ads

বৃহস্পতিবার , ৭ জুন ২০১৮ | ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  1. ENGLISH
  2. অনিয়ম-দুর্নীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আমাদের ব্লগ
  6. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  7. ইসলাম
  8. উন্নয়ন-অগ্রগতি
  9. এক্সক্লুসিভ
  10. কৃষি ও কৃষক
  11. ক্রাইম
  12. খেলাধুলা
  13. খেলার খবর
  14. চাকরির খবর
  15. জাতীয় সংবাদ

মৎস্য চাষে বদলে যেতে পারে শ্রীবরদীর মিরকি বিল

শ্যামলবাংলা ডেস্ক
জুন ৭, ২০১৮ ১২:৩৪ অপরাহ্ণ

রেজাউল করিম বকুল, শ্রীবরদী (শেরপুর) ॥ শাঁন বাঁধানো ঘাট। পালতোলা নৌকার চলাচল। মাঝি মাল্লাদের ভাটিয়ালি সুরে গান। মহানন্দে নৌকা বেয়ে এক স্থান হতে অন্য স্থানে যাওয়া যেন এখন শুধুই স্মৃতি। রুই, কাতল, চিতল, গজার, শোল, বোয়াল, শিং, মাগুরসহ নানা জাতের দেশীয় মাছের ভরপুরের গল্পটাও এখন আজগুবি। এ নদীতে ছিল শতশত জেলেদের কোলাহল। এটি মিরকি নদীর আদি কথা। এখন রাখালেরা এ নদীতে গরু চড়ায়। খরস্রোতা এ নদীর ওপরে গড়ে ওঠেছে ঘরবাড়ি। পরিণত হয়েছে আবাদি জমি। ভারত থেকে নেমে আসা রাক্ষসী সোমেশ্বরীর আর পাগলা নদীর ঢলে বদলে গেছে এর গতিপথ। এ গল্পটি শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার তাতিহাটি ইউনিয়নের মিরকি নদীর। এর বুকে জেগে ওঠেছে চর। কালের স্রোতে ধীরে ধীরে ভরাট হয়েছে নদীটি। বদলে গেছে মিরকির নদীর নামও। যেন নতুন প্রজন্মের কাছে মিরকি নদী শুধুমাত্র কল্পকাহিনী। এখন এর নাম হয়েছে জলকেশর রায় বিল। এ জলকেশর রায় বিল সরকারিভাবে প্রতি ৩ বছর পর পর দেয়া হয় লীজ। এবারও লীজ দেয়া হয়েছে।
লীজ নিয়েছে একতা মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেড। এখানে করা হচ্ছে বাণিজ্যিকভাবে মৎস্য চাষ। সম্প্রতি গেরামারা জলকেশর রায় বিলে আনুষ্ঠানিকভাবে পোনা মাছ অবমুক্ত করা হয়েছে। ওই সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা কৃষিবিদ সাইদুর রহমান, উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মহিবুর রহমান, একতা মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটিডের সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম, শেখদি মৎসজীবি সমবায় সমিতির লিমিটেডের সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, সমাজ সেবক খোরশেদ আলম ফুলু, আব্দুল খালেক বিএসসি, সোলায়মানসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। একতা মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম জানান, জলকেশররায় বিলের উত্তর অংশে ৫৩ দশমিক ৯৩ শতাংশ জমির জলাশয়ে বিভিন্ন জাতের প্রায় ৫০ মন দেশীয় জাতের মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়েছে। তবে আরও পোনা অবমুক্ত করা হবে।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা কৃষিবিদ সাইদুর রহমান বলেন, জলকেশর রায় বিলের সাফল্য অনেকটাই নিশ্চিত। এখানেই হতে পারে লাখ লাখ টাকার মৎস উৎপাদন। যা দিয়ে এলাকার চাহিদা মিটিয়েও বানিজ্যিকভাবে রফতানি করতে পারবে। এ প্রজেক্টের সাফল্য দেখে আরো অনেকেই মৎস্য চাষে উদ্বুদ্ধ হবে।
এলাকাবাসীরা জানান, শ্রীবরদী উপজেলা সদর বাজার সংলগ্ন ছিল মিরকি নদী। এ নদীর পূর্বে শ্রীবরদী সদর বাজার, দক্ষিনে বনপাড়া, চককাউরিয়া, ঝালুপাড়া, পশ্চিমে পুটল, উত্তরে গেরামারা ও কাকিলাকুড়া এলাকা। সদর বাজার সংলগ্ন ছিল নৌকা রাখার শান বাঁধানো ঘাট। এ ছাড়াও নয়াপাড়া, গেরামারা, কাকিলাকুড়াসহ কয়েকটি স্থানে ছিল ছোট ছোট ঘাঁটি। এ নদীটি ঘিরে শ্রীবরদীর তৎকালীন শম্ভূগঞ্জে গড়ে ওঠেছিল বিশাল পাটের বাজার। এ ঘাট হতে নৌকায় পাট বোঝাই করে নিয়ে যাওয়া হতো জামালপুরের জেলা সদরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে। নানা পন্য সামগ্রী নিয়ে বেদেনীরা আসতো পাল তোলা নৌকায়। থাকতো প্রায় সারা বছর। চলাচল করতো এ ঘাট থেকে ও ঘাটে। মিরকি নদীতে বেদেনীদের পালতোলা নৌকায় আনাগোনায় যোগ হতো এক নতুন মাত্রা। স্বাধীনতার আগেও এ নদীর গভীরতা ছিল ২০/২৫ ফুট। ওই সব এখন শধু স্মৃতি। নদীর ওই জৌলুস হারিয়েছে প্রায় ৩৫ বছর আগেই। পাহাড়ি ঢলে প্রতি বছরই এ নদীতে পড়ছে পলিমাটি। এতে ঐতিহ্যবাহী এ নদীর অস্তিত্ব বিলীন হচ্ছে। মাত্র দু’যুগে ১৩/১৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এ নদীর বুকে জেগে ওঠেছে চর। এ চরে প্রায় এক যুগ ধরে চলছে ইরি বোরো চাষাবাদ। প্রায় ১২ কিলোমিটারের অস্তিত্ব বিলীন হয়েছে অনেক আগেই। রয়েছে শুধু মিরকি নদী। এর পূবে এসব এলাকাব বাসিন্দারা কেউ গড়ে তুলেছেন বাড়ি। কেউবা করছেন চাষাবাদ। জলকেশররায় (মিরকি নদীর) বিলের দু’পাড়ে কৃষকরা জানান, এ নদীর বুকে পলিমাটি পড়ে অধিক উর্বর হয়েছে। তাই এ জমিতে সারের প্রয়োজন হয়না। এমনকি সেচ সুবিধা থাকায় স্বাচ্ছন্দ্যে চলছে ইরি বোরো চাষাবাদ। নদীর বুকে চাষাবাদ করে পার্শ্ববর্তী জমির মালিকরা বছরের ৫/৬ মাসের খাবার ধান ঘরে তুলছেন। এসব কৃষকের সংখ্যা পাচঁ শতাধিক।
সূত্র জানান, এ নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে তৎকালীন খাল খনন কর্মসূচিতে অংশ গ্রহণ করে কর্মসূচীর আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধনী ঘোষণা করেন সাবেক প্রেসিডেন্ট শহীদ জিয়াউর রহমান। কিন্তু অজ্ঞাত কারনে পরবর্তীতে এর বাস্তবায়ন হয়নি। এ জন্য নদীটিতে জেগে ওঠেছে চর। ফলে আর নৌকা চলে না। এক সময় যেসব জেলে এ নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করতো। সেই সব জেলে সম্প্রদায়ের অনেকের জীবনে নেমেছে দুর্ভোগের অমানিশা। কেউবা পেশা বদল করে চলে গেছে অন্যত্র। ফলে মৎস এলাকাটি হয়েছে মৎস্যশূন্য।
সচেতন মানুষ ও জেলেরা মনে করেন, নদীটি ড্রেজিং করা হলে বছরে কোটি কোটি টাকার মাছ উৎপাদন হতে পারে। এ নদীতে হতে পারে মৎস্য খামার। এখানেই হতে পারে হাজারও বেকারের কর্মসংস্থানের পথ। দেশে মেটাতে পারে মাছের চাহিদা।

Need Ads

সর্বশেষ - ব্রেকিং নিউজ

Shamol Bangla Ads