কুষ্টিয়া প্রতিনিধি : “পুলিশই জনতা, জনতাই পুলিশ” এই শ্লোগান নিয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানা চত্বরে গতকাল বিকালে কমিউনিটি পুলিশিং সমাবেশ ও ওপেন হাউজ ডে অনুষ্ঠিত হয়েছে। কমিউনিটি পুলিশিং সমাবেশ ও ওপেন হাউজ ডে অনুষ্ঠানে কুমারখালী জেলা কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির সভাপতি মাহাতাব সরকারের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন পুলিশ সুপার প্রলয় চিসিম। বিশেষ অতিথি ছিলেন, জেলা কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির সদস্য সচিব ও জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি হাজী রবিউল ইসলাম, জেলা কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির সদস্য শেখ গিয়াস উদ্দিন আহমেদ মিন্টু, মনোয়ার হোসেন কাবলু, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু বকর সিদ্দীক, মডেল থানা সহকারী পুলিশ সুপার লাবণী খন্দকার, মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল খালেক। কমিউনিটি পুলিশিং’র উপর গুরুত্ব আরোপ করে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পুলিশ সুপার প্রলয় চিসিম তাঁর বক্তব্যে বলেন- জননিরাপত্তার উন্নয়ন, মাদক, বাল্যবিয়ে, যৌতুক, নারী নির্যাতন ও ইভটিজিং রোধে পুলিশ ও জনগণের মাঝে সেতুবন্ধন তৈরী করেছে কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রম। কমিউনিটি পুলিশিং এর বৈশিষ্ট্য ও কার্যক্রম উল্লেখ করে বলেন- কমিউনিটি পুলিশিং ব্যবস্থা পুলিশ ও জনগনের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ নিশ্চিত করে। এটি একটি প্রতিরোধমূলক ও সমস্যা সমাধানভিত্তিক পুলিশী ব্যবস্থা। পুলিশ ও জনগণের সমন্বয়ে গঠিত একটি পুলিশী কার্যক্রমের দর্শন হচ্ছে কমিউনিটি পুলিশিং। এ ব্যবস্থায় জনগণ এলাকার সমস্যা ও সমস্যার কারণ চিহ্নিত করে তা সমাধানের লক্ষ্যে পুলিশের সাথে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে কাজ করার সুযোগ পায় ও জনগণের নিকট পুলিশের জবাবদিহিতা নিশ্চিত হয়। পুলিশ ও জনগণের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা, সমঝোতা, শ্রদ্ধা ও ভালবাসা বৃদ্ধি পায়। পুলিশ ও জনগণের মধ্যে দূরত্ব কমে এবং জনগনের মধ্যে পুলিশ ভীতি ও অপরাধ হ্রাস পায় এবং জনগণ পুলিশকে সহায়তা করার জন্য উজ্জীবিত হয়। দীর্ঘদিন পর কমিউনিটি পুলিশিং এর কার্যক্রম বেগবান করার উদ্দেশ্যেই এই সমাবেশ। তিনি আরও বলেন,আইনের শাসন জনগণের মধ্যে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে আর এ জন্য দরকার জনসাধারণের সহযোগিতা। তিনি আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, মাদক ব্যবসায়ী ও চোরাকারবারীর তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান। এসময় উপস্থিত কমিউনিটি পুলিশিং এর সদস্যবৃন্দ, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, এনজিও কর্মী, শিক্ষক ও সাংবাদিক।

রাজস্ব শাখার কর্মকর্তা/ কর্মচারীদের সাথে জেলা মাসিক রাজস্ব সভা
কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক সৈয়দ বেলাল হোসেন বলেছেন, জমির নামখারিজ করার এখতিয়ার ইউনিয়ন ভুমি সহকারী কর্মকর্তার নয়। অথচ সাধারন মানুষ জমির নামখারিজের জন্য সেখানেই বারবার ছুটে যায়। তারা হয়তোবা জানেনা যে জমির নামখারিজ করার এখতিয়ার কেবল সহকারী কমিশনার (ভুমি)’র। আর তাই তারা ইউনিয়ন ভুমি সহকারী কর্মকর্তার কাছে গিয়ে বাধা বিপত্তিতে পড়ে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের রাজস্ব শাখার কর্মকর্তা/ কর্মচারী ও ইউনিয়ন ভুমি অফিস সহকারী কর্মকর্তাদের সাথে জেলা মাসিক রাজস্ব সভায় সভাপতির বক্তব্যে একথা বলেন।
তিনি বলেন, জনগনের সেবা দোরগোড়ায় পৌছে দিতে আমরা বদ্ধ পরিকর। আর তাই এখন আর মানুষকে ইউনিয়ন ভুমি অফিসে দিনের পর দিন ঘুরতে হবে না। জমির নাম পত্তনের জন্য এখন আর ভুমি অফিসে না গিয়ে এসিল্যান্ড’রাই বিভিন্ন ইউনিয়ন ভুমি অফিসে গিয়ে এসব সমস্যার সমাধান করবে।
এসময় কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আনারকলি মাহবুব, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আবু হেনা মোস্তফা কামাল, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মুজিব-উল ফেরদৌস, খোকসা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেবেকা খান, ভেড়ামার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শান্তি মনি চাকমা, সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট এস এম জামাল আহমেদসহ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের রাজস্ব শাখার কর্মকর্তা/ কর্মচারী ও ইউনিয়ন ভুমি অফিস সহকারী কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সততা ও নিষ্ঠার সাথে দুইবছর অতিক্রম করলেন কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক সৈয়দ বেলাল হোসেন
এস এম জামাল : নানান চড়াই উৎরায় পেরিয়ে ২বছর অতিক্রান্ত করলেন কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক সৈয়দ বেলাল হোসেন। এই দুই বছরে তিনি পেয়েছেন জেলাবাসীর ভালোবাসা তেমনি সন্ত্রাসঅধ্যুষিত এই কষ্টিয়া জেলাকে সন্ত্রাসমুক্ত করেছেন, শিক্ষার মানোনয়ন্নে ও মডেল জেলা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। জেলার নানান উন্নয়নমুলক কর্মকান্ডের পাশাপাশি সারা বাংলাদেশের মধ্যে একমাত্র এই জেলা প্রশাসনের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম (ফেসবুক) এর মাধ্যমে সাধারন মানুষের না বলা কথা ও সমস্যার কথা ও চিত্র তুলে ধরার ব্যবস্থা করেছেন। তিনি মিড-ডে মিলের ব্যবস্থা চালু করেছেন এবং জমির খাজনা আদায় ও নামপত্তনসহ নামজারীর জন্য মানুষ যেন আর হয়রাণীর স্বীকার না হয় তার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন তিনি। একের পর এক বিআরটিএ অফিস, সাব রেজষ্ট্রি অফিস, পাসপোর্ট অফিস, ভুমি অফিস, এসি ল্যান্ড অফিসসহ যে সব দফতরে ঘুষের মহোৎসব চলছিল সে সব দফতরে অভিযান চালায়। কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালকে দালাল মুক্ত করার জন্য তিনি একাধিকবার ভ্রাম্যমান আদালত বসান। দালালদের জেল- জরিমানা করেন এসকতল অভিযান অব্যহত রয়েছে।
এসব দফতর থেকে ঘুষ-দুর্নীতি আর হয়রানী বন্ধ হওয়ায় মানুষ জন জেলা প্রশাসক সৈয়দ বেলাল হোসেনের ভুয়সী প্রশংসা করেছেন। আম জনতার অনেকেই আবার তাঁর জন্য অন্তরের অন্তস্থল থেকে দোয়াও করেছেন। নজির বিহীন গতিশীলতা আর জবাবদিহিতা ফিরে এসেছে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনে। জেলা প্রশাসনের দফতর এখন চলছে কম্পিউটারাইড পদ্ধতিতে। এর জন্য ই-সেবা কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। একজন ব্যক্তি ঘরে বসেই তার আবেদনের কি অবস্থা তা জানতে পারবেন। আবার ঘরে বসেই কাঙ্খিত সেবা গ্রহণের জন্য আবেদন পাঠাতে পারছেন। এর সব কিছুই সম্ভব হয়েছে জেলা প্রশাসক সৈয়দ বেলাল হোসেনের আন্তরিকতা, কর্তব্য নিষ্ঠা এবং কর্ম দক্ষতার কারণে। শুধু তাই নয়, জেলা প্রশাসক ফেসবুক পেজ চালু করেছে সাধারন মানুষের অভিব্যক্তি এবং সমস্যার কথা তুলে ধরার জন্য। এক-দুইজন করে বর্তমানে প্রায় ৩হাজারেরও অধিক ফেসবুক ব্যবহারকারীরা তাদের নিজস্ব মতামত,সমস্যা ও সম্ভাবনা কথা তুলে ধরের ফেসবুকে। যা প্রতিনিয়িত জেলা প্রশাসক দেখে থাকেন এবং সমস্যার সমাধান করে থাকেন। এই ফেসবুক ব্যবহারকারীদের নিয়ে সোশ্যাল আড্ডা দিয়ে দেশের মধ্যে আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন। এছাড়াও দীর্ঘদিন ধরে কুষ্টিয়া প্রেসক্লাব নিয়ে বিরাজমান দ্বন্দ্বের অবসান ঘটিয়েছেন যার ফলশ্র“তিতে আগামীকাল কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। অন্যায়ের কাছে মাথা নত করেননি এক আল¬াাহকে ছাড়া। তিনি যেন সততা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করতে পারেন কুষ্টিয়াবাসীর কাছে সেই দোয়া কামনা করেছেন।




