ময়মনসিংহ প্রতিনিধি ॥ ময়মনসিংহ নগরীর আকুয়া এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মহানগর যুবলীগ সদস্য সাজ্জাদ আলম শেখ আজাদ ওরফে আজাদ শেখ হত্যার ঘটনায় ৬ দিন অতিবাহিত হলেও মামলা নেয়নি কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশ। এরই প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশ ও মানব্বন্ধন করেছে নিহত আজাদের স্বজনরা। সেই সাথে আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে মামলা রুজু করা না হলে ধর্মমন্ত্রীর বাড়ি ঘেরাও করবে বলে ঘোষনা দিয়েছেন আজাদের পরিবার। ৫ আগস্ট রবিবার দুপুরের নগরীর গাঙ্গিনাপাড় মোড়ের প্রধান সড়ক অবরোধ করে ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধন ও সনমাবেশে ওই ঘোষনা দেয়া হয়। ওইসময় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন আজাদের স্ত্রী দিলরুবা আক্তার, বড় ভাই সালাহ উদ্দিন শেখ ও তার কর্মী শাব্বির শেখ প্রমুখ। মানববন্ধন ও সমাবেশে আজাদের স্বজনরা ছাড়াও এলাকাবাসী ও যুবলীগের কর্মীরা অংশ নেন।
আজাদের সস্ত্রী দিলরুবা আক্তার বলেন, থানায় মামলা দিয়েছি। ওই এজাহারে ধর্মমন্ত্রীর ছেলে মোহিত উর রহমান শান্তকে প্রধান আসামী করে ২৫ জনের নাম উল্লেখ রয়েছে। এখনো পুলিশ মামলা নেয়নি। মামলা না নিয়ে আমাদের উল্টাপাল্টা কথা বলছেন। এসময় তিনি অভিযোগ করে বলেন, মন্ত্রীর ছেলে বলে কি পুলিশ মামলা নেবে না। আমার স্বামীওতো যুবলীগ করতো। সে মহানগর আওয়ামী যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ছিল। আমি কি আমার স্বামী হত্যার বিচার পাবো না?
এদিকে আজাদ হত্যার পর থেকেই ধর্মমন্ত্রী মতিউর রহমানের ছেলে মহানগর আ.লীগের সাধারন সম্পাদক মোহিত উর রহমান শান্তকে দায়ী করে আসছে আজাদের স্ত্রী ও স্বজনরা। আজকেও বিক্ষোভ মিছিল ও মানব্বন্ধনে ধর্মমন্ত্রীর ছেলের বিচার চেয়ে শ্লোগান দেয়া হয়।
এ ব্যাপারে মোহিত উর রহমান শান্ত গণমাধ্যমকে বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ পুরোপুরি মিথ্যা। আজাদ প্রকাশ্যে খুন হয়েছে, কারা এই হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে, পুলিশ তা জানে। তার সঙ্গে আজাদের কথোপকথন নিয়ে দিলরুবার আনা অভিযোগ নিয়ে জানতে চাওয়া হলে শান্ত বলেন, ‘এটাও মনগড়া অভিযোগ।
এ বিষয়ে ময়মনসিংহ কোতোয়ালী মডেল থানার ওসি (ইনটেলিজ্যান্স ও কমিউনিটি পুলিশিং) মুশফিকুর রহমান বলেন, আমরা একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তবে অভিযোগটি তদন্ত করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত ৩১ জুলাই দুপুরে দলীয় বিরোধের জেরধরে প্রকাশ্যে মহানগর যুবলীগের সদস্য আজাদ শেখকে গুলি, দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে একই এলাকার যুবলীগের কর্মীরা। আজাদ এক সময় মোহিত উর রহমান শান্তর গ্রুপ করতেন। পরে বনিবনা না হওয়ায় জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এড মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল ও পৌর মেয়র ইকরামুল হক টিটুর গ্রুপে যোগ দেন বলে জানা গেছে।




