শ্রীবরদী (শেরপুর) প্রতিনিধি ॥ শেরপুরের শ্রীবরদীতে পুলিশের উপর হামলার ঘটনায় ২০ ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। ওই মামলায় গ্রেফতার হয়েছে উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহবায়ক জিয়াউল হক জেনারেল (২৬)। ২৮ জানুয়ারি সোমবার বিকেলে ৭ দিনের পুলিশ রিমাণ্ডের আবেদনসহ তাকে আদালতে সোপর্দ করা হলে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সরকার হাসান শাহরিয়ার মঙ্গলবার শুনানীর তারিখ ধার্য করে তাকে জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এদিকে ওই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক তোলপাড় চলছে।
জানা যায়, শ্রীবরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্ত্বরে প্রতিদিন নেশার আড্ডা বসানোর কারণে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষের অভিযোগের ভিত্তিতে রবিবার বিকেলে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রহুল আমিন তালুকদারের নির্দেশে এএসআই আব্দুল হান্নান ও রফিকুল ইসলাম ওই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভেতর থেকে স্থানীয় কয়েকজন ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীকে ডেকে থানায় নিয়ে যান। পরে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিজ্ঞাসাবাদ করে ভবিষ্যতে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভেতর ওই আড্ডা না বসানোর জন্য তাদের শাসিয়ে ছেড়ে দেন। স্থানীয়রা জানান, ওই যুবকদেরকে থানায় ডেকে নিয়ে যাওয়ার সময় তাদের চড়-থাপ্পড় দেয় পুলিশ সদস্যরা। ওই ঘটনার জের ধরে রাত সাড়ে ৭টার দিকে পুলিশের এএসআই আব্দুল হান্নান ও রফিকুল ইসলাম শ্রীবরদী বাজারের চৌরাস্তা মোড়ে কর্তব্য পালন করতে গেলে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। ওই সময় তাদের মারধরসহ মোবাইল ছিনিয়ে নেয়া হয়। একই সময় পুলিশের হাতে লাঞ্ছিত হয় ছাত্রলীগ নেতা জিয়াউল হক জেনারেল। এরপর তাকে ধরে নিয়ে যায় পুলিশ। এতে শহরে টান টান উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে জেলা সদর থেকে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয় ওই এলাকায়। ওই ঘটনায় পুলিশের এএসআই রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে ছাত্রলীগ নেতা জিয়াউল হক জেনারেলকে প্রধান আসামি করে স্ব-নামে ১২ জনসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৮/১০জন নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন।
অন্যদিকে ওই ঘটনার বিষয়ে শ্রীবরদী উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট মেরাজ উদ্দিন চৌধুরী বলছেন ভিন্ন কথা। তার মতে, পুলিশের ঘটনাটি অতিরঞ্জিত। পুলিশের সাথে কয়েকজন যুবকের ধস্তাধস্তি ও বাগবিত-া হলেও তারা ছাত্রলীগের কেউ না এবং তাদের সাথে ছাত্রলীগ নেতা জেনারেলও জড়িত নয়। বরং পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে সে উল্টো পুলিশের হাতেই লাঞ্ছিত হয়েছে।
এ ব্যাপারে শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) বিল্লাল হোসেন বলেন, কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যদের উপর হামলার অভিযোগে থানায় একটি মামলা রেকর্ড হয়েছে। ওই মামলায় জিয়াউল হক জেনারেল নামে একজনকে গ্রেফতার করে রিমাণ্ডের আবেদনসহ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।




