নালিতাবাড়ী (শেরপুর) প্রতিনিধি : বোরো মৌসুমে সেচের জন্য রাবারড্যাম স্থাপনের দাবিতে শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার বাঘবেড় কচুবাড়ীতে চেল্লাখালি নদীর পারে ১৭ অক্টোবর শুক্রবার বাঘবেড়, রাজনগর ও নন্নীসহ ৩টি ইউনিয়নের কৃষকগন উপস্থিতিতে এক কৃষক, শ্রমিক ও জনতার সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সমাবেশে কৃষক ও জনসাধারন নদীতে নেমে বোরো মৌসুমে সেচের জন্য রাবারড্যাম স্থাপনের দাবি জানান।
কৃষক মুক্তি হোসেনের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, মুক্তিযোদ্ধা আক্তারুজ্জামান, প্রতিরোধ যোদ্ধা ফজলুর রহমান, সাংবাদিক মাহফুজুর রহমান সোহাগ, কৃষক সাইফুল ইমলাম, আলকাছ আলী ওমর ফারুক, সোলায়মান, জহুরুল মাষ্টারসহ প্রমুখ ব্যাক্তিবর্গ।
কচুবাড়ী স্লুইচগেইট কমিটি এলাকার কৃষকরা জানায়, ১৯৮৫ সালে উপজেলার বাঘবেড় কচুবাড়ীতে বাঘবেড়, রাজনগর ও নন্নীসহ ৫ হাজার একরের প্রায় ৬ হাজার কৃষকের বোরো আবাদের জন্য সেচের আওতায় পানি উন্নয়ন বোর্ড কতৃক কৃষকের কাছ থেকে ৪ একর জমি ক্রয় করে কৃষকের সার্থে প্রায় ২শ ফুট প্রস্থে স্লুইচগেইট নির্মিত হয়। দীর্ঘ ২৬ বছর একটানা স্লুইচগেইট দ্বারা বিরতীহীন ভাবে উজান থেকে ভাটি পর্যন্ত এই এলাকার কৃষকগন সেচ সুবিধা ভোগ করে আসছিল। প্রাকৃতিক দূর্যোগের কারনে স্লুইচগেইটটি কয়েকবার বিধ্বস্ত হয়। স্লুইচগেইটটি ভেঙ্গে যাওয়ায় ৩ বছর যাবৎ বোরো স্কীমের জন্য কৃষকরা কোন সেচ সুবিধা পাচ্ছে না। ভাংগনকৃত কচুবাড়ী নামক স্থানে স্লুইচগেইটটির জায়গাতেই রাবার ড্যাম নির্মিত হলে সর্বদিকের এলাকার কৃষকের জমি সেচ সুবিধায় আসবে এবং সকল কৃষক শান্তিতে থাকবে বলে সমাবেশে জানানো হয়।
অপরদিকে উজান দিকে ৩ইউনিয়নের একটি মাত্র কৃষকের জন্য স্লুইচগেইটটি ভেঙ্গে গেছে। স্লুইচগেইট হতে সীমান্ত পর্যন্ত নদী বড় হওয়ায় নদীর দু’পাশে পাইলট প্রকল্প বাধ দেওয়া হয়েছে। নদীর পাশও বেশি। ফলে সেচ সুবিধা বেশি। নদীর দ্বারা সেচ সুবিধা থাকা সত্বেও তারা সেচ সুবিধা বঞ্চিত। ডিপটিউবওয়েল নেই। উজানে ১৫০ ফুট গভীরেও পানি পাওয়া যায় না এবং শুকনো মৌসুমে খাবার পানি সংগ্রহেও সমস্যা হয়।
স্লুইচগেইট পরিচালনা কমিটির সভাপতি কৃষক আহাজ উদ্দিন বলেন, লোক মুখে সন্নাসীভিটা ব্রীজের ভাটিতে একটি রাবার ড্যাম হওয়ার কথা আমরা শুনেছি। বিষয়টি চিন্তা করে দেখেছি, ভাটি অঞ্চলে কৃষকের সকল সুবিধা রয়েছে। কিন্তু আমাদের স্লুইচগেইটি ভাংগনকৃত এলাকার মানুষের কৃষকের সেচের কোন সুবিধাদি নাই। কচুবাড়ীর এই জায়গাতেই স্লুইচগেইট নির্মিত হলে সর্বদিকে এলাকার সকল কৃষককের জমি সেচের আওতায় আসবে। সর্বদিকে সেচ সুবিধা বৃদ্ধি পাবে। আমার কৃষিমন্ত্রীর নিকট সার্বিক সহযোগিতা চাই।




