স্টাফ রিপোর্টার : আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য, স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, আগামী জাতীয় নির্বাচন ২০১৯ সালে এবং তা নির্বাচিত সরকারের অধীনেই অনুষ্ঠিত হবে। কোন ষড়যন্ত্র করেও আওয়ামী লীগ বা সরকারকে এ অবস্থান থেকে সরানো যাবে না। তিনি ১৭ অক্টোবর শনিবার বিকেলে শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার রাজনগর ইউনিয়নে ১০ শয্যাবিশিষ্ট মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ওই কথা বলেন।
মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ২০১৪ সালের নির্বাচন না হলে বাংলাদেশে ‘মার্শাল ল’ জারি হতো। থাইল্যান্ডে যথাসময়ে নির্বাচন হয়নি বলে এখন ‘মার্শাল ল’ চলছে। মাছ যেমন পানি ছাড়া বাঁচে না, আওয়ামী লীগও তেমনি নির্বাচনের পথ ছাড়া চলে না। আওয়ামী লীগ নির্বাচনে বিশ্বাস করে। এজন্য বঙ্গবন্ধু মার্শাল ল’ এর মধ্যেও নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। তিনি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ্য করে বলেন, নির্বাচন না করে ভুল করেছেন। আন্দোলনের নামে পুড়িয়ে মানুষ হত্যাসহ জ্বালাও-পোড়াও এর মাধ্যমে সরকারের অগ্রযাত্রা রুখতে না পেরে এখন লন্ডনে বসে ছেলে তারেক রহমানকে নিয়ে দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছেন। শত ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত করেও আওয়ামী লীগকে দমানো যাবে না। বরং আর ভুল করলে চিরতরে বিএনপিই বিলীন হয়ে যাবে।
আওয়ামী লীগ জনগণের দল উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, খাদ্য, বিদ্যুৎ ও স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জঙ্গী তৎপরতা দমনে আওয়ামী লীগ যে সফলতার পরিচয় দিয়েছে, জনগণ আবারও আওয়ামী লীগকেই ক্ষমতায় বসাবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়ামের আরেক সদস্য, কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী বলেন, ২০০১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত জোট সরকারের মেয়াদে তার নির্বাচনী এলাকায় কোন উন্নয়নের কাজ হয়নি। কারণ তারা তখন হাওয়া ভবন, খাওয়া ভবন, নাওয়া ভবনেই ব্যস্ত ছিলেন। খালেদা জিয়া বাড়ি রক্ষার জন্য আন্দোলন করেন। আর শেখ হাসিনা ৩২ নম্বরের বাড়ি জনগণের নামে লিখে দেন। পৃথিবীর ইতিহাসে এমন ত্যাগের দৃষ্টান্ত আরও কোথাও আছে কি-না জানা নেই। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা খাদ্য, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, বিদ্যুত ও পরিবেশের উন্নয়নের মাধ্যমে দেশের মর্যাদা আর্ন্তজাতিক অঙ্গণে বৃদ্ধি করছেন। আর অন্যদিকে বিএনপির ইতিহাস হচ্ছে লজ্জা, তিরস্কার ও ধিক্কারের।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক নুর হোসেন তালুকদার, স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগ্রেডিয়ার জেনারেল আহমেদুল কবির, নালিতাবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জিয়াউল হক মাস্টার, সাধারণ সম্পাদক ফজলুর রহমান, আওয়ামী লীগ নেতা তোফাজ্জল হোসেন, ফারুক আহমেদ বকুল প্রমুখ। এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদ প্রশাসক এডভোকেট আব্দুল হালিম, জেলা প্রশাসক ডাঃ এ এম পারভেজ রহিম, পুলিশ সুপার মেহেদুল করিম, শেরপুর পৌরসভার মেয়র হুমায়ুন কবীর রুমান, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান ছানুয়ার হোসেন ছানু, নালিতাবাড়ী উপজেলা চেয়ারম্যান একেএম মোখলেসুর রহমান রিপন, পৌর মেয়র আনোয়ার হোসেন ভিপি প্রমুখ।
এরপর স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও কৃষিমন্ত্রী ৩১ শয্যা হতে ৫০ শয্যায় উন্নীত নালিতাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভবন উদ্বোধন এবং সন্ধ্যায় নকলা উপজেলার উরফা ইউনিয়নে ১০ শয্যা বিশিষ্ট মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে যোগ দেন।




