আবুল হাশিম, শেরপুর : শেরপুর অফিসার্স কোয়াটার ভবন শহরের বাইরে হওয়ায় এবং বেসরকারি বাসা ভাড়ার চেয়ে সরকারি কোয়ার্টারের ভাড়া বেশি হওয়াতে কোয়ার্টার ভবনগুলো বছরের পর বছর খালি পড়ে নষ্ট হচ্ছে।
জানা যায়, শেরপুর অফির্সাস কোয়ার্টার ভবন ১৯৮৫ সালে গণপূর্ত বিভাগের মাধ্যমে নির্মাণ করা হয়। ৩ তলা বিশিষ্ট পদ্মা, মেঘনা, যমুনা নামে ৩টি বিল্ডিং এ প্রতি তলায় দু’টি করে ইউনিটে মোট ১৮টি ইউনিট আছে। বেশিরভাগ সময় কোয়াটারগুলো খালি পরে থাকে। বর্তমানে পদ্মা নামক ভবনটিতে দোতলায় দুই ইউনিটের একটিতে অতিরিক্ত জেলা জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) এটিএম জিয়াউল এবং অন্যটিতে স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক মোঃ এনামুল হক থাকেন। ওই দু’টি পরিবার প্রায় এক বছর যাবত এখানে বসবাস করছে এবং ৩ তলায় দুই ইউনিটের এক ইউনিটে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) অঞ্জন চন্দ্র পাল দীর্ঘদিন যাবৎ বসবাস করছেন। তিন তলায় একটি এবং নিচের তলার দুই ইউনিট খালি পড়ে আছে। ভবনগুলোর মধ্যে একটি মোটামুটি ভাল আছে, কিন্তু অপর দু’টি ভবনের করুণ অবস্থা। দীর্ঘ দিন থেকে খালি ও তালাবদ্ধ থাকায়, দরজা জানালার কবজাগুলোতে মরিচা এবং দেওয়ালে শেওলা পড়ে গেছে। নিচের তলায় বেশির ভাগ কক্ষে আগাছায় ভরে গেছে, মেঝে স্যাঁতসেতে হয়ে পড়েছে। জায়গায় জায়গায় দেয়ালের প্লাষ্টার খসে পড়ছে এবং নিচের কোয়ার্টারগুলোর জানালার গ্লাস ভেঙ্গে। এখানে ২০০২ সালের ৬ মার্চ শেরপুর লেডিস ক্লাব নামে একটি হাফ বিল্ডিং ভবন উদ্বোধন করা হলেও বর্তমানে এর কার্যক্রম নেই বললেই চলে।
শেরপুরের সরকারি গেজেটেড অফিসার কোয়ার্টার শহরের বাইরে শেরপুর-জামালপুর ফিডার রোডের পাশে অবস্থিত। জেলা পরিষদ ভবন, জেলা সার্কিট হাউজ, এলজিইডি ভবন ও রোডস এন্ড হাইওয়ে ভবনগুলোও কাছাকাছি অবস্থিত। তবে জেলা প্রশাসক অফিস, জজ কোর্ট, পুলিশ সুপার অফিসসহ ভাল স্কুল ও হাট-বাজারগুলো শহরের মধ্যে হওয়ায় যাতায়াতের সময় ও খরচের প্রশ্ন আছে। কিন্তু শহরের ভাড়া বাসায় থাকলে ওই অসুবিধাগুলো থাকে না, আবার বাসা ভাড়াও অনেক কম পড়ে।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) অঞ্জন চন্দ্র পাল বলেন, শেরপুরে আসার পর থেকেই সরকারি কোয়ার্টারে আছি। সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে সরকারি বাসাতে থাকতেই আমি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। তাই যতদিন শেরপুরে থাকবো, সরকারি বাসাতেই থাকবো।
বর্তমানে বেতন অনুযায়ী সরকারি বাসা ভাড়া দিতে হয় মাসে ১০ হাজার টাকা, তবে শেরপুরে বেসরকারিভাবে ৫ হাজার টাকায় ভাল বাসা ভাড়া পাওয়া যায়। জুন-জুলাই থেকে সরকারি কর্মকর্তাদের বেতন বৃদ্ধি পেলে সরকারি বাসা ভাড়াও হয়ত দ্বিগুণ হয়ে যাবে। তখন এতো টাকা বাসা ভাড়া দিয়ে কোন সরকারি কর্মকর্তাই আর কোয়ার্টারে হয়ত থাকতে চাইবেন না। বর্তমান পরিস্থিতির চেয়ে তখন সরকারি বাসায় ভাড়াটিয়া পাওয়া আরও কঠিন হবে। বিভাগীয় শহরগুলোতে সরকারি বাসা ভাড়ার চেয়ে বেসরকারি বাসা ভাড়া বেশি। তাই সেখানে সরকারি বাসার চাহিদা বেশী। কিন্তু জেলা শহরগুলোতে এর ঠিক উল্টো অবস্থা। এখানে সরকারি বাসা ভাড়া থেকে বেসরকারি বাসা ভাড়া অনেক কম।
স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক মোঃ এনামুল হক বলেন, সরকারি বাসায় একসাথে অনেক সরকারি কর্মকর্তা পরিবারসহ থাকলে এর পরিবেশটাই আলাদা হবে। বাইরে পাবলিক ভাড়া বাসায় থাকলে সেটা পাওয়া যাবে না। সরকারি কোয়ার্টারের ক্যাম্পাস অনেক বড় খোলামেলা, চারিদিকে বাউন্ডারি এবং গেইট আছে। বাচ্চারা খেলার জন্য নিরাপদ মাঠ পায়। এক ভবন থেকে অন্য ভবনে যাতায়াতের জন্য পাকা রাস্তা আছে। নাইটগার্ড, কেয়ারটেকার ও মালীর ব্যবস্থা হলে এখানের পরিবেশ আরও নিরাপদ ও সুন্দর হবে। সরকারিভাবে কোয়ার্টারে ভাড়া আবার পূনরায় বিবেচনা করলে,সরকারি কর্মকর্তারা এখানে বসবাস করতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবে। আর ১৮টি কোয়ার্টারের মধ্যে ১৫টি খালি পড়ে থেকে নষ্ট হবে না, আর সরকারও বাসা ভাড়া ঠিকমতো পাবে।
এ ব্যাপারে গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ আব্দুল হাফিজ জানান, শেরপুরের সরকারি গেজেটেড অফিসার্স কোয়ার্টার শহরের এক প্রান্তে হওয়ায় এবং সরকারি বাসার চেয়ে বেসরকারি বাসা ভাড়া অনেক কম হওয়ায় ও সুযোগ সুবিধা বেশি হওয়ায় সরকারি কর্মকর্তারা বেসরকারি বাসাতে থাকতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন। তাই সরকারি কোয়ার্টারগুলো খালি পড়ে নষ্ট হচ্ছে।




