স্টাফ রিপোর্টার : চতুর্থ দফার আওতায় শেরপুর সদরের অবশিষ্ট ৭টি ইউনিয়ন ও সীমান্তবর্তী ঝিনাইগাতী উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ৭ মে শনিবার। ওই ১৪ ইউনিয়নের মধ্যে শেরপুর সদরের কামারিয়া ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ প্রার্থী আব্দুল বারী চাঁন ইতোমধ্যে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ায় এখন চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন হবে ১৩ ইউনিয়নে। ওই নির্বাচনে শেরপুর সদরে চেয়ারম্যান পদে ২৫ জন প্রার্থী এবং ঝিনাইগাতীতে ৩৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাদের মধ্যে প্রধান দুই রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপিসহ কোন কোন ইউনিয়নে তাদের বিদ্রোহী প্রার্থী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা শেষ মুহূর্তের প্রচার-প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন।
তবে ২৩ এপ্রিল তৃতীয় দফায় অনুষ্ঠিত শেরপুর সদরের ৬টি ইউনিয়নের মধ্যে ৪ টিতেই নানা মেরুকরণে আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা হেরে যাওয়ায় দলের চতুর্থ দফায় অনুষ্ঠেয় প্রার্থীরা অনেকটাই দুঃশ্চিন্তায় ভুগছেন। বিদ্রোহী প্রার্থীই তাদের গলার কাটা বলে ভাবা হচ্ছে। ফুরফুরে মেজাজে রয়েছেন বিদ্রোহী প্রার্থীরাই। অন্যদিকে ২/৩টি ইউনিয়ন ছাড়া অন্যান্য ইউনিয়নগুলোতে বিএনপি ও জাতীয় পার্টির অবস্থান একেবারেই নড়বড়ে।
জেলা নির্বাচন অফিসের তথ্যমতে, সদর উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে ভোটার সংখ্যা রয়েছে ১ লক্ষ ৩৩ হাজার ১শ ৭০ জন। ভোটকেন্দ্র ৭৩টি ও বুথ সংখ্যা ৩৩৪টি। আর ঝিনাইগাতী উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে ভোটার সংখ্যা ১ লক্ষ ১৯ হাজার ৮শ ১০ জন। ভোটকেন্দ্র ৬৯ টি ও বুথ সংখ্যা ৩৮০টি।
শেরপুর সদরের যেসব ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে সেগুলো হচ্ছে কামারিয়া, বাজিতখিলা, পাকুড়িয়া, ধলা, রৌহা, ভাতশালা ও গাজীরখামার ইউনিয়ন। এর মধ্যে কামারিয়া ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদ ব্যতীত এখন কেবল সাধারণ ও সংরক্ষিত সদস্য পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
বাজিতখিলা ইউনিয়নে লড়ছেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আমীর আলী সরকার, বিএনপি প্রার্থী মজিদুল হক মাসুদ, স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল হাসান খুররম (আনারস) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান (ঘোড়া)। এ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের কোন বিদ্রোহী প্রার্থী নেই। এছাড়া বিএনপি প্রার্থী ও ঘোড়া প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থীর অবস্থান না থাকায় আওয়ামী লীগ প্রার্থীর সাথে আনারস প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থীর মূল লড়াই হবে। তবে হ্ইুপ আতিউর রহমান আতিকের মাধ্যমে উন্নয়ন ও ক্লিন ইমেজের কারণে আমীর আলী সরকার অনেকটাই সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
পাকুড়িয়া ইউনিয়নে বিএনপি ও জাতীয় পার্টির কোন প্রার্থী নেই। এ ইউনিয়নে লড়ছেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী হায়দার আলী, বিদ্রোহী প্রার্থী আফজল হোসেন (চশমা), জাসদ প্রার্থী মোশারফ হোসেন ও স্বতন্ত্র প্রার্থী গোলাম মোস্তফা (আনারস)। এ ইউনিয়নে প্রথম থেকে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর সাথে কারও কোন লড়াই নেই বলে ভাবা হলেও শেষ মুহূর্তে তাকেও শক্তভাবে লড়াই করতে হচ্ছে।
ধলা ইউনিয়নে লড়ছেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী, সাবেক চেয়ারম্যান রহিজ উদ্দিন, বিএনপি প্রার্থী জাকির হোসেন, জাসদ প্রার্থী বজলুর রহমান বিপ্লব ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী বিদায়ী চেয়ারম্যান তছলিম উদ্দিন (আনারস)। এ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর সাথে বিদ্রোহী প্রার্থীর দ্বিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে।
রৌহা ইউনিয়নে বিএনপি ও জাতীয় পার্টির কোন প্রার্থী নেই। এ ইউনিয়নে লড়ছেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী, সাবেক চেয়ারম্যান সাইফুজ্জামান সোহেল ও বিদ্রোহী প্রার্থী শফিকুল ইসলাম মিজু (আনারস)। আওয়ামী লীগের ঘাটি হিসেবে পরিচিত এ ইউনিয়নে প্রাথমিক পর্যায়ে আওয়ামী লীগ প্রার্থী সুবিধাজনক অবস্থানে থাকবেন বলে ভাবা হলেও টানা ৩ বারের একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী শফিকুল ইসলাম মিজুর পক্ষে বিদায়ী চেয়ারম্যান ওমর আলী মোল্লা প্রকাশ্যে অবস্থান নেওয়ায় দৃশ্যপট ভিন্নরূপ ধারণ করেছে। এখানে তুমুল লড়াই হবে।
ভাতশালা ইউনিয়নে লড়ছেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, বিএনপি প্রার্থী ছানোয়ার হোসেন ও আওয়ামী লীগের ৩ বিদ্রোহী প্রার্থী নাজমুন নাহার (মোটর সাইকেল), আবুল কাশেম খান (আনারস) ও খলিলুর রহমান (চশমা) সহ ৫ প্রার্থী। আওয়ামী লীগের ঘাটি বলে পরিচিত এ ইউনিয়নে বিএনপি প্রার্থী অবস্থান নড়বড়ে। বিদ্রোহী প্রার্থীদের মধ্যে নাজমুন নাহার ক্রমেই অগ্রসর হচ্ছেন বলে গুঞ্জন শোনা গেলেও মূলতঃ এখনও সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী।
গাজীরখামার ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ প্রার্থী আওলাদুল ইসলাম, বিএনপি প্রার্থী একেএম গোলাম সারোয়ার, জাতীয় পার্টি প্রার্থী বিদায়ী চেয়ারম্যান তাজুল ইসলাম হেলাল, জাসদ প্রার্থী, সাবেক চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান, স্বতন্ত্র আব্দুল আলিম (আনারস) ও নুরুজ্জামান (মটর সাইকেল)। এখানে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর সাথে জাতীয় পার্টি ও জাসদ প্রার্থীর ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে এবং শেষ মুহূর্তে আওয়ামী লীগ প্রার্থীই বেরিয়ে আসতে পারেন।
ঝিনাইগাতী উপজেলার সদর ইউনিয়নে লড়ছেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী, বিদায়ী চেয়ারম্যান মোঃ জয়নাল আবেদীন খাঁন, বিএনপি প্রার্থী মোঃ শাহজাহান আকন্দ, আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী প্রার্থী মোঃ মোফাজ্জল হোসেন চাঁন (আনারস) ও আবু বক্কর সিদ্দিক তোতা (ঘোড়া), জাতীয় পার্টির প্রার্থী মোঃ জামাল উদ্দিন এবং কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ প্রার্থী মোঃ সুন্দর আলীসহ ৬ জন। এ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি প্রার্থীর সাথে আনারস প্রতীকের বিদ্রোহী প্রার্থীর ত্রিমুখী লড়াই হতে পারে।
কাংশা ইউনিয়নে সর্বাধিক ৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হচ্ছেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী মোঃ জহুরুল হক, আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী প্রার্থী মোঃ আনার উল্লাহ (মোটর সাইকেল), বিদায়ী চেয়ারম্যান মোঃ আব্দুর রউফ সরকার (ঘোড়া) ও আজিজুল হক ধুলু (চশমা), বিএনপি প্রার্থী মোঃ আতাউর রহমান, ইসলামী আন্দোলন প্রার্থী নুরুল আমিন, স্বতন্ত্র প্রার্থী সুলতান আহম্মেদ (আনারস), জাসদ প্রার্থী মোঃ শহিদুল ইসলাম এবং কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের প্রার্থী মোঃ খোরশেদ আলী। এ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি প্রার্থীর সাথে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী কোন প্রার্থীর ত্রিমুখী লড়াই হতে পারে।
নলকুড়া ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী মোঃ আইয়ুব আলী ফর্সা ও বিএনপি প্রার্থী মোঃ রুকুনুজ্জামানের সাথে লড়ছেন বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী দু’দফার চেয়ারম্যান মোঃ খলিলুর রহমান। এ ইউনিয়নে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীর সাথে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর দ্বিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা থাকলেও অন্যান্য ইউনিয়নের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী।
ধানশাইল ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী মোঃ শফিকুল ইসলামের সাথে লড়ছেন বিএনপির একক প্রার্থী মোঃ আব্দুর রশিদ।
গৌরীপুর ইউনিয়নে লড়ছেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী মোঃ হাবিবুর রহমান মন্টু, বিএনপি প্রার্থী মোঃ আব্দুছ সালাম ও স্বতন্ত্র প্রার্থী, সাবেক জামায়াত নেতা বিদায়ী চেয়ারম্যান মোঃ সুলতান আহাম্মেদ খোকা (আনারস)। এ ইউনিয়নে অনেকে ত্রিমুখী লড়াইয়ের কথা ভাবলেও মাঠ পর্যায়ের অবস্থা অনুযায়ী সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী।
মালিঝিকান্দা ইউনিয়নে লড়ছেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী মোঃ মোজাম্মেল হক, বিএনপি প্রার্থী মোঃ আব্দুল বাদির, জাতীয় পার্টি প্রার্থী মোঃ ফারুকৃজ্জামান, জাসদ প্রার্থী মোঃ মোখলেছুর রহমান ও স্বতন্ত্র প্রার্থী নুরুল ইসলাম তোতা (মোটর সাইকেল)। এ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি প্রার্থীর সাথে স্বতন্ত্র প্রার্থী নুরুল ইসলাম তোতার ত্রিমুখী লড়াইয়ের গুঞ্জন শোনা গেলেও ক্রমেই সুবিধাজনক অবস্থানে চলে যাচ্ছেন নুরুল ইসলাম তোতা।
হাতীবান্ধা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ প্রার্থী মোঃ নুরুল আমিন দুলা, বিএনপি প্রার্থী মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মোঃ নাছির উদ্দিন (আনারস), ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মোঃ মনিরুল ইসলাম ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মোঃ আমিনুল ইসলাম খুরু (ঘোড়া) সহ ৫ প্রার্থী লড়ছেন। এখানে আওয়ামী লীগ-বিএনপির দ্বিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে।




