ইয়ানুর রহমান, যশোর : যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (যবিপ্রবি) শাখার ছাত্রলীগ সভাপতি সুব্রত বিশ্বাসকে রিয়াদ হত্যার অভিযোগে পুলিশে দিয়েছে শিক্ষার্থীরা। সে যবিপ্রবির ছাত্র নাইমুল ইসলাম রিয়াদ হত্যা মামলার অন্যতম প্রধান আসামি। ছাত্র রাজনীতিমুক্ত ক্যাম্পাসে ছাত্র সংগঠন করা ও শিক্ষার্থী রিয়াদকে হত্যার অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাকে আগেই বহিষ্কার করে। সে ফিশারিজ এ্যান্ড বায়োসায়েন্স বিভাগের ছাত্র ছিল।
বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা হায়াতুজ্জামান মুকুল জানান, মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে সুব্রত বিশ্বাস ক্যাম্পাসে গেলে সাধারণ শিক্ষার্থীরা তাকে ঘেরাও করে। একপর্যায়ে সুব্রত শহীদ মসিয়ূর রহমান হলের প্রভোস্ট ড. সাইদুর রহমান মোল্লার কক্ষে গিয়ে আশ্রয় নেয়। যবিপ্রবি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সুব্রতকে প্রেফতার করে।
যশোর কোতয়ালী থানার ওসি ইনামুল হক বলেন, রিয়াদ হত্যা মামলা তদন্ত করছে সিআইডি। সুব্রত ওই হত্যা মামলার দুই নম্বর আসামি। তাকে ওই মামলায় প্রেফতার দেখানো হয়েছে।
এদিকে যবিপ্রবির নিহত ছাত্র রিয়াদের বাবা রাজধানীর সেগুনবাগিচা এলাকার মনিরুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, রিয়াদ হত্যা মামলার আসামিরা দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ তাদের গ্রেফতার করেনি। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে খবর পেয়ে আমি যশোর পুলিশকে ফোন করি সুব্রতকে গ্রেফতারের জন্য। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে তারা সুব্রতকে গ্রেফতার করতে দীর্ঘসময় নেয়। ব্যবসায়ী মনিরুল ইসলাম আক্ষেপ করে বলেন, যে কাজ পুলিশের করার কথা ছিল, সেই কাজ শেষ পর্যন্ত শিক্ষার্থীদেরই করতে হল।
উল্লেখ্য, গত ১৪ জুলাই যবিপ্রবির প্রধান ফটকে পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের চতুর্থ বর্ষের মেধাবী ছাত্র নাইমুল ইসলাম রিয়াদকে কুপিয়ে হত্যা করে ছাত্রলীগ নামধারী দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় নিহত রিয়াদের মামা রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে যশোর কোতয়ালী থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলায় ছাত্রলীগের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সুব্রত বিশ্বাস ও সাধারণ সম্পাদক শামীম হাসানসহ ১১ জনকে আসামি করা হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এ দুজনকে যবিপ্রবি থেকে আজীবন বহিষ্কার করে।




