স্টাফ রিপোর্টার : শেরপুরে চাঞ্চল্যকর শিশু রাহাত হত্যা মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষ্যগ্রহণ ও আসামী পরীক্ষা শেষ হয়েছে। ৮ মার্চ মঙ্গলবার দুপুরে ফৌজদারী কার্যবিধির ৩৪২ ধারা মোতাবেক আসামী পরীক্ষাকালে কারাগার থেকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে নিয়ে আসা আসামী লতিফ (২১), রবিন মিয়া (২০), আসলাম বাবু (২২) ও ইমরান হোসেন (২১) নিজেদের নির্দোষ দাবি করলেও সাফাই সাক্ষ্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। পরে ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোঃ সায়েদুর রহমান খান মামলায় আগামী ১৫ মার্চ যুক্তিতর্কের জন্য তারিখ নির্ধারণ করেন। অন্যান্য দিনের মতো মঙ্গলবার জেলা কারাগার থেকে কড়া নিরাপত্তায় ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয় হাজতী ৪ আসামীকে। এদিনও তারা ছিল একেবারেই ভাবলেশহীন।
রাহাত হত্যা মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ করে আসামী পরীক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করে ট্রাইব্যুনালের পিপি এডভোকেট গোলাম কিবরিয়া বুলু জানান, এখন যুক্তিতর্ক শেষ হলেই স্বল্পতম সময়ের মধ্যে মামলাটির রায়ের তারিখ নির্ধারণ করা হবে। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, এ মাসেই চাঞ্চল্যকর এ মামলার বিচার শেষ হতে পারে।
উল্লেখ্য, গত বছরের ২ আগস্ট দুপুরে শেরপুর শহরের শিববাড়ি এলাকার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী শহীদুল ইসলাম খোকনের ছেলে এবং স্থানীয় বিপ্লব-লোপা মেমোরিয়াল স্কুলের প্রথম শ্রেণির ছাত্র আরাফাত ইসলাম রাহাতকে (৮) তার আপন খালু আব্দুল লতিফসহ কয়েকজন দুর্বৃত্ত অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি করে। অপহরণের ৬ দিন পর ৮ আগস্ট দুপুরে নালিতাবাড়ীর মধুটিলা ইকোপার্ক সংলগ্ন পাহাড় থেকে অপহৃত শিশু রাহাতের কঙ্কাল উদ্ধার করে পুলিশ। ওই ঘটনায় নিহত রাহাতের খালু লতিফসহ অপর তিন আসামী রবিন মিয়া, আসলাম বাবু ও ইমরান আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। তদন্ত শেষে পুলিশ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৭/৮/৩০ ধারা এবং তৎসহ দঃবিঃ ৩০২/২০১/৩৪ ধারায় ২৯ নবেম্বর লতিফসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে। পরবর্তীতে নিম্ন আদালত ১৩ ডিসেম্বর মামলাটি বিচারের জন্য ট্রাইব্যুনালে পাঠালে ৩ ফেব্রুয়ারি ৪ আসামীর বিরুদ্ধেই অভিযোগ গঠন করে ট্রাইব্যুনাল। এরপর ৯ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া রাষ্ট্রপক্ষের ২৭ জন সাক্ষীর মধ্যে সকলের জবানবন্দি-জেরা গ্রহণ করা হয়।




