ads

মঙ্গলবার , ৪ নভেম্বর ২০১৪ | ১৯শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  1. ENGLISH
  2. অনিয়ম-দুর্নীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আমাদের ব্লগ
  6. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  7. ইসলাম
  8. উন্নয়ন-অগ্রগতি
  9. এক্সক্লুসিভ
  10. কৃষি ও কৃষক
  11. ক্রাইম
  12. খেলাধুলা
  13. খেলার খবর
  14. চাকরির খবর
  15. জাতীয় সংবাদ

সৃজনশীল পেশায় বিড়ম্বনা

রফিকুল ইসলাম আধার , সম্পাদক
নভেম্বর ৪, ২০১৪ ৯:২৪ অপরাহ্ণ

তালাত মাহমুদ

Talat mahmud‘বন্ধুগো, বড় বিষজ্বালা এই বুকে/দেখিয়া শুনিয়া খেপিয়া গিয়াছি/তাই যাহা আসে কই মুখে’। আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের এই উক্তির মাঝে কবির কত সহস্র প্রকারের জ্বালা-যন্ত্রণা আর কত যে ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে-সেটা কেবল বিদগ্ধজনরাই উপলব্ধি করতে পারেন। তত্কালীন রক্ষণশীল ও প্রতিক্রিয়াশীল সমাজ ব্যবস্থায় কবিকে যেন কত সহস্রবার প্রতিকুল পরিস্থিতির মোকাবেলা করতে হয়েছে- ব্রিটিশের তাবেদার মৌলবাদী গোড়া হিন্দু ও মুসলমানদের শীল-পাটার ঘষাঘষিতে কবিকে মরিচপেষা করে তার অগ্নিগিরি প্রতিভাকে মসীলিপ্ত করার হীন চক্রান্তে তারা যেভাবে পিছন লেগেছিল এবং কবির সকল কর্মে, সকল ক্ষেত্রে যে বাঁধার সৃষ্টি করেছিল তার ইয়ত্তা ছিলনা। সহজ গোস্যায় কবি প্রতিবাদী হন’নি-বিদ্রোহ করেননি। আর এখান থেকেই আমাদের জাগৃতি।
সাত সমুদ্দুর তের নদীর ওপার থেকে আগত স্বেতচর্মের রিফিউজী বেনিয়ার ইংরেজ আর তাদের এদেশীয় দোসররা যেভাবে কবির পেছনে লেগেছিল, ধর্মান্ধ হিন্দু ও মুসলিম মোড়লরাও সেভাবেই কবির পেছনে লেগেছিল। উদ্দেশ্য একটাই- কবিকে স্তব্ধ করে দিতে হবে। সাময়িকের জন্য কবি নাস্তানাবুদ হলেও মূলতঃ কবির লেখনীশক্তি তীব্রমাত্রায় বেড়ে গিয়েছিল। পাড়ভাঙ্গা ক্ষিপ্ত নদীর মত দীপ্ত কবি লিখে চললেন-অগ্নিবীণা, বিষেরবাঁশী, ভাঙ্গার গান, যৌবনের গান, মৃত্যুক্ষুধাসহ অসংখ্য প্রবন্ধ, উপন্যাস, কবিতা ও গান। নিপীড়িত ও নির্যাতিত মানুষের মাঝে তাই তো কবি বিদ্রোহের দামামা বাজালেন। শত অপবাদ অপমান আর তিরস্কারে জর্জরিত কবি মুক্তির মন্ত্রণা দিলেন তত্কালীন তেত্রিশ কোটি ভারতবাসীকে। অভ্যুদয় ঘটালেন ভারতীয় উপমহাদেশে স্বাধীনতার। বেনিয়া ইংরেজদের উদ্দেশ্যে কবি নজরুল লেখলেন-‘এ দেশ ছাড়বি কিনা বল/নইলে কিলের চোটে হাড় করিব জল’। কিন্তু সেই সব কু-চক্রীমহল কি জানত-কোথাকার জল কোথায় এসে গড়াল? আসলে সত্য সন্ধানীরা এভাবেই অগ্রসর হন। এভাবেই তাঁরা স্বপ্নের ভবিষ্যতের বাস্তব পটভূমি কর্ষণকরে গেছেন-তাইতো আমরা আজ একটি স্বাধীন জাতির মর্যাদা পেয়েছি।
প্রিয় পাঠক-জীবীকার জন্য সকল পেশায় একই গুরুত্ব থাকলেও প্রকৃত সাংবাদিকতা একটি মহত্তম পেশা-ঝুঁকিবহুল, ভয়ঙ্কর ও দুঃসাহসী সৃজনশীল পেশা। এ পেশার সাথে আর সব পেশার আক্ষরিক মিল থাকলেও দায়িত্বের দিক থেকে আকাশ-পাতাল পার্থক্য। আর এ কারণেই বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করতে গিয়ে একজন সাংবাদিককে নানা ঝামেলায় পড়তে হয়-হুমকীর সম্মুখীন হতে হয়, প্রাণনাশের চক্রান্তের শিকার হতে হয়-এমন কি জেল পর্যন্ত খাটতে হয়। অথচ সত্য ও সৎ সাংবাদিকতার স্বার্থে একজন সাংবাদিক তার আপনজনকেও ক্ষমা করেন না। সমাজ বা জাতির কু-চক্রীমহলের বেলায় তো কোন প্রশ্নই উঠে না। শুধু এসব কারণেই একজন ভাল সাংবাদিকের কোন বন্ধু নেই। বন্ধু থাকেনা। বন্ধুত্ব রক্ষা করাই সবচে’ কঠিন ও নিষ্ঠুরতম কাজ। আর তাই ইসলাম ধর্মের প্রবর্তক হযরত মুহাম্মদ (সঃ) এর কোন বন্ধু ছিল না। তবে তিনি সকলের বন্ধু ছিলেন। তদ্রুপ পক্ষপাতহীন, নিবেদিত প্রাণ সাংবাদিকের কোন বন্ধু থাকে না। দেশ, জাতি ও সমাজের কল্যাণে আত্মনিবেদিত এইসব কলম সৈনিক সত্যের সাহসী পতাকা বরাবরই ঊর্ধ্বে তুলে ধরেন প্রাণের বিনিময়ে। সত্য সে যত অপ্রিয়ই হোক না কেন, সাপের জিহ্বার মত সে সত্য সাংবাদিকের লেখনী দিয়ে বেরিয়ে আসবেই। আর এ কারণে সাংবাদিককে যে কত ধরণের খেসারত দিতে হয়- তার ইয়ত্তা নেই।
সমাজ ও জাতির অনিষ্টকারীরা সর্বদাই একজন ভাল সাংবাদিকের বিরুদ্ধে নানা কুত্সা রটিয়ে প্রতিক্রিয়া উত্পন্ন করে থাকে। অফিস-আদালত, সমাজ কিংবা জাতিতে বিশৃংখলা সৃষ্টি করে যারা ‘টু পাইস’ কামিয়ে থাকে, ঘুষ, দুর্নীতি আর নানা হয়রানির মাধ্যমে খুঁটির জোর দেখায়-সে দুর্নীতিবাজ, ঘুষখোর ব্যাক্তিটি যত প্রভাবশালীই হোক না কেন-যদি একজন সৎ সাংবাদিকের দৃষ্টিতে পড়ে যায় তো সে সাংবাদিক তাকে একেবারে উদোম করে ছাড়বেনই। অবশ্য এজন্য উক্ত সাংবাদিককে মারাত্মক হুমকীর সম্মুখীন হতে হয়। তবে এটা কোন ব্যাপার নয়। জেল, জরিমানা, প্রাণনাশের হুমকীর সম্মুখীন সাংবাদিককে নিত্যদিনই হতে হয়।
আমাদের দেশের অধিকাংশ শিক্ষিত লোক সাংবাদিকতার মর্ম বুঝে না। শুধু এ কারণেই প্রতিটি আর্থ-সমাজ ব্যবস্থায় সাংবাদিকদের বিরূদ্ধবাদীর পাল্লাই ভারী হয় বেশী। মুখরোচক কটুক্তি আর বিভিন্ন মহলে কুত্সা রটিয়ে সমাজের তথাকথিত সরলমনা মানুষের মাঝে সাংবাদিকদের সম্পর্কে নানা ভ্রান্ত ধারণা তথা বিরূপ ভাবমুর্তি উত্পন্ন করে পুঁতিগন্ধময় পরিবেশের সৃষ্টি করে। ফলে, দেখা যায়-একজন ভালো সাংবাদিক সমাজের বিভিন্ন স্তরে অসৌজন্যমূলক নাজুক পরিস্থিতির শিকার হন। কারণ যেহেতু সর্বস্তরে ঘুষ, দুর্নীতি,স্বজনপ্রীতি, চোরাকারবারী, ছিনতাই, হত্যা, গুম আর ভাওতাবাজী ব্যাপক হারে বিস্তার লাভ করেছে। মোদ্দা কথা, শিক্ষিত-অর্ধশিক্ষিত মানুষের একটা অংশ পাপ কাজের মাধ্যমে তাদের আয়ের একটা বিরাট অংক উপার্জন করে থাকে। কোন সাংবাদিক যদি তার আয়ের গোপন উত্সের সন্ধান পান-তো জনসমক্ষে তার অবস্থিতি কতটুকু অধপতনে টেনে নেবেন- তা বলাই বাহুল্য। যেহেতু গোপন ফাঁস করে দেয়া সাংবাদিকদেরই কাজ।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রখ্যাত সাংবাদিক, দৈনিক ইত্তেফাকের এককালের জনপ্রিয় ‘মঞ্চে নেপথ্যে’ কলামের স্পষ্টভাষী, সাবেক মন্ত্রী মরহুম খোন্দকার আব্দুল হামিদ তাঁর সুদীর্ঘ ৩৪ বছরের সাংবাদিকতা জীবনে যে আপোষহীন সংগ্রাম করে গেছেন তাতে তাঁর জীবদ্দশাতেই অনেক বিরুদ্ধবাদীর আবির্ভাব ঘটেছিল। প্রকাশ্যে কিছু না বললেও আড়ালে-আবডালে এই অমর কলম সৈনিকের বিরুদ্ধে কুত্সা রটাতে কেউ কম যায়’নি। দুঃখজনক হলেও সত্য যে, খোন্দকার আব্দুল হামিদ স্পষ্টভাষীর মৃত্যুরপরও বিরুদ্ধবাদীরা তাঁর বিরুদ্ধে নর্ত্তণ-কুর্দণ করে কম ঘাম ঝরায়নি। এতদিন পরও সেই বিরুদ্ধবাদীদের জীবাস্মের হদিস মেলে।
বিশ্বের শ্রেষ্ঠতম সম্মানজনক পেশার অন্যতম হচ্ছে ‘সাংবাদিকতা’। নিছক সখ করে কেউ এ পেশায় যোগ দেন না। দেশ ও জাতিকে অকৃত্রিম ভালবেসে সাংবাদিকরা তাদের লেখনীর মাধ্যমে মানুষের কল্যাণে আপোষহীন সংগ্রাম করে যান্। ন্যায়বিচার, সুখ-শান্তি, সমৃদ্ধি আর ন্যায়-নীতির সিঁড়ি বেয়ে প্রতিটি মানুষ যাতে আন্তরিক ও সংবেদনশীলতার মাধ্যমে স্বনির্ভর ভবিষ্যৎ রচনা করতে পারে-সেই আশা আর স্বপ্ন বুকে নিয়েই একজন কলম সৈনিক এই মহান দায়িত্ব পালন করে থাকেন।
সংবাদপত্র শিল্পের গতিশীল তত্পরতা আছে বলেই বর্তমান বিশ্বে ঘুষ, দূর্নীতি, ছিনতাই, হত্যা, গুম, রাহাজানি, অপহরণ, এসিডনিক্ষেপ এবং প্রতারণা বা চক্রান্তের ফাঁদ পেতে সহজে কেউ ফায়দা লুটে নিতে পারে না। নিলেও সংবাদপত্রের পাতায় একদিন না একদিন তার কীর্তিকলাপ আর চেহারা ভেসে উঠবেই। সাংবাদিকের শ্যেনদৃষ্টি তাকে গ্রাস করবেই। আর সে কারণে সাংবাদিকের সমূহ ক্ষতি বা বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হওয়া মহল বিশেষের প্রতি তেমন বিচিত্র নয়। এজন্য কোন সাংবাদিকের আক্ষেপ বা অনুশোচনারও কিছু নেই। কারণ, সমাজ ও জাতিকে এরা শুধূ দিতেই এসেছেন, কিছু নিতে নয়। তাই পুরস্কারের ক্ষেত্রে তিরস্কারই এদের কাম্য। কবি বলেছেন-‘যাদের বুকের পাঁজর ভেঙ্গে গড়েছে তোদের অলংকার/তাদের কেন করিসরে হেলা দিসনে কেন অধিকার?
এত্তগুলো কথা এইজন্য লিখলাম যে, বেশ কিছুদিন আগে আমারই মত একজন সাংবাদিকের বিয়ের কথা হয়েছিল জামালপুরের নান্দিনায়। হবুবধূর অভিভাবক ছেলের ঘর-বাড়ি দেখার জন্য ব্যাকুল। ঘটককে ছেলের (সাংবাদিকের) বাবা বারবার তারিখ পিছিয়ে দেয়া সত্তেও মেয়ে পক্ষ নাছোড় বান্দার মত একরকম জোর করেই চতুর্থ তারিখে ছেলের ঘরবাড়ী দেখতে এলেন। ব্যাপারটা তখনও হবুবর সাংবাদিকের কাছে ছিল অজ্ঞাত। মেয়ের বড় ভাই তখন বললেন-আপনাদের সাথে আত্মীয়তা করার ইচ্ছে নিয়েই এসেছি। সঙ্গে পাত্রীর চাচা হাজি সাব বললেন-হ্যাঁ বাবা! আমরা আত্মীয়তা করব বলেই এসেছি। তবে গোপন রাখব না-আমাদের মেয়ের গায়ের রং শ্যামলা। হাস্যরসে হাজিসাব আরও বললেন-জাতের মেয়ে কালোও ভাল নদীর পানি ঘোলাও ভাল। ততক্ষণে সাংবাদিক সাহেব বুঝলেন, ব্যাপারটা তাকেই জড়িয়ে। বাড়ি ফিরে যাবার পথে মেয়ের বড় ভাই আমাদের সাংবাদিককে নিমন্ত্রণ করে গেলেন-‘যাবেন আমাদের ওখানে’। সাংবাদিক সাহেব স্মিতহাস্যে আগন্তকদের এগিয়ে দিলেন। এরপর মেয়ে দেখার পালা। কন্যাপক্ষ বারবার ঘটক পাঠাচ্ছেন। তারিখ কয়েকবার বাতিল হবার পর ঘটকের সংখ্যা বৃদ্ধি পেল। কন্যার আত্মীয়পক্ষ সাংবাদিক পাত্রকে হাটে বন্দরে নগরে চুপি চুপি এক পলক দেখে নানা খোঁজ নিতে লাগল। অনিচ্ছা সত্ত্বেও বারকয়েক তারিখ পাল্টানোর পর অবশেষে সাংবাদিকের বাবা পাত্রী দেখার জন্য পাত্রীর বাবার বাড়ি গেলেন। পরদিন বাড়ি ফিরেই তিনি বিয়ে সম্পন্ন করতে ব্যস্ত হয়ে উঠলেন। নববধুকে কি কি দেয়া হবে মোটামুটি ঠিকঠাকও করে ফেলেছেন। সাংবাদিকের মাথায় বজ্রপাত। একজন কবি ও সাংবাদিকের বউকে হতে হবে রাজনীতি সচেতন, সামাজিক ও সংস্কৃতিমনা, অথিতিপরায়ণা, সুগৃহিণী, সংযমী, নম্র ও শান্ত স্বভাবের। না জানি কোন্ কঙ্কাবতীর হাতে বন্দী হতে যাচ্ছেন আমাদের সাংবাদিক। এখনো বিয়ের সময় হয়নি বলে আসন্ন বিয়েতে অসম্মতি জানিয়ে সাংবাদিক সাহেব তার গ্রামের বাড়ীতে নির্মাণাধীন বিল্ডিং-এর অসমাপ্ত কাজ অনির্দিষ্ট কালের জন্য বন্ধ করে দিলেন। কারণ বিল্ডিং-এর নির্মাণ কাজ সমাপ্ত হলেই নববধুর আগমন ঘটবে। ঘোষণা দিলেন, সঠিক তথ্য না পাওয়া পর্যন্ত এবং কাংখিত সুত্রের সাথে না মিলানো পর্যন্ত এ বিয়ে হবে না। এ নিয়ে বাপ-বেটার মধ্যে মহা ফ্যাসাদ লেগে গেল। রাগে তাঁর বাবা ঢাকায় চলে গেলেন সাংবাদিকের আম্মা, ভাই ও বোনের কাছে নালিশ জানাতে। অবশেষে সকলের অনুরোধে তিনি নীরব রইলেন। ইতোমধ্যে গোপনসুত্র জানাল-ঘটকের দেয়া তথ্যের মাঝে গোঁজামিল আছে । মেয়েপক্ষ তথ্য গোপন করেছে। অতএব এ বিয়ে হবে না । এদিকে মেেেয় পক্ষের কাছে আমাদের সাংবাদিক সম্পর্কে কিছু অভিযোগ আনা হলো। ছেলে অমুকগঞ্জে এক হিন্দু মেয়েকে বিয়ে করে প্রতারণা করেছে কিনা? ছেলে আদৌ কোন সাংবাদিক কিনা? সবচে’ মজার ব্যাপার হলো, আমাদের আলোচ্য সাংবাদিক একজন পা-গ-ল ???
ঘটক এসব কথা জানালে সাংবাদিকের মুখ দিয়ে একটা তাচ্ছিল্যের হাাসি বেরিয়ে এলেও তিনি লক্ষ্য করলেন- তার বাবার কমলার মত লাল টুকটুকে মুখটি মুুহুর্তের মধ্যে নীল হয়ে গেল। আমাদের সাংবাদিক দুঃখ পেলেন বটে। শূন্যে তাকিয়ে ভাবলেন-কিছুক্ষণ। তারপর বীর্ঘশ্বাস ছাড়লেন-উফ! কী মুশকীল!! তারপর তার বাবাকে বললেন-ওদের দোষ দিয়ে লাভ নেই। ওদের মেয়েকে ওরা পাগলের হাতে তুলে দিবেন না। এক যুগেরও অধিককাল ধরে যিনি সাংবাদিকতা পেশার সাথে জড়িত গোটা দেশব্যাপী যিনি আলোচিত-সমালোচিত; যিনি একজন শক্তিমান কবি ও কলামিস্ট-সেই ব্যক্তিটির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ মেয়ে পক্ষ কিভাবে মেনে নিলেন? তারা ছেলেকে (সাংবাদিককে) দেখতে এসে দীর্ঘক্ষণ কথা বললেন-প্রশ্ন করলেন-জবাব পেলেন এবং তাদের জামাই হিসেবে বরণ করে নেয়ার আগেই আমন্ত্রণ জানালেন-অথচ সেই লোকগুলো এত বোকা!
প্রিয় পাঠক, আমাদের আলোচ্য সাংবাদিক সম্পর্কে কিছু তথ্য তুলে ধরছি। দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে তিনি জাতীয় দৈনিক পত্রিকার সহ-সম্পাদক, সহকারী সম্পাদক এবং মাত্র ২৩ বছর বয়েস থেকে একজন তুখোড় কলাম লেখক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন এবং অতটুকু বয়সেই তিনি একটি সাপ্তাহিক পত্রিকার নিয়োগপ্রাপ্ত সম্পাদক হন। দেশের বৃহত্তম একটি জাতীয় সাহিত্য সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি, একটি জাতীয় সাংবাদিক সংগঠনের কেন্দ্রীয় সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য হয়ে দুটি দপ্তরের দায়িত্ব প্রাপ্ত হন। সাহিত্য এবং সাংবাদিকতায় তরুণ বয়েসে অসামান্য অবদান রাখার জন্য সাহিত্য পুরস্কার, সংবর্ধনা ও স্বারক গ্রন্থ প্রকাশসহ জাতীয় স্বীকৃতি লাভ করেন। অল্প সময়ের ব্যবধানে ব্যাপক অবদান রাখার সুবাদে তিনি অনেক সাহিত্যিক সাংবাদিকের ঈর্ষার কারণ। এই আপোষহীন কলম সৈনিক অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য পরিবেশন করে একদিকে যেমন জাতীয় পর্যায়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন অপরদিকে বিরাগভাজন হয়েছেন অনেক দুর্নীতিবাজ, সমাজবিরোধী দুশ্চরিত্র মানুষের। সাধারণ জীবন যাপনে অভ্যস্ত এই মানুষটি ঘুষ, দুর্নীতি আর স্বজনপ্রীতির সম্পূর্ণ বিরোধী। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে রয়েছে বিস্তর অপপ্রচার। জামালপুরের সাবেক এক উপজেলা চেয়ারম্যানের (পরলোকগত ও সাবেক এমপি) বিরুদ্ধে সাত লাখ টাকা আত্মসাতের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ সম্বলিত একটি সরেজমিন প্রতিবেদন লিখলে ওই উপজেলা চেয়ারম্যান জামালপুরের তত্কালীন জেলা প্রশাসকের প্রশ্নের জবাবে বলেছিলেন-এই সাংবাদিক তার কাছে পঞ্চাশ হাজার টাকা উত্কোচ দাবী করেছিলেন। উপজেলা চেয়ারম্যান উত্কোচ দেননি বলেই নাকি এ সাংবাদিক তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির রিপোর্ট লিখেছেন। শুধু তাই নয়, তিনি এই সাংবাদিককে সাতদিনের মধ্যে খুন করারও হুমকী দিয়েছিলেন। আমাদের আলোচ্য সাংবাদিক উত্কোচের লোভনীয় প্রস্তাবকে উপেক্ষা করে ১৯৮৯ সনের ২৯ ডিসেম্বর ঢাকার একটি জাতীয় সাপ্তাহিকে দুর্নীতি সংক্রান্ত একটি দীর্ঘ অনুসন্ধানী প্রতিবেদন লিখেছিলেন শেরপুরে শিক্ষা অফিসে সরকারী অর্থ কেলেংকারীকে কেন্দ্র করে। যার শিরোনাম ছিলে-‘‘রাষ্ট্রীয় কোষাগারে লুটপাট ॥ রাষ্ট্রপতির টেলিগ্রাম ॥ ভুঁয়া বিলের মাধ্যমে পাচঁ কোটি টাকা আত্মসাত’’। শুধু তাই-ই নয়, এই সাংবাদিকের এক রিপোর্টে একজন মন্ত্রী তাঁর মন্ত্রীত্ব হারিয়েছিলেন। সে এরশাদ সরকারের আমলের কথা। অতএব, বুঝতেই পারছেন-এই সাংবাদিকের শত্র“সংখ্যা কত এবং শত্র“পক্ষ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে কি ধরণের অপপ্রচার চালাতে পারে। আর টেলিফোন হুমকীর কথা তো বলাই বাহুল্য। একজন সাংবাদিক যেসব ভাষায় টেলিফোন হুমকীর সম্মুখীন হন, একজন সাধারণ মানুষকে সেরকম হুমকী দিলে সে মানুষটি হার্টফেল করতে বাধ্য।
যাহোক, কোন না কোন পত্রিকার মাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই এই সাংবাদিকের লেখা দেশের লাখ লাখ পাঠকের দৃষ্টি কেড়ে নেয়। পাঠকের অগণিত প্রশংসাপত্র হস্তগত হয় তাঁর। কিন্তু আফসোস! আজ অবধি কোন পাঠক তাঁর লেখা পড়ে ‘‘পাগল’’ বলে তিরস্কার করলেন না। অথচ সমাজের কু-চক্রী মহলের হীন স্বার্থে ব্যাঘাত ঘটায় মাঝেমধ্যেই তারা এই সাংবাদিককে ‘‘পাগল’’ বলে আখ্যায়িত করে থাকে। এজন্য সাংবাদিকের কোন দুঃখ নেই, ক্ষোভও নেই।
সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব প্রিয়নবী হযরত মুহাম্মদ (সঃ) কে কাফেররা বহুবার ‘পাগল’ বলে তিরস্কার করেছে। মহান রাষ্ট্র বিজ্ঞানী এরিষ্টটল বলেছেন-পাগলামীর মিশ্রণ ছাড়া বড় প্রতিভা থাকতে পারে না। মূলতঃ সকল মানুষই পাগল। কেউ সুনাম-যশ-খ্যাতির পাগল, কেউ নারী ও মদের পাগল, কেউ ঘুষ-দুর্নীতির পাগল, কেউ প্রেমের পাগল, মুরশীদের পাগল, খোদার পাগল। আর সেই পাগলের তালিকায় আমরা যদি ‘সত্য ও সুন্দরের প্রেমিক পাগল’ হই তাতে দোষ কি? সংবেদনশীল প্রিয় পাঠক-পাঠিকারাই একবার ভাবুন। একজন সাংবাদিকের কোন বন্ধু নেই। তবে শত্র“রও কোন অভাব নেই। শত্র“ বেষ্টিত সমাজে একজন সাংবাদিকের জীবন যাপন কতটা নিরাপদ এবং সুখকর তা তো সবাই জানেন। তবে এটাও জেনে রাখুন, ঘুষখোর, সুদখোর, চোরাচালানী, মজুদদার, মুনাফাখোর তথা অবৈধ উপার্জনকারীদের সন্তান সাধারণত ‘জারজ’ হয়। রচনাকালঃ ৩১ ডিসেম্বর ১৯৮৭।

Shamol Bangla Ads

তালাত মাহমুদ: কবি সাংবাদিক ও কলামিস্ট।

Need Ads

সর্বশেষ - ব্রেকিং নিউজ

Shamol Bangla Ads
error: কপি হবে না!