স্টাফ রিপোর্টার ॥ শেরপুর সীমান্তে র্যাবের দ্বিতীয় দফা অভিযানে আরও ৫ হাজার ২শ ৫৭টি গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার রাতে নালিতাবাড়ী উপজেলার সীমান্তবর্তী কালাপানি এলাকার চেংবেড় পাহাড়ের গহীন অরণ্য থেকে ওইসব গুলি উদ্ধার করা হয়। এ নিয়ে ওই পাহাড়ি টিলার মাটি খুঁড়ে লুকিয়ে রাখা গুলি উদ্ধারের মোট সংখ্যা দাঁড়াল ৪৮ হাজার ২শ ৫৭টি। প্রথম দফায় গুলি উদ্ধারের সংখ্যা ছিল ৪৩ হাজার। আর উদ্ধারকৃত অস্ত্রের সংখ্যা ৬০টি। এদিকে বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদসহ অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় সোমবার রাতেই নালিতাবাড়ী থানায় অস্ত্র আইনে একটি মামলা দায়ের করেছে র্যাব। র্যাব-৫ এর ডিএডি মামুনুর রশিদ বাদী হয়ে দায়ের করা ওই মামলায় আসামী করা হয়েছে অজ্ঞাতনামা। মঙ্গলবার দুপুরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আরিফ মামলায় জব্দকৃত আলামতের সংখ্যা বেশি এবং তা রক্ষণাবেক্ষণ ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় কিছু আলামত তদন্ত কার্যক্রমের জন্য রেখে বাকী সবগুলো সশস্ত্র বাহিনীর অস্ত্রাগারে প্রেরণের আবেদন জানালে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জিনিয়া জাহান তা বিবেচনাক্রমে প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ, ঢাকা বরাবরে প্রেরণের আদেশ দেন।
দ্বিতীয় দফায় ৫ হাজার ২শ গুলি উদ্ধারের সত্যতা নিশ্চিত করে অভিযানে নেতৃত্বদানকারী র্যাব-৫-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল মাহবুব আলম মঙ্গলবার দুপুরে শেরপুর আদালত অঙ্গণে জানান, বুরুঙ্গা সীমান্তে দ্বিতীয় দিনের মতো অভিযান চলছে। তবে অস্ত্র উদ্ধার অভিযান এখন প্রায় শেষের পথে। অভিযান শেষ হলেও অবস্থার আলোকে ওই এলাকাসহ সীমান্তে র্যাব নজরদারী রাখবে।
উল্লেখ্য, সোমবার সকাল থেকে র্যাব-৫ ও র্যাবের ইন্টিলেজেন্স উইংয়ের অভিযানে নালিতাবাড়ী সীমান্তের মধুটিলা ইকোপার্কের অদূরে কালাপানি চেংবেড় পাহাড়ের গহীন অরণ্যের মাটি খুড়ে ৪৩ হাজার গোলাবারুদ ও ভারী পর্যায়ের ৬০টি অস্ত্র উদ্ধার করে। উদ্ধারকৃত গোলাবারুদের মধ্যে বিমান বিধ্বংসী কামানের গুলি, মেশিনগান, পিস্তল ও বিভিন্ন ধরনের রাইফেলের গুলি রয়েছে। এছাড়া উদ্ধারকৃত অস্ত্রের মধ্যে বিমান বিধ্বংসী স্পেয়ার ব্যারেল একটি, ভারী মেশিনগান ২টি, মেশিনগানের স্পেয়ার ব্যারেল পাঁচটি, স্নাইপার রাইফেল দুইটি, একে-৫৬ রাইফেল একটি, ৭.৬২ এমএম পিস্তল ২টিসহ মোট ৬০টি অস্ত্র রয়েছে। উদ্ধারকৃত সামরিক সরঞ্জামের মধ্যে রয়েছে ম্যাগজিন ৩৭টি, ওয়াকিটকি ৬টি, কিন সেন্টার ক্রানভাস, ক্রানভাস ২টি, কম্পাস ২টি, ডিসি চার্জার এক ভোল্টের ২টি, স্যাটেলাইট ফোন ৫টি, টেলিস্কোপিক সাইট ৫টি, এইচএফ সেট ৪টি, ড্রাম ম্যাগজিন ৭টিসহ বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জামাদি।
এরপর একই দিন বিকেলে ঘটনাস্থলে র্যাবের লিগ্যাল এইড অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক উইং কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, সারা দেশেই র্যাব অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারে অভিযান পরিচালনা করছে। এর অংশ হিসেবে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ওই এলাকায় অভিযান চালায়।




