নকলা প্রতিনিধি : শেরপুরের নকলা উপজেলার বানের্শ্বদী ইউনিয়নে ৬ মে শনিবার বিকেলে আওয়ামী লীগ নেতা আনতাজ মিয়ার (৫০) বসত বাড়ীতে বিএনপি’র পরাজিত চেয়ারম্যান প্রার্থীর নেতৃত্বে সশস্ত্র হামলা হামলা চালানো হয়েছে। এ ঘটনায় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদকসহ ১০ আওয়ামীলীগ নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন। গুরুতর আহত দুইজনের অবস্থা আশংকা জনক বলে জানা গেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিকেলে ওই ইউনিয়নের পুলাদেশী মুজারের বাজারে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক মোকামে মোহাম্মদ শামীমসহ কয়েকজন নেতা একটি সালিসী সভা করতে যান। এসময় স্থানীয় একটি চায়ের দোকানে শামীমকে বিএনপি’র পড়াজিত চেয়ারম্যান প্রার্থী শফিকুল ইসলাম শিবু, তাঁর চাচাতো ভাই রফিকুলের ছেলে বাপ্পি ও ইনসানসহ ২০-২৫ জন নেতাকর্মী আটকিয়ে মাথায় পিস্তল ঠেকায়। এসময় শামীমের সাথে থাকা মফিজুলসহ স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতারা এগিয়ে এলে বিএনপি’র নেতাকর্মীরা তাদের ধাওয়া করে। ভয়ে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা স্থানীয় নেতা আনতাজ মিয়ার বাড়ীতে আশ্রয় নেয়।
এক পর্যায়ে শফিকুল ইসলাম শিবু মসজিদের মাইক থেকে বিএনপি নেতাকর্মীদের ডাকতে থাকে। পরে সশস্ত্র অবস্থায় বিএনপি’র নেতাকর্মীরা আনতাজ মিয়ার বাড়ীতে হামলা চালায়। ওইসময় দায়ের কোপে আনতাজ মিয়া তাঁর ছোট ভাই আনার (৪৫) আওয়ামীলীগ নেতা শামীমসহ ১০ জন গুরুতর আহত হন। খবর পেয়ে নকলা থেকে পুলিশ গিয়ে ঘটনাস্থল থেকে আহতদের উদ্ধার করে নকলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। চিকিৎসকরা জানান, আহত আনতাজ ও তার সহোদর আনারের অবস্থা আশংকাজনক।
এদিকে ঘটনা জানাজানি হলে বানেশ্বর্দী এলাকা থেকে লাঠি-সোঠা নিয়ে আওয়ামী লীগের কয়েক হাজার সমর্থক মুজারের বাজারের দিকে যাওয়ার প্রস্তুতি নিলে স্থানীয় চেয়ারম্যান মাযহারুল আনোয়ার মহব্বত ও পুলিশ কর্মকর্তাদের বাধায় ঘটনাস্থলে যেতে পারেনি। পরে পুলিশের আশ্বাসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আসে।
ঘটনা সর্ম্পকে জানতে চাইলে ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মাফিজুল হক জানান, গত ৩১ মার্চ বানেশ্বর্দী ইউনিয়নের নির্বাচনের দির্ন বানেশ্বর্দী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এক অন্ধব্যক্তির ভোট দেওয়াকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ নেতা শামীম ও যুবদল নেতা বাপ্পির মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। সেই ঘটনার জেরেই বিএনপি চেয়ারম্যান প্রার্থী এ হামলা চালিয়েছে বলে তিনি জানান।
এ ব্যাপারে বিএনপি নেতা শফিকুল ইসলাম শিবুর সাথে সাংবাদিকরা যোগাযোগ করলে তিনি মোবাইল ফোন ধরেননি।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে নকলা থানার ওসি মো. গোলাম হায়দার বলেন, এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। আসামীদের ধরতে অভিযান চলছে।




