আজহারুল হক, গফরগাঁও (ময়মনসিংহ) : ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে নিহত হওয়ার ৩ মাস ২২ দিন পর শনিবার আদালতের নির্দেশে কবর থেকে ময়মনসিংহের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্টেট ম্যাজিষ্ট্যাট শের মাহমুদ মুরাদের নেতৃত্বে পুলিশ শিমুল (২০) নামে এক তরুণের লাশ উত্তোলন করে। সে উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের চৌধুরী কান্দা এলাকার আঃ মতিনের ছেলে।

জানা যায়, গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার মাওনা আক্তারপাড়া গ্রামের আঃ জলিলের ছেলে শাখাওয়াত সিকদারের পোল্টি ফার্মে সাড় ৪ হাজার টাকা মাসিক বেতনে কাজ করতো শিমুল। পরে আট মাসের বেতন না দেওয়ায় শিমুলের সাথে মালিকের বাক-বিতন্ডা হয়। এতে জলিলের ছেলে সাখাওয়াত ক্ষিপ্ত হয়ে গত ১৫ জুলাই রাতে শিমুলকে বেদম প্রহৃার করলে ওই দিন রাতেই সে মারা যায়। পরে সাখাওয়াত ও পরিবারের লোকজন মরদেহ প্লোটি ঘরের আড়ার সাথে ঝুলিয়ে রাখে। পরে ১৬ জুলাই মোবাইলে শিমুল আত্মহত্যা করেছে বলে জানায় প্লোটি মালিক। এ অবস্থায় নিহতের পরিবার ঘটনাস্থলে পৌছার পূর্বেই প্লোটি মালিক সাখাওয়াত শ্রীপুর থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করে। পরে নিহত শিমুলের বড় ভাই শরিফুল বাদি হয়ে ১৭ জুলাই শ্রীপুর থানায় জলিলের ছেলে সাখাওয়াতকে আসামী একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। শিমুলের পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করে জানান, এ অবস্থায় অর্থের বিনিময়ে গাজীপুর হাসপাতালে ময়না তদন্ত করে জলিল মোটা অংকের উৎকোচের বিনিময়ে ময়না তদন্ত রির্পোট নিজেদের পক্ষে নিয়ে আসে। পরে বাদি শরিফুল আদালতে নারাজি দিলে গাজীপুর জেলা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্টট ফারজানা আক্তার ভিন্ন জেলায় পূনরায় লাশটি ময়না তদন্তের নির্দেশ দেন। এহেন পরিস্থিতিতে পূনরায় ময়না তদন্তের জন্য শনিবার দুপুরে ময়মনসিংহের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্টেট শের মাহমুদ মুরাদের নেতৃত্বে কবর থেকে মরদেহ উত্তোলন করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ মর্গে প্রেরণ করে। এ সময় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডি গাজীপুর জেলা কার্যালয়ের পুলিশ পরিদর্শক মোঃ মহিউদ্দিন ও গফরগাঁও থানার উপ-পরিদর্শক আনোয়ার হোসেন উপস্থিত ছিলেন।




