ads

বৃহস্পতিবার , ৩১ ডিসেম্বর ২০১৫ | ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  1. ENGLISH
  2. অনিয়ম-দুর্নীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আমাদের ব্লগ
  6. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  7. ইসলাম
  8. উন্নয়ন-অগ্রগতি
  9. এক্সক্লুসিভ
  10. কৃষি ও কৃষক
  11. ক্রাইম
  12. খেলাধুলা
  13. খেলার খবর
  14. চাকরির খবর
  15. জাতীয় সংবাদ

বিদায় ঘটনাবহুল ২০১৫, বর্ণিল নতুন বছরের প্রত্যাশা

শ্যামলবাংলা ডেস্ক - ফটো কার্ড
ডিসেম্বর ৩১, ২০১৫ ৫:১৯ অপরাহ্ণ

sunsetশ্যামলবাংলা ডেস্ক : কালের স্রোতে হারিয়ে যাচ্ছে আরো একটি বছর-খ্রিষ্টীয় ২০১৫ সাল। মহাকালের মানদণ্ডে একটি বছর খুব অল্প সময় হলেও একটি জাতির উত্থান-পতনে এই সময়টুকুই একটি ভালো সূচক হতে পারে।
বিদায়ী বছরটি বাংলাদেশের মানুষের জন্য অবিমিশ্র কানো ভালো সংবাদ বয়ে আনেনি। বছরটি ছিল অনিশ্চয়তায় ভরপুর। এ সময় দেশবাসী যতটা না ভালো সংবাদ শুনেছে তার চেয়ে বেশি দুঃসংবাদে আঁৎকে উঠেছেন।
রাজনৈতিক হানাহানি, বিনিয়োগে চরম খরা, জঙ্গিবাদের উত্থান, গণতন্ত্র নিয়ে হতাশা, উগ্রপন্থী আর রাষ্ট্রীয় বাহিনীর হাতে ভিন্নমতের মানুষ খুন, শিয়া এবং কাদিয়ানি সম্প্রদায়কে টার্গেট, রাজনৈতিক আন্দোলনে বিপুল সংখ্যক মানুষের প্রাণহানী ছিল ২০১৫ সালে সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা।
তবে পদ্মা সেতুর কাজের অকল্পনীয় অগ্রগতি, ভারতের সাথে স্থল সীমান্ত চুক্তির বাস্তবায়ন, ক্রিকেটে একের পর এক অবিস্মরণীয় জয়, বাংলাদেশকে নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশের স্বীকৃতি, বছর শেষে রাজনৈতিক উত্তেজনা কিছুটা হ্রাসের ঘটনা ছিল অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক।
বিদায়ী বছরের অপ্রাপ্তি আর হতাশাকে পেছনে ফেলে বাংলাদেশের স্বাপ্নিক মানুষ এগিয়ে যাবার দৃঢ়প্রত্যয়ে বরণ করবে নতুন বছরকে।
বাংলাদেশে এই বছরটা শুরুই হয় প্রচণ্ড রাজনৈতিক উত্তাপ দিয়ে। এক বছর আগের বিতর্কিত যে নির্বাচনটিতে যোগ না দিয়ে সরকার ব্যবস্থা থেকে ছিটকে পড়ে দেশটির অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপি, ৫ জানুয়ারি সেই নির্বাচনের এক বছর পূর্তি পালন নিয়ে তারা ক্ষমতাসীন দলের সাথে মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়িয়ে যায়।
৫ জানুয়ারি ঢাকায় একটি বড় সমাবেশকে কেন্দ্র করে তার দুই দিন আগে থেকে প্রশাসন কার্যত অবরুদ্ধ করে রাখে বিএনপি প্রধান খালেদা জিয়াকে। গুলশানের অফিস থেকে বের হতে না পেরে খালেদা জিয়া অব্যহতভাবে একটি অবরোধ কর্মসূচি চালানোর ঘোষণা দেন। শুরু হয় দেশ জুড়ে টানা অবরোধ, সহিংসতা। খালেদা জিয়া গুলশানের কার্যালয়ে দিবারাত্রি অবস্থান করতে থাকেন। একপর্যায়ে ভবনটি থেকে পুলিশ অবরোধ তুলে নিলেও খালেদা জিয়া সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে অস্বীকৃতি জানান। টানা বিরানব্বই দিন সেখানে তিনি অবস্থান করেন।
পুরো সময়টা বাংলাদেশ কার্যত অচল হয়ে পড়ে। রাজনৈতিক সহিংসতায় প্রাণ হারায় শতাধিক মানুষ। বছরের শেষটাও হলো রাজনৈতিক উত্তেজনা দিয়ে। তবে সহিংসতা নয়, এটা ছিল নির্বাচনী উত্তাপ। বছর শেষ হবার একদিন আগে দেশে ২৩৪ পৌরসভায় মেয়র ও কাউন্সিলর নির্বাচনে প্রথমবারের মতো দলীয় প্রতীক নিয়ে ভোটযুদ্ধে নামে প্রার্থীরা। বহুদিন পর এই নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে বিএনপির প্রার্থীদের নির্বাচনে লড়তে দেখা যায়। তবে নির্বাচনে সরকারি দল অপ্রত্যাশিত জয় পায় আর শোচনীয় পরাজয় ঘটে বিএনপির।
হামলার লক্ষ্য ভিন্নমত
২০১৫ সালটি নি:সন্দেহে মানুষের মনে থাকবে দেশজুড়ে চলা ভিন্ন মতাবলম্বী ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও বিদেশি নাগরিকদের উপর সন্ত্রাসী হামলা এবং এ ধরণের বেশ কয়েকটি হত্যাকাণ্ডের কারণে।
২৪ ফেব্রুয়ারি সন্ধেবেলায় বাংলা একাডেমির বইমেলা থেকে ফেরার সময়ে আততায়ীর হামলায় নিহত হন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী ব্লগার অভিজিৎ রায়। এ ঘটনায় মারাত্মক আহত হন তার স্ত্রী রাফিদা বন্যা আহমেদ।
অভিজিৎ দেশের দ্বিতীয় ব্লগার যিনি ভিন্ন মত প্রকাশের জন্য খুন হলেন। প্রথম ঘটনাটি ঘটে ২০১৩ সালে। কিন্তু অভিজিৎ রায়ের হত্যার পর মার্চ থেকে অগাস্ট মাস পর্যন্ত আরো তিনজন ভিন্ন মতাবলম্বী ব্লগার খুন হন। মার্চ মাসে খুন হন ওয়াশিকুর রহমান, মে মাসে অনন্ত বিজয় দাস, অগাস্ট মাসে নিলাদ্রী চট্টোপাধ্যয়।
আর অক্টোবর মাসের শেষ দিন এসে ঢাকায় অন্তত দুটি প্রকাশনা সংস্থায় একযোগে হামলা হয়। প্রকাশনা সংস্থাগুলো থেকে অভিজিৎ রায়ের বেশ কয়েকটি পুস্তক প্রকাশিত হয়েছিল।
এদিন জাগৃতি নামে একটি প্রকাশনা সংস্থার মালিক, ফয়সাল আরেফীন দীপন তার কার্যালয়ে নৃশংস হত্যার শিকার হন।
বিদেশিরাও ছিলেন টার্গেট
এবছর এক সপ্তাহেরও কম সময়ের ব্যবধানে অন্তত দুটি হামলায় প্রাণ হারান দুজন বিদেশি নাগরিক। ২৮ সেপ্টেম্বর রাতে ঢাকার গুলশানে আততায়ীর হামলায় নিহত হন চেজারে তাভেল্লা নামে এক ইতালীয় নাগরিক। আর ৩ সেপ্টেম্বর রংপুরে নিহত হন কুনিও হোশি নামে এক জাপানি নাগরিক।
কাছাকাছি সময় আরো কয়েকজন বিদেশি নাগরিকের উপর হামলা হলেও তারা বেঁচে যান। এই সময়ে বাংলাদেশে ভ্রমণ সতর্কতা জারি করে বিশ্বের অনেক দেশ।
এমনকি হামলার আশঙ্কায় অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় ক্রিকেট দল তাদের বাংলাদেশ সফর বাতিলও করে এই বছর।

Shamol Bangla Ads

সংখ্যালঘুদের উপর হামলা
এই বছর নজিরবিহীন একটি হামলার ঘটনা ঘটে ঢাকায় শিয়া মতাবলম্বীদের পবিত্র দিন আশুরা উপলক্ষে আয়োজিত এক তাজিয়া মিছিলের প্রস্তুতিকালে। ঢাকার পুরনো অংশে ইমামবাড়ায় এই হামলাটি হয় ২৩ অক্টোবর গভীর রাতে। বোমা হামলায় ঘটনাস্থলেই একজন নিহত হয়, আহত হয় অর্ধশতাধিক। যদিও বিশ্বের অনেক দেশেই শিয়া-সুন্নিদের মধ্যেকার বিভেদকে রক্তক্ষয়ী সহিংসতায় রূপ নিতে দেখা যায়, কিন্তু ঢাকার ৪০০ বছরের ইতিহাসে কখনো সংখ্যালঘু শিয়া মতাবলম্বীরা কোনো হামলার শিকার হয়নি। শিয়াদের উপর হামলা ইমামবাড়ার ওই ঘটনাতেই থেমে থাকেনি। ২৬ নভেম্বর বগুড়ার শিবগঞ্জে শিয়া মতাবলম্বীদের একটি মসজিদে নামাজরত মুসল্লিদের উপর এলোপাথাড়ি গুলি চালিয়ে মসজিদের মুয়াজ্জিনকে হত্যা এবং ইমামসহ তিনজনকে আহত করে হামলাকারীরা। ৪ ডিসেম্বর দিনাজপুরের কাহারোলে হিন্দু সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী কান্তজিউ মন্দির প্রাঙ্গণে শতবর্ষ পুরনো এক মেলায় বোমা হামলা হয়। আর ১০ ডিসেম্বর ওই কাহারোলেই কৃষ্ণভক্ত হিন্দুদের আরেকটি মন্দিরে একযোগে বোমা ও গুলি হামলা চালানো হয়। বছরের শেষ দিকে রাজশাহীর বাগমারায় একটি কাদিয়ানি মসজিদে হামলা হয়। এতে একজন মারা যান।

জঙ্গিবাদের উত্থান
বিদেশি ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের স্থাপনায় হামলাগুলোর দায় তথাকথিত ইসলামিক স্টেট জঙ্গি গোষ্ঠীর নাম দিয়ে স্বীকার করা হয়। যদিও এবছর বেশিরভাগ ব্লগার হত্যাকাণ্ডের দায় আল কায়েদার কথিত ভারতীয় উপমহাদেশ শাখা স্বীকার করে। অনেক বিশ্লেষকই এই দায় স্বীকারের ঘটনাগুলোকে বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের উত্থানের এক নতুন মাত্রা হিসেবে বর্ণনা করেন। যদিও সরকার বরাবরই অস্বীকার করে এসেছে বাংলাদেশে আইএসসহ যেকোনো আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠনের উপস্থিতির কথা।

Shamol Bangla Ads

অমানবিক নিষ্ঠুরতা
এবছর অন্তত দুটো নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ড মানুষকে নাড়া দিয়ে গেছে। জুলাই মাসে সিলেটে শিশু রাজন নামে এক শিশুকে নিষ্ঠুরভাবে পিটিয়ে হত্যার ঘটনার দৃশ্য ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোতে ছড়িয়ে পড়বার পর ক্ষোভে ফেটে পড়ে বাংলাদেশের মানুষ। আর অগাস্ট মাসে খুলনায় রাকিব নামে এক শিশুর মলদ্বার দিয়ে মোটরগাড়ির চাকায় হাওয়া দেয়া নল ঢুকিয়ে বাতাস প্রবেশ করিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটে, যা মানুষকে প্রচণ্ড আলোড়িত করে। নভেম্বর নাগাদই দুটো হত্যাকাণ্ডের বিচার শেষ করে দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তির রায় দেয় আদালত। এত দ্রুত কোনো মামলার বিচার করাও বাংলাদেশে ছিল নজিরবিহীন ঘটনা।

বিচ্ছিন্নতাবোধ
২০১৪ সালের একতরফা নির্বাচনের জের ধরে সরকার আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অনেকাংশে কোণঠাসা ছিল বিদায়ী বছরে। বিশেষ করে পশ্চিমা দুনিয়ার সাথে সরকারের সম্পর্কের দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি। এ সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফর ছিল কূটনীতিতে অন্যতম বড় অর্জন।

যুদ্ধাপরাধে ফাঁসি
এবছর যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত তিন শীর্ষস্থানীয় রাজনীতিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে বাংলাদেশে। এপ্রিল মাসে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয় জামায়াতে ইসলামীর নেতা মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের। নভেম্বর মাসে একযোগে কার্যকর করা হয় জামায়াতের শীর্ষস্থানীয় নেতা ও সাবেক মন্ত্রী আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দীন কাদের চৌধুরীর মৃত্যুদণ্ড।

তথ্যপ্রযুক্তি
বিদায়ী বছরটিতে তথ্য প্রযুক্তি খাতের বিকাশে সরকার বেশ জোর দিলেও ফেসবুকসহ বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া ও অ্যাপ বন্ধ রাখা ছিল আলোচিত ঘটনা।

সুখবর
তবে নানা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার মাঝেও কিছু ২০১৫ সালটিতে কিছু ইতিবাচক ঘটনার জন্ম হয়েছে বাংলাদেশে। ক্রিকেটে এই বছর বাংলাদেশ দল যতগুলো একদিনের আন্তর্জাতিকের সিরিজ খেলেছে সবগুলোতেই জয় পেয়েছে। বাংলাদেশের কাছে পরাজিতের তালিকায় রয়েছে ভারত, পাকিস্তান ও দক্ষিণ আফ্রিকার মতো পরাক্রমশালী দল।

এবছরের ৬ জুলাই জাতিসংঘ ঘোষিত ১৫ বছর মেয়াদের মিলেনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোল বা এমডিজি শেষ হবার পর দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশ ক্ষুধা ও দারিদ্র দূরীকরণের লক্ষ্যমাত্রা সফলভাবে পূরণ করেছে। আর বাংলাদেশে বহু বিতর্ক সৃষ্টিকারী একটি মেগা নির্মাণ প্রকল্প পদ্মা সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে এই বছরই। গত ১২ ডিসেম্বর পদ্মা নদীর ওপর ছয় কিলোমিটারেরও বেশি দীর্ঘ এই প্রস্তাবিত সেতুটির মুল অবকাঠামো নির্মাণের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রায় ২৯,০০০ হাজার কোটি টাকার এই প্রকল্পটির সম্পূর্ণ অর্থায়ন করবে বাংলাদেশ সরকার, যা দেশটির ইতিহাসে নজিরবিহীন। এর আগে এই প্রকল্পটিতে বিশ্বব্যাংকসহ কয়েকটি আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থার অর্থায়ন করবার কথা থাকলেও সংস্থাগুলো দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে তাদের অর্থায়ন বাতিল করে দেয়। বিদায়ী বছরে প্রথমবারের মত নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশের স্বীকৃতি আসে বিশ্বব্যাংকের তরফ থেকে। রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও অনিশ্চয়তা থাকলেও বিদায়ী বছরটিতে বাংলাদেশের অর্থনীতি ছিল স্থিতিশীল। সাম্প্রতিক বছরগুলোর ধারাবাহিকতায় অর্থনীতি এখন এতোটাই মজবুত যে সরকারি চাকুরিজীবীদের বেতন প্রায় দ্বিগুণ করার চ্যালেঞ্জ নিয়েছে সরকার।
আন্তজার্তিক
আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ঘটনাবহুল বছর ছিল ২০১৫। অব্যাহত যুদ্ধবিগ্রহ, জঙ্গিবাদী সন্ত্রাস আর ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের পাশাপাশি ঘটেছে ইরান ও ছয় বিশ্বশক্তির সমঝোতা আর যুক্তরাষ্ট্র ও কিউবার মতো দুই ‘চিরশত্রুর’ কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের মতো ঐতিহাসিক ঘটনা। এ সময় ইসলামিক স্টেট নামের জঙ্গিগোষ্ঠীর ভয়ঙ্কর উত্থান ঘটেছে। যদিও বছর শেষে তাদের দাপট কিছুটা কমে এসেছে বলে মনে হচ্ছে। গত জানুয়ারিতে প্যারিসে ব্যঙ্গাত্মক সাময়িকী শার্লি এবদো কার্যালয়ে এবং দুই দিন পরে একই শহরের বিপণিবিতানে বন্দুকধারীদের হামলায় সাংবাদিক, চিত্রশিল্পীসহ মোট ১৭ জন নিহত। শার্লি এবদো মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে কার্টুন প্রকাশ করায় ওই হামলা হয়েছে বলে মনে করা হয়।  গত মার্চে জার্মানির বিমান সংস্থা জার্মানউইংসের একটি বিমান ফ্রান্সে বিধ্বস্ত হয়। নিহত হয় দেড় শ আরোহীর সবাই। তদন্তকারীদের দাবি, বিমানটির কো-পাইলট ইচ্ছা করে এই দুর্ঘটনা ঘটিয়েছেন। মার্চেই ইয়েমেনি প্রেসিডেন্ট আবেদরাব্বো মনসুর হাদির বাহিনীর সমর্থনে দেশটির বিদ্রোহী হুতি শিয়াদের ওপর সৌদি জোটের বিমান হামলা শুরু।

এপ্রিলে রিখটার স্কেলে ৭.৮ মাত্রার ভূমিকম্পে ৮৯০০ লোক নিহত হয়। জুলাইয়ে ৫৪ বছরের বিচ্ছিন্নতার অবসান ঘটিয়ে দুই দেশের মধ্যে পূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপনে ঐতিহাসিক চুক্তি সম্পন্ন হয়। সেপ্টেম্বরে তুর্কি উপকূলে তিন বছর বয়সী সিরীয় শিশু আয়লান কুর্দির পড়ে থাকা লাশের ছবি গণমাধ্যমে আসে। এই ছবি প্রকাশের পরই মধ্যপ্রাচ্য থেকে ইউরোপের দিকে যাওয়া শরণার্থীদের সংকট ব্যাপকভাবে বিশ্ববাসীর নজরে আসে। ২৪ সেপ্টেম্বর সৌদি আরবের মিনায় পদপিষ্টে বহু হাজি হতাহত হন। সৌদির সরকারি হিসাবমতে ২ হাজার ২৩৬ জন হাজির মৃত্যু হয়। তবে অভিযোগ রয়েছে, প্রকৃত সংখ্যা অনেক বেশি। ৩১ অক্টোবর মিশরের শারম আল শেখ অবকাশকেন্দ্র থেকে রাশিয়াগামী বিমান সিনাই উপদ্বীপে বিধ্বস্ত। ২২৪ রুশ নাগরিকের মৃত্যু।

নভেম্বরে মিয়ানমারে বহুল প্রতীক্ষিত নির্বাচনে অং সান সু চির দলের বিপুল বিজয়। ১৩ নভেম্বর ফ্রান্সে স্টেডিয়াম, কনসার্ট হল, পানশালা ও রেস্তোরাঁয় বন্দুকধারী জঙ্গিদের গুলি ও আত্মঘাতী বোমা হামলায় ১৩০ জন নিহত ও কয়েক শ আহত। আইএস এই হামলার দায় স্বীকার করে। ১২ ডিসেম্বর ফ্রান্সে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন থামাতে প্যারিসে জলবায়ু সম্মেলনে ১৯৫ দেশের ঐতিহাসিক চুক্তি হয়।

Need Ads