স্টাফ রিপোর্টার : প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের উদ্যোগে শেরপুরে ‘শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার কারণ ও রোধকল্পে করণীয়’ শীর্ষক দিনব্যাপি এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৩০ এপ্রিল শনিবার সকালে শেরপুর সার্কিট হাউজ মিলনায়তনে ওই কর্মশালার উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মোঃ নুরুল আমিন। ওইসময় তিনি বলেন, ২০১১ সালে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট আইন প্রণয়ন এবং ২০১২ সালে ওই বিষয়ে বিল পাসের আলোকে ২০১৪ সাল থেকে ট্রাস্টের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এর মাধ্যমে ষষ্ঠ থেকে স্নাতক ও সমমান পর্যন্ত দরিদ্র মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের বিনা বেতনে শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি ও উপবৃত্তি প্রদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এজন্য আর্থিক সহায়তা প্রদানে চলমান ফান্ডে স্থিতির পরিমাণ রয়েছে ১ হাজার ২শত ৫ কোটি টাকারও ওপরে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার আলোকে ২০১৩/১৪ অর্থবছরে উপবৃত্তি বিতরণ কার্যক্রমে ছাত্রীদের পাশাপাশি ছাত্রদেরও অন্তর্ভূক্ত করে স্নাতক ও সমমান পর্যায়ের ১ লক্ষ ৬৩ হাজার ৭৯ জন শিক্ষার্থীর মাঝে ৯১ কোটি ৬৫ লাখ ৩ হাজার ৯শ ৮০ টাকা বিতরণ করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক ডাঃ এ এম পারভেজ রহিমের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী পর্বে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক ট্রাস্টের কার্যক্রম উপস্থাপন করেন সহকারি পরিচালক (প্রশাসন) মোস্তফা জামান। ওইসময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) অঞ্জন চন্দ্র পাল, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ সৈয়দ উদ্দিন ও প্রেসক্লাব সভাপতি রফিকুল ইসলাম আধার উপস্থিত ছিলেন। সঞ্চালনায় ছিলেন এনডিসি অভিষেক দাস।
জেলা প্রশাসন ও জেলা শিক্ষা অফিসের আয়োজনে কর্মশালায় কলেজ পর্যায়ে ঝরে পড়া রোধে শেরপুর সরকারি কলেজের সহকারি অধ্যাপক শিব শংকর কারুয়া শিবু, মাদ্রাসা পর্যায়ে ঝরে পড়া রোধে ইদ্রিসিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ফজলুর রহমান ও স্কুল পর্যায়ে ঝরে পড়া রোধে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন শেরপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জীবন কৃষ্ণ বসু। মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন ডাঃ সেকান্দর আলী ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ শহীদুল ইসলাম, তারাগঞ্জ ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মোশারফ হোসেন, আব্দুল হাকিম উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক যোগেন্দ্র চন্দ্র রায়, আতিউর রহমান মডেল গার্লস স্কুলের প্রধান শিক্ষক গোলাম মোস্তফা প্রমুখ। পরে কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীরা ৬টি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে স্কুল, মাদ্রাসা ও কলেজ পর্যায়ে শিক্ষার্থী ঝরে পড়া রোধে করণীয় বিষয়ে তাদের প্রস্তাবনা পেশ করেন। কর্মশালায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান, সাংবাদিক প্রতিনিধি ও শিক্ষার্থীসহ ৫০ জন প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন।




