মো: আব্দুর রহমান, বাকৃবি প্রতিনিধি: শীতকাল না আসতেই শীত পড়তে শুরু করেছে। মানুষ, পশু-পাখি, ঘাছপালায় লেগে গেছে শীতের ছোঁয়া। ফাইনাল পরীক্ষা শেষ হয়ে আবার ক্লাস শুরু গেছে। কোথাও হতে ঘুরে আসার জন্য এরকম সময় আর হয় না। যে ভাবনা সেই কাজ। বন্ধুরা মিলে ঠিক করলাম ত্রিশাল যাবো।
ময়মমনসিংহের বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় হতে ত্রিশালের দূরত্ব প্রায় ২৫ কিলোমিটার। পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী আমরা ৯জন সকালের নাস্তা করে ক্যাম্পাস থেকে রওনা দিলাম সকাল ৯টায়। এ দলের পথিক ছিলাম আমি সহ আনন্দ, রুপন, কনগ্রিব, মিজান, শর্মি, নুপুর, মুক্তা ও তিথি।
ক্যাম্পাস থেকে অটোটে চড়ে প্রথমে গেলাম ত্রিশাল বাসস্ট্যান্ড। সেখান থেকে ত্রিশাল যাবার বাসে উঠলাম। বাসের ভিতরের মুহুর্তগুলো বেশ ভালোই কাটছিলো। বিশেষ করে সিটে বসে সেল্ফি তুলার মজাটা ছিল অন্য রকম। ২৫ টাকা করে বাস ভাড়া দিয়ে বাস থেকে নামলাম ত্রিশাল বাজারে। সেখানে আগে থেকেই আমাদের জন্য অপেক্ষা করছিলো তিথির বন্ধু তামান্না। তামান্না জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। ওর নের্তৃত্বে ভ্যানে চড়ে চলতে শুরু করলাম নজরুলের স্মৃতি বিজড়িত স্থান গুলো পরিদর্শনে।
প্রথমেই ঢুকলাম জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে। এটি দেশের প্রথম ও একমাত্র সাংস্কৃতিক বিশ্ববিদ্যালয়। ২৫ একর জমিতে ২০০৭ সালে এ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। নতুন প্রজন্মের কাছে কবিকে তুলে ধরতে এ বিশ্ববিদ্যালয় ইতিমধ্যে শিক্ষা কার্যক্রমসহ সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে যে পদক্ষেপ নিয়েছে তা চোখে পড়ার মত।
ক্যাম্পাসে কিছুক্ষণ ঘোরাঘুরি করে আবার শুরু করলাম পথচলা। ২ মিনিট পরেই দেখতে পেলাম বিরাট এক বট গাছ। এই বট গাছে সাথে মিশে আছে কবির স্মৃতি, কবির ভালবাসা। স্কুল পালিয়ে এই বট গাছের নিচে বসে কবি আপন মনে বাঁশিতে সুর তুলতেন। এটি এখন নজরুল বট বৃক্ষ। দুই বাংলার নজরুল ভক্তদের কাছে এটি তীর্থস্থান। বট গাছের নিচে প্রায়ই বসে কবিদের আসর। আজ কবি নেই কিন্তু এই বট গাছটি আজো কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে কবির অস্তিত্ব ঘোষনা করছে। বন্ধুরা মিলে সেই বট গাছের নিচে ছবি তুললাম আর কবিকে একান্ত চিত্তে স্মরণ করলাম।
এর পরে আরো ১০ মিনিট পায়ে হেঁটে পৌঁছালাম নজরুলের স্মৃতি বিজড়িত নামাপাড়া গ্রামের বিচুতিয়া বেপারীর বাড়িতে। তার বাড়িতে যায়গীর থাকাকালীন যেখানে কেঁটেছে কবির বাল্যকালের কিছু অংশ। বিচুতিয়া বেপারী বাড়ির আঙিনায় প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে নজরুল স্মৃতিকেন্দ্র ও নজরুল আর্কাইভ। বিচুতিয়া বেপারীর যে ঘরে নজরুল থাকতেন সেই শোবার ঘরটির ভিটি পাকা করে করা হয়েছে নজরুল আর্কাইভ। স্মৃতিকেন্দ্রের নিচতলায় রয়েছে ২০০ আসনের অডিটরিয়াম, দ্বিতীয়তলায় অফিস এবং তৃতীয়তলায় জাদুঘর-কাম-পাঠাগার। যা গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অধিনে পরিচালিত হয়ে আসছে।
নজরুল স্মৃতিকেন্দ্র পরিদর্শন শেষে আবার ফিরলাম জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে। সেখানে সবাই মিলে কবি স্মরণে নজরুল সংগীত গাইলাম। পরে দুপুরের খাবার পর্ব শেষ করে রওনা দিলাম আমাদের প্রাণের বাকৃবিতে। কিছু দিন পরেই হয়তো ক্লাস আর পরীক্ষার চিন্তায় ব্যস্ত হয়ে পড়ব কিন্তু কবি নজরুলকে ঘিরে সেই আনন্দ মুখর সময়টুকু স্মৃতির ফ্রেমে বন্দি হয়ে থাকবে, দিয়ে যাবে সেই সময়ের জানান।




