স্টাফ রিপোর্টার : শেরপুরে ভুল চিকিৎসায় গৃহবধুর স্তন কর্তনের ঘটনায় দায়ের করা চাঞ্চল্যকর মামলার দীর্ঘ সাড়ে ৪ মাস পর অবশেষে সেই সার্জারী বিশেষজ্ঞ ডা. শরীফুল ইসলাম শরীফকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ২০ মে শুক্রবার দুপুরে শহরের নারায়ণপুর এলাকার মুন্নী ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। দ্রুত গতিতে বিকেলে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হলে আসামীপক্ষ থেকে দেওয়া হয় জামিনের আবেদন। ওই অবস্থায় উভয় পক্ষের শুনানী শেষে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্্েরট আ ন ম ইলিয়াস রবিবার জামিন শুনানীর তারিখ ধার্য করে জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
জানা যায়, গত বছরের ৬ নভেম্বর শ্রীবরদী শহরের শান ক্লিনিকে চিকিৎসক শরীফুল ইসলাম শরীফকে স্তনের ফোঁড়া দেখাতে যান উপজেলার কাকিলাকুড়া ইউনিয়নের ভুতনীপাড়া গ্রামের দু’সন্তানের জননী ওই গৃহবধূ। একই উপজেলার লঙ্গরপাড়া গ্রামের মৃত কছর আলীর ছেলে চিকিৎসক শরীফ ওই গৃহবধূর স্তনে টিউমার হয়েছে বলে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য তাকে ময়মনসিংহের সেহরা এলাকার কুন্ডু প্যাথলজিতে পাঠান। সেখানে পরীক্ষায় ফোঁড়াকে টিউমার চিহ্নিত করে তাতে ক্যান্সার রয়েছে বলে রোগীকে ঢাকায় পাঠানো হয়। চিকিৎসক শরীফ ১১ নভেম্বর ওই গৃহবধূর স্বামী সোলাইমান মিয়ার কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে প্রথমে ঢাকার উত্তরার আব্দুল্লাহপুর এলাকার আইচি ক্লিনিকে ভর্তি করান এবং পরে শাহবাগের মডিউল জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে ১৫ নভেম্বর তার বাম স্তন কেটে ফেলেন। পরবর্তীতে বায়োপসি করার জন্য প্রথমে ধানমন্ডির আনোয়ারা মেডিকেল সার্ভিসেস ও পরে ঢাকা মেডিকেলে পাঠানো হলে সেখান থেকে জানানো হয়, স্তনে কোনো ক্যান্সার নেই। পরে গৃহবধূর স্বামী চিকিৎসক শরীফের শরণাপন্ন হলে তিনি বলেন, ভুল চিকিৎসা হয়েছে, প্লাস্টিক সার্জারি করে বিকল্প স্তন লাগিয়ে দেবো। ওই ঘটনায় ২৯ ডিসেম্বর শেরপুরের সিআর আমলী আদালতে ওই ২ চিকিৎসককে আসামি করে একটি নালিশী মামলা দায়ের হলে ৪ জানুয়ারি আদালতের নির্দেশে মামলাটি রেকর্ড হয়। এরপরও ডা. শরিফুল ইসলাম শরিফ আদালত থেকে কোনপ্রকার জামিন না নিয়েই ঢাকা থেকে শেরপুর এসে নিয়মিত ব্যক্তিগত চেম্বারে রোগী দেখছিলেন। এর প্রতিবাদে মহিলা পরিষদসহ বেশ কিছু সংগঠন মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদানসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছিল। বিষয়টি নিয়ে দৈনিক জনকণ্ঠসহ স্থানীয় ও জাতীয় পত্র-পত্রিকায় বিস্তর লেখালেখিও হচ্ছিল।
এদিকে ডাঃ শরীফকে গ্রেফতারের ঘটনায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন জেলা মহিলা পরিষদের সভানেত্রী জয়শ্রী দাস লক্ষ্মী। তিনি একইসাথে মামলার অপর আসামী ডাঃ কে.কে কুন্ডুকেও দ্রুত গ্রেফতার করে উভয়কে বিচারের মুখোমুখি করার দাবি জানিয়েছেন।




