খোরশেদ আলম, ঝিনাইগাতী (শেরপুর) : শুষ্ক মৌসুমের শুরুতেই শেরপুরের সীমান্তবর্তী ঝিনাইগাতী উপজেলার পাহাড়ী গ্রামগুলোতে বিশুদ্ধ খাবার পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এসব পাহাড়ী গ্রামগুলো হচ্ছে, উপজেলার নলকুড়া ইউনিয়নের তাওয়াকুচা, পানবর, গুরুচরণ দুধনই, ছোট গজনী, বড় গজনী, গান্ধিগাঁও, বাকাকুড়া, হালচাটী, নওকুচি। এসব পাহাড়ী এলাকার মাটির নিচে পাথর থাকার কারণে নলকূপ স্থাপন করা সম্ভব হয় না। রিংওয়েল নলকূল স্থাপন করে পানি উত্তোলণ করতে হয়। এতে ব্যয় হয় প্রায় ২ লাখ টাকা। দারিদ্র সীমার নিচে বাসবাসকারী আদিবাসী অধ্যুষিত পাহাড়ী গ্রামবাসীদের পক্ষে তা সম্ভব হয়ে উঠে না। সরকারী ও এনজিও’র মাধ্যমে বিভিন্ন সময় বেশ কিছু রিংওয়েল নলকূপ স্থাপন করা হলেও প্রায় সবগুলো নলকূপ অকেজো হয়ে পরে আছে। এছাড়া প্রতিবছর শুষ্ক মৌসুমে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ভ‚-গর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় বিশুদ্ধ খাবার পানির তীব্র সংকট দেখা দেয়। উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানাযায় গত বছর ভ‚-গর্ভস্থ পানির স্তর স্বভাবাকি স্তরের তুলনায় ১২০ ফুট নিচে নেমে যায়। ফলে পানি সংকট তীব্র আকার ধারণ করে। ওই দপ্তরের কর্মকর্তা মোঃ মতিউর রহমান বলেন গত বছরের চেয়ে এ বছর ভ‚-গর্ভস্থ পানির স্তর আরও বেশি নিচে নেমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমানে এসব পাহাড়ী গ্রামগুলোতে খাবার পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। গ্রামবাসীরা ঝর্ণা, পুকুর, নদী-নালা, ডুবা ও পাটির ক‚পসহ বিভিন্ন জলধারার পানি পান করছেন। আবার অনেকেই দূর-দূরান্ত থেকে পানি সংগ্র করে গৃহস্থলীর কাজসহ তৃষ্ণা মেটানোর চেষ্টার করছেন। কাংশা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুর রউফ সরকার বলেন সরকারী ভাবে বিশেষ ব্যবস্থা না নিলে পানি সংকট সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়।




