থী মাওলানা শরাফত আলী, জিএস প্রার্থী মাওলানা মোঃ সুরুজ্জামানসহ বিভিন্ন এলাকায় আওয়ামী লীগে বিপুল সংখ্যক বিএনপি-জামায়াতের নেতা-কর্মীদের অনুপ্রবেশ বা পুনর্বাসন করায় হাইব্রীড নেতাদের দৌরাত্ম বেড়ে গেছে, অন্যদিকে নিজের অনুগত বা পছন্দের না হওয়ায় স্থানীয় অনেক ত্যাগী নেতা-কর্মী কেবল অবমূল্যায়নই নয়, নানাভাবে হয়রানীর শিকার হচ্ছেন।
তিনি দীর্ঘদিন যাবত দল ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধির দায়িত্বে থাকায় শহরসহ সদর উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নে সুষম উন্নয়ন কর্মকা- বাস্তবায়ন না করে স্বেচ্ছাচারিতার মাধ্যমে কেবল পূর্বাঞ্চলের একচ্ছত্র উন্নয়ন করে যাচ্ছেন। শহর থেকে প্রায় ৫/৭ কিলোমিটার দূরে ভাতশালা ইউনিয়নে গড়ে তোলা হয়েছে জেলা পর্যায়ের ৭/৮টি অফিসসহ একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। কেবল তাই নয়, সম্প্রতি অতি গোপনীয়তার সাথে দেড়শ বছরের শেরপুর পৌরসভার আয়তন বাড়ানোর নাম করে চারদিকে না তাকিয়ে বা চারদিকে বাড়ানোর উদ্যোগ না নিয়ে বিশেষ স্বার্থে কেবল নবীনগর থেকে পূর্ব দিকসহ দক্ষিণ-পূর্ব হয়ে ভাতশালার ওই ‘আতিকনগর’ পর্যন্ত পৌরসভার আওতায় নেওয়ার নতুন ষড়যন্ত্র করছেন। ফলে তার ওইসব কর্মকা-ে বিরামহীন স্বেচ্ছাচারিতা, একনায়কতন্ত্র, ক্ষমতার প্রভাব বিস্তার, জামায়াত-বিএনপির নেতা-কর্মীদের পুনর্বাসন, দলের ত্যাগী নেতা-কর্মীদের অবমূল্যায়নসহ রাজনৈতিক হীন স্বার্থ চরিতার্থ করতে অপছন্দের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও সাজানো মামলায় হয়রানীর মাত্রা দিন দিন বেড়ে যাওয়ায় বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলার সফল বাস্তবায়নে দলে গণতান্ত্রিক রীতি-নীতির চর্চাসহ সুষ্ঠু রাজনৈতিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির পদ এবং প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায় জাতীয় সংসদের হুইপ হওয়ার কারণে সেই পদটি তিনি অপব্যবহার করে তার অবমূল্যায়ন করায় তা দল ও সরকারের ভাবমূর্তি নষ্টের কারণ হওয়ায় হুইপের দায়িত্ব থেকেও তাকে অব্যাহতির দাবি করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল খালেক, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক এডভোকেট রফিকুল ইসলাম আধার, জেলা কৃষক লীগের সভাপতি আব্দুল কাদির, সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম মিজু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইউপি চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন সুরুজ, ইতালীর নেপোলি আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি জয়নাল আবেদীন হাজারী প্রমুখ। সংবাদ সম্মেলনে প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়ার স্থানীয় প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।




