ads

বৃহস্পতিবার , ২০ নভেম্বর ২০১৪ | ২৮ অক্টোবর ২০২৬
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  1. ENGLISH
  2. অনিয়ম-দুর্নীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আমাদের ব্লগ
  6. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  7. ইসলাম
  8. উন্নয়ন-অগ্রগতি
  9. এক্সক্লুসিভ
  10. কৃষি ও কৃষক
  11. ক্রাইম
  12. খেলাধুলা
  13. খেলার খবর
  14. চাকরির খবর
  15. জাতীয় সংবাদ

অবশেষে শেরপুরে রেলপথ হচ্ছে?

রফিকুল ইসলাম আধার , সম্পাদক - ফটো কার্ড
নভেম্বর ২০, ২০১৪ ৬:৪২ অপরাহ্ণ

তালাত মাহমুদ

Talat mahmudরেলমন্ত্রীর ঘোষণায় অবশেষে শেরপুরবাসী আশার আলোয় স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে। বর্তমান সরকারের আমলেই নাকি শেরপুরে রেলপথ স্থাপন করা হবে। জামালপুরের পিয়ারপুর রেল স্টেশনকে জংশন করে ব্রহ্মপুত্র নদের উপর দিয়ে শেরপুর জেলা সদর পর্যন্ত এ রেলপথ স্থাপন করা হবে। ২৫ কিলোমিটার দীর্ঘ রেলপথ স্থাপনে প্রাথমিক পর্যায়ে ৫শ’ ৫২ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে বলে পত্রিকায় খবর প্রকাশিত হয়েছে। শেরপুর-পিয়ারপুর রেল পথ স্থাপন করা হলে এতে ৪টি রেলওয়ে স্টেশন থাকবে। মাঝখানে চন্দ্রকোনা ও ভীমগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন হতে পারে। শেরপুর প্রান্তিকে বয়রা-পরাণপুরে স্থাপন হতে পারে শেরপুর রেলওয়ে স্টেশন।
৮ জুন ২০১৪ জামালপুরের পূর্ব প্রান্তে অবস্থিত পিয়ারপুর রেলওয়ে স্টেশনে তিস্তা আন্তঃনগর এক্সপ্রেস ট্রেনের স্টপেজ উদ্বোধন এবং পিয়ারপুর শশীকান্ত চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত জামালপুরের পূর্বাঞ্চলের এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক বলেছেন, জামালপুর জেলার পিয়ারপুর রেলওয়ে স্টেশনকে জংশনে পরিণত করে পিয়ারপুর থেকে শেরপুর পর্যন্ত একটি আধুনিক রেল লাইন নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে বর্তমান মহাজোট সরকার। রেলমন্ত্রী রেলপথ স্থাপনের ঘোষণা দেওয়ায় উপস্থিত হাজার হাজার জনতা করতালি দিয়ে মন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান।
জামালপুর জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এডভোকেট মুহাম্মদ বাকী বিল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংবর্ধনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম এমপি ও বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মোঃ তাফাজ্জল হোসেন। এছাড়া বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মারুফা আক্তার পপি, জামালপুর সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ডা: আব্দুল মান্নান, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আওয়াল প্রমুখ নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। উপস্থিত ছিলেন জামালপুরের জেলা প্রশাসক মোঃ শাহাবুদ্দিন, পুলিশ সুপার মোঃ নজরুল ইসলামসহ জেলা পর্যায়ের ও রেলওয়ের বিভিন্ন কর্মকর্তা, কর্মচারী, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও পূর্ব জামালপুরের হাজারও জনতা।
শেরপুর জেলার উপর দিয়ে রেলপথ স্থাপন করার ব্যাপারে ব্রিটিশ সরকার ১৯৩০-এর দশকে প্রথম পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিল। ব্রিটিশ আমলে ভারতীয় উপমহাদেশের বিভিন্ন প্রদেশের সাথে পণ্য পরিবহণ ও যাত্রী সাধারণের যাতায়াত সুবিধার জন্য জামালপুর রেলওয়ে জংশন থেকে ব্রহ্মপুত্র নদের উপর দিয়ে শেরপুর জেলা সদর (তত্কালে শেরপুর থানা) হয়ে সীমান্তবর্তী ঝিনাইগাতী উপজেলার (তত্কালে ঝিনাইগাতী ইউনিয়ন) রাংটিয়া পর্যন্ত রেলপথ স্থাপনে প্রাথমিক পদক্ষেপ নেয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দে ভারত-পাকিস্তান বিভক্তির পর রেলপথ স্থাপনের বিষয়টি চাপা পড়ে যায়। বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পর ১৯৭০ এর দশকের শেষের দিকে তত্কালীন বাংলাদেশ রেলওয়ে পুনরায় জামালপুর-রাংটিয়া ভায়া শেরপুর রেলপথ স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাই শুরু করে। কিন্তু সেই সম্ভাব্য যাচাই বাছাই এর কাজ আর আলোর মুখ দেখেনি।
Trainজানা যায়, ১৯৭৩ খ্রিস্টাব্দে দৈনিক ইত্তেফাকের জনপ্রিয় ‘মঞ্চে-নেপথ্যে’ কলামের ‘স্পষ্টভাষী’ খ্যাত সাংবাদিক কলামিস্ট, সাবেক মন্ত্রী ও রাজনীতিবিদ খোন্দকার আব্দুল হামিদ দৈনিক ইত্তেফাকে তার ‘মঞ্চে-নেপথ্যে’ কলামে শেরপুর রেলপথ স্থাপনের দাবি জানিয়ে একটি নিবন্ধ লিখেছিলেন। ১৯৮১ খ্রিস্টাব্দে ময়মনসিংহ থেকে প্রকাশিত ‘সাপ্তাহিক সফিয়া’ পত্রিকায় প্রস্তাবিত জামালপুর-রাংটিয়া রেলপথ নিয়ে একটি নিবন্ধ প্রকাশিত হয়। ১৯৯১ খ্রিস্টাব্দে আমি সাপ্তাহিক পূর্বকথার সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি ও প্রধান সম্পাদক থাকাকালে শেরপুর জেলায় রেলপথ স্থাপনের দাবি জানিয়ে একটি উপ-সম্পাদকীয় লিখেছিলাম। আমার দাবি ছিলো- ময়মনসিংহের শম্ভুগঞ্জ রেল স্টেশনকে জংশনে পরিণত করে ফুলপুর-নকলা-শেরপুর হয়ে শ্রীবরদী-বকশীগঞ্জ-সানন্দবাড়ী পর্যন্ত রেলপথ স্থাপন করা হোক এবং শেরপুরে জংশন করে ঝিনাইগাতীর তিনআনি হয়ে নালিতাবাড়ী পর্যন্ত আরও একটি রেলপথ স্থাপন করা হোক। আমার যুক্তি ছিলো- যদি শম্ভুগঞ্জ থেকে ফুলপুর-নকলা-শেরপুর হয়ে শ্রীবরদী-বকশীগঞ্জ-সানন্দবাড়ী পর্যন্ত রেলপথ স্থাপন করা হয়- তাহলে জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলা ও দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার সানন্দবাড়ীসহ পুরো কুড়িগ্রাম জেলার ২০ লাখ মানুষ রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় নিরাপদে যাতায়াত করার সুযোগ পাবে। পাশাপাশি ঝিনাইগাতী ও নালিতাবাড়ী উপজেলার জনসাধারণসহ গোটা শেরপুর জেলার মানুষ ও ব্যবসায়ী মহল রেলপথে পণ্য পরিবহন ও যাতায়াতের অবাধ সুযোগ লাভ করবে। সেই সাথে ময়মনসিংহ জেলার হালুয়াঘাট, ধোবাউড়া ও ফুলপুর উপজেলার অধিবাসীরাও একই সুযোগ লাভ করবে। ১৯৮৬/৮৭ খ্রিস্টাব্দের দিকে ‘সাপ্তাহিক জনকন্ঠ’র প্রধান সহকারি সম্পাদক থাকাকালে আমার নিয়মিত কলামেও শেরপুরে রেলপথ স্থাপনের দাবি জানিয়েছিলাম। সর্বশেষ শেরপুর-১ আসন থেকে ৪র্থ বারের মত নির্বাচিত জাতীয় সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আতিউর রহমান আতিক মহান জাতীয় সংসদের হুইপ নির্বাচিত হওয়ায় গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৪ সংখ্যা ‘সাপ্তাহিক কালের ডাক’ পত্রিকায় ‘হুইপ আতিউর রহমান আতিকের কাছে শেরপুর বাসীর প্রত্যাশা’ শিরোনামে একটি নিবন্ধ লিখেছিলাম। সে নিবন্ধেও আমি শেরপুরে রেলপথ স্থাপনের দাবি জানিয়েছিলাম। নিবন্ধটি একই সাথে দৈনিক ঢাকা রিপোর্ট, দৈনিক পল্লীকণ্ঠ প্রতিদিন, নতুনযুগ সহ কয়েকটি পত্রিকা ও নিউজ পোর্টালে প্রকাশিত হয়। সেখানেও আমার দাবি ছিল শম্ভুগঞ্জ-ফুলপুর-নকলা-শেরপুর-শ্রীবরদী-বকশীগঞ্জ হয়ে সানন্দবাড়ী পর্যন্ত রেল পথ স্থাপন করা হোক। আর এটা করা হলে বিপুল সংখ্যক আপামর মানুষ উপকৃত হবে। উপকৃত হবে ব্যবসায়ীরাও। পাশাপাশি কামালপুর স্থলবন্দর এবং নাকুগাঁও স্থলবন্দরের আমদানী-রপ্তানীও অনেকাংশে বৃদ্ধি পাবে। বেড়ে যাবে সরকারের রাজস্ব আয়।
যা হোক, অবশেষে শেরপুরে রেলপথ স্থাপিত হচ্ছে। এ অঞ্চলের মানুষের নিরাপদ রেল ভ্রমন নিশ্চিত হচ্ছে। কয়েক প্রজন্মের লালিত স্বপ্ন বাস্তবায়ন হতে যাচ্ছে- এর চেয়ে বড় আনন্দের আর কী হতে পারে। ধনে-ধান্যে পুষ্পে ভরা দেশের সম্ভাবনাময় ছোট্ট সুন্দর প্রান্তিক জেলা শেরপুর যোগাযোগের ক্ষেত্রে বিপ্লব ঘটিয়ে শিক্ষা-সংস্কৃতি আর মাঝারি শিল্প-বাণিজ্যে সমৃদ্ধ হয়ে উঠবে এটাই তো সবার কাম্য। বর্তমানে শেরপুর থেকে ময়মনসিংহ ও জামালপুর হয়ে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় প্রতিদিন সড়কপথে কোটি কোটি টাকার পণ্য ও মালামাল আনা-নেয়া হচ্ছে। শেরপুর ও পার্শ্ববর্তী কুড়িগ্রাম জেলার অধিবাসীদের একমাত্র যোগাযোগের মাধ্যম সড়কপথ। শেরপুর থেকে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রতিদিন শতাধিক বাস চলাচল করলেও যাত্রীদের ভোগান্তির অন্ত থাকেনা। শেরপুরে রেলপথ স্থাপন হলে মানুষের ভোগান্তি কমবে, পণ্য পরিবহণ সহজলভ্য হবে। বাংলাদেশ রেলওয়ের ডিজি তাফাজ্জল হোসেন শেরপুরের নালিতাবাড়ীর সন্তান বলে জানা যায়।। শেরপুরে রেলপথ স্থাপনের ক্ষেত্রে তাঁর প্রচেষ্টা এই সাফল্যকে ত্বরান্বিত করেছে। ইতোমধ্যে সার্ভের কাজ শেষ পর্যায়ে। বর্তমান সরকারের আমলেই শেরপুরে রেলপথ স্থাপনের কাজ শেষ করা হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশ রেলওয়ের ডিজি তাফাজ্জল হোসেন।
যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিক সংস্করণের সাথে বিশ্ব সভ্যতা আজ ওতপ্রোতভাবে জড়িত। যে দেশের স্থলপথ, নৌপথ ও উড়ালপথের যোগাযোগ ব্যবস্থা যত উন্নত সে দেশের মানুষের জীবন মান তথা শিল্প-সংস্কৃতি, ব্যবসা- বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকান্ড তত সমৃদ্ধ। ষোড়শ শতাব্দীর ইউরোপে শিল্প বিপ্লবের সুবাদে স্থলপথ (রেলপথ ও সড়কপথ), নৌপথ, ও উড়ালপথে যোগাযোগের গুরুত্ব বাড়তে থাকে। বর্তমান বিশ্বে সর্বাপেক্ষা সমৃদ্ধ ও ধণাঢ্য দেশগুলো যোগাযোগের ক্ষেত্রে এতটাই উন্নতি সাধন করেছে যে, গোটা পৃথিবীটাই যেন তাদের হাতের মুঠোয় চলে এসেছে। ইচ্ছে করলেই সে সব উন্নত দেশের মানুষ মহাশূণ্যের এক গ্রহ থেকে আরেক গ্রহে ছুটে বেড়াতে পারে।
আমরা নানা কারণে একটি পিছিয়ে পড়া জাতি। বর্তমান বিশ্বের সাথে তাল মিলাতে এগিয়ে যেতে হলে- আমাদের সংস্কারমুক্ত হতে হবে, দেশপ্রেমে উজ্জীবিত হতে হবে। ঘুষ, দুর্নীতি, জালিয়াতি, প্রতারণা ও আত্মসাত-এসব আমাদের মজ্জাগত। ইজমালি সম্পদ আমরা গ্রাস করে ফেলি। রেলপথ, সড়কপথের কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি, সরকারের খাস জমি আমরা আত্মসাত করি। আসুন, স্বভাবটা পাল্টাই- দেশটাকে এগিয়ে নিয়ে যাই; আসুন, একটু একটু করে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হই। সুন্দর আগামীর জন্য আর ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য সুখি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে আমরা আমাদের বর্তমানকে বিসর্জন দিয়ে যাই।

Shamol Bangla Ads

লেখক : কবি, সাংবাদিক ও কলামিস্ট এবং একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকার প্রধান সহকারি সম্পাদক। ই-মেইল : talatmahmud1363@gmail.com

Need Ads

সর্বশেষ - খেলাধুলা

Shamol Bangla Ads