শ্যামলবাংলা ডেস্ক : ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের বিভিন্ন স্থানে প্রায় একই সময়ে বোমা হামলা ও বন্দুকধারীদের গুলিতে অন্তত ১৫৩ জন নিহত হয়েছেন। প্যারিসের কমপক্ষে ছয়টি স্থানে পরিচালিত এসব হামলায় আরও কয়েকশ’ আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। স্থানীয় সময় শুক্রবার সন্ধ্যায় এসব সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সমূহের খবরে এ তথ্য জানা গেছে।
হামলার পর ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলাঁদ দেশে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন। একইসঙ্গে ফ্রান্সের সঙ্গে অন্যান্য দেশের সীমান্ত বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের পাশাপাশি অন্তত দেড় হাজার সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে প্যারিসের বাসিন্দাদের ঘরে অবস্থান করতে বলা হয়েছে।
প্যারিস সিটি হলের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, হামলার প্যারিসের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত বাটাক্লঁ কনসার্ট হলে অন্তত ১০০ জন নিহত হয়েছেন। মার্কিন ব্যান্ড দল ইগলস অব ডেথ মেটালের কনসার্ট দেখতে ওই হলে জড়ো হয়েছিলেন কয়েক হাজার মানুষ। কনসার্ট চলাকালে হামলাকারীরা সেখানে ঢুকে নির্বিচারে গুলি চালায়। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। হামলাকারীরা পরে সেখানে অনেককে জিম্মি করলে পুলিশ অভিযান চালায়। এতে তিন হামলাকারী নিহত হয়।
অন্য হামলাগুলো হয়েছে স্তাদে দে ফ্রান্স নামে একটি রেস্তোরাঁসহ কয়েকটি রেস্তোরাঁ ও পানশালা রয়েছে এমন পাঁচটি স্থানে। এরমধ্যে প্যারিসের স্টেডিয়ামের কাছে হামলার ঘটনাটি আত্মঘাতি বোমা হামলা বলে ধারণা করা হচ্ছে। সেখানে তখন জার্মানির সঙ্গে ফ্রান্সের ফুটবল ম্যাচ চলছিল। খেলা দেখতে মাঠে ছিলেন দেশটির প্রেসিডেন্ট। এ ঘটনাকে ‘নজিরবিহীন সন্ত্রাসী হামলা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন তিনি।
জি-২০ সম্মেলনে যোগ দিতে তুরস্কে যাওয়ার পরিকল্পনা বাদ দিয়েছেন ওলাঁদ। শুক্রবার রাতেই মন্ত্রিসভার জরুরি বৈঠক শেষে জাতির উদ্দেশ্যে টেলিভিশনে ভাষণ দিয়েছেন তিনি। এতে হামলাকারীদের প্রতি ‘দয়া দেখানো হবে না’ বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট। হামলার নিন্দা জানিয়ে হামলাকারীদের বিচারের মুখোমুখি করার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ। একইসঙ্গে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ফ্রান্সের পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে ন্যাটো।
এদিকে হামলার পর ফ্রান্সকে ‘সব ধরনের’ সহযোগিতা করতে যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। ভয়াবহ এই হামলার নিন্দা জানিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন, জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা মের্কেল।
কোনো কোনো আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে ২০০৪ সালে মাদ্রিদে ট্রেনে বোমা হামলার পর ইউরোপের সবচেয়ে বড় হামলার ঘটনা বলে উল্লেখ করা হচ্ছে একে। দশ মাস আগে প্যারিসে ব্যাঙ্গ ম্যাগাজিন শার্লি হেবদু কার্যালয়ে গুলি করে ২০ জনকে হত্যার পর ফ্রান্সে হামলার ঘটনা ঘটল। সূত্র: বিবিসি, সিএনএন, এএফপি, রয়টার্স




