মেহের আমজাদ, মেহেরপুর : প্রতিবছরই বিভিন্ন ধরনের আগাম সবজি চাষ করে থাকেন মেহেরপুর জেলার চাষিরা। চলতি বছরও আগাম শিম চাষ হয়েছে এ জেলায়। গত বছরের তুলনায় এ বছর শিমের বাজার দর ভালো পাওয়ায় আর্থিক ভাবে লাভবান হচ্ছে মেহেরপুরের চাষিরা। ধান-পাট সহ অন্যান্য আবাদে অব্যাহত ক্ষতি পুষিয়ে নিতে শিমের চাষ করছে তারা। আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে এবং বাজার দর ভালো পেলে লাভবান হবেন এবং চাষিদের মুখে হাসি ফুটবে বলে জানান শিম চাষিরা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে চলতি বছর জেলায় ৩ টি উপজেলার ২’শ ৬৫ হেক্টর জমিতে শিম চাষ করা হয়েছে। সদর উপজেলায় ২’শ ৭ হেক্টর এবং মুজিবনগর উপজেলায় ৫১ হেক্টর জমিতে শিম চাষ করা হয়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন মাঠে ১’শ ৬০ হেক্টর জমিতে শিমের চাষ করা হয়েছে।
মেহেরপুর সদর উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের কাঁঠালপোতা, সোনাপুর, পিরোজপুর, টুঙ্গি ও গহরপুরসহ কয়েকটি গ্রামের মাঠে প্রচুর পরিমান শিমের চাষ হয়েছে। এলাকা ঘুরে দেখা যায়, মাঠের পর মাঠ শিম ফুলে ভরে উঠেছে। চাষী শিমক্ষেতে সেচ ও বীজ দিচ্ছে। করছে শিম গাছের পরিচর্যা। কেউ তুলছেন শিম। পিরোজপুর ইউনিয়নের কাঁঠালপোতা গ্রামের মাঠে প্রায় সাড়ে ৭শ’ বিঘা ও টুঙ্গি গ্রামের মাঠে প্রায় আড়াইশ’ বিঘা জমিতে শিম চাষ হয়েছে। এছাড়া সদর উপজেলার আমদহ ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের মাঠে ও মুজিবনগর উপজেলার মহাজনপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের মাঠে প্রচুর পরিমানে শিম চাষ হয়েছে।
টুঙ্গি গ্রামের মাঠে কয়েকজন চাষীর সাথে কথা হয়। তারা জানান, স্থানীয়ভাবে তৈরি উন্নত জাতের বিস্কুট শিম চাষ করেছেন এলাকার চাষীরা। জানা যায়, ওই গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক সাড়ে ৪ বিঘা, রিহান ২ বিঘা, ইয়ামিন, মহাসিন, কাশেম, মধু ও আব্দুল হান্নান এক বিঘা করে জমিতে শিম চাষ করেছেন। তারা জানালেন, সাধারণত মাঝ আষাঢ়ে সীম চাষ করতে হয়। এবার এলাকার চাষীরা জৈষ্ঠ্য মাসের মাঝামাঝি শিম চাষ শুরু করেছেন। আগাম শিম উঠছে। মেহেরপুরের বাজারে পাইকারী ২ হাজার ৮শ’ টাকা থেকে ৩ হাজার টাকা মন দরে এ শিম বিক্রি হচ্ছে।
পিরোজপুর গ্রামের চাষী আকাশ দেড় বিঘা জমিতে শিম চাষ করেছেন। তিনি জানালেন, এ পর্যন্ত তার ৬ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। শিমের আবাদ শেষ হওয়া পর্যন্ত তার দেড় বিঘা জমির পিছনে ১৫ হাজার থেকে ১৮ হাজার টাকা খরচ হতে পারে। গেল সপ্তা’য় তিনি প্রথম দিনে ২৫ কেজি শিম তুলেছেন। মেহেরপুর বাজারে ওই শিম ৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করেছেন। তিনি এখন প্রতি সপ্তাহে শিম তুলবেন। তিনি বললেন, মাঘ মাস পর্যন্ত ক্ষেত থেকে শিম তোলা যাবে। ভাল দাম পেলে বিঘা প্রতি ৬০ হাজার টাকার শিম বিক্রি করতে পারবেন। যদি আরো এক দেড় মাস প্রতি কেজি শিমের দাম ৪০ টাকা বা তার বেশী পান তবুও বিঘা প্রতি ৪০ হাজার টাকার শিম বিক্রি করতে পারবেন।
টুঙ্গি গ্রামের চাষী হযরত আলী জানান, তিনি পঁচিশ কাঠা জমিতে শিম চাষ করেছেন। তিনি জানালেন, গেল সপ্তাহে প্রথম দিনে ক্ষেত থেকে ২ মন শিম তুলে মেহেরপুরে পাইকারী ৩ হাজার টাকা মন দরে বিক্রি করেছেন। তিনি বলেছেন, এ পর্যন্ত ওই জমিতে তার যে খরচ হয়েছে তা প্রথম দিনের বিক্রিত শিমের দামে ওঠে গেছে। তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে চাষ, বীজ-সেচ, সার-বিষ ও লেবার বাবদ প্রতি বিঘা শিমে ১০ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকা ব্যয় হবে। গত বছর তার মাত্র ১০ কাঠা জমিতে শিম চাষে খরচ বাদে ৪০ হাজার টাকা লাভ হয়েছিল। এবছরও তিনি মোটা টাকা লাভের আশা করছেন।
মেহেরপুর ছোট বাজারের সবজি ব্যবসায়ি আমজাদ হোসেন জানান, বাজারে খুচরা বিক্রির জন্য আসছে না বললেই চলে। গ্রামের শিম চাষীরা বিকেলে বিকেলে শিম নিয়ে আড়তে দিচ্ছে। রাতে ট্রাক ভর্তি হয়েছে রাজধানী ঢাকা, বন্দর নগরী চট্টগ্রাম, বরিশালসহ বিভিন্ন জেলার যাচ্ছে ওই শিম।
মেহেরপুর সদর উপজেলা উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা খোদাজ্জেল হোসেন বলেন, এবছর শিম চাষ ভাল হয়েছে। আবহাওয়া বৈরি না হলে শিম চাষ থেকে লাভবান হবে চাষীরা। আর ইতিমধ্যে বাজারে আগাম শিম উঠেছে এবং সীমের ফলন ভালো হওয়ায় বাজার দর ভালো থাকায় চাষিরা লাভবান হচ্ছে।




