এস কে রঞ্জন,কলাপাড়া (পটুয়াখালী) : ইলিশ প্রজননে নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও খোদ মত্স্য কর্মকর্তা উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতায় বঙ্গোপসাগরে মা ইলিশ নিধনের মহা উত্সব চলছে। মত্স্য কর্মকর্তা এবং প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে চলছে বরফ উত্পাদন ও ইলিশ মজুদ করার কাজ। ট্রলার মালিক ও আড়ৎদারদের সাথে মত্স্য কর্মকর্তা ও প্রশাসনের মোটা অংকের বিনিময় ইলিশ নিধন,বরফ উত্পাদনের অলিখিত সমযোতার অভিযোগ উঠেছে। মা ইলিশ রক্ষায় মত্স্য অধিদপ্তর ও সরকারের কোটি কোটি টাকা ব্যয়ের মাধ্যমে গৃহিত পদক্ষেপ মত্স্য কর্মকর্তা এবং প্রশাসনের নাটকীয় ভূমিকার কারনে ভেস্তে যেতে বসেছে। অসাধু জেলে ট্রলার মালিক এবং মত্স্য ব্যবসায়ীদের সাথে মত্স্য কর্মকর্তা, পুলিশ প্রশাসনের সখ্যতায় হতবাক উপকুলীয় এলাকার সাধারন মানুষ। মাননীয় প্রধান মন্ত্রী ও মত্স্য অধিদপ্তরের জররী হস্তক্ষেপ কামনা করছেন সাধারন জেলেরা।

জানাযায়,ইলিশ প্রজনন বাড়াতে বঙ্গোপসাগর সহ উপকুলীয় নদ নদীতে মা ইলিশ আহরনে ৫ অক্টোবর থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত ১১ দিনের নিষেধাজ্ঞার প্রজ্ঞাপন জারি করলেও দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম মত্স্য বন্দর আলীপুর-মহিপুর,পাথরঘাটা,মৌডুবী সহ উপকুলীয় এলাকার ট্রলার মালিক ও আড়ৎদাররা এ প্রজ্ঞাপনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে ইলিশ নিধনে বঙ্গোপসাগরে এ বছর রেকর্ড তৈরী করতে চলেছে। সাগরে প্রচুর পরিমান ইলিশ ধরা পড়ার কারনে অবরোধ উপেক্ষা করে শত শত মাছ ধরার ট্রলার এখন সমুদ্রে অবস্থান করছেন। এসব মাছ ধরা ট্রলার মালিকরা আড়ৎদার সমিতির মাধ্যমে মৎস্য কর্মকর্তা ও পুলিশকে ম্যানেজ করে ইলিশ বোঝাই ট্রলার নিয়ে রাতের আধারে ঘাটে ফিরতে শুরু করেছে। অপরদিকে অবরোধ কর্মসূচী শেষ হবার পর পরই সমুদ্রে থাকা ট্রলার গুলো ঘাটে ফিরে আসার জন্য গভীর সমুদ্র থেকে এসে সুন্দরবন,সোনারচর চ্যানেলে,গঙ্গামতি সহ উপকুল ভাগের বিভিন্ন স্থানে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। অপরদিকে অবরোধ কর্মসূচী শেষ হওয়ার পরের দিন থেকে বরফ উৎপাদন করার কথা থাকলেও বর্তমানে মৎস্য বন্দর আলীপুর-মহিপুরের একাধিক বরফকলে বরফ উৎপাদন চলছে খোদ মৎস্য কর্মকর্তা,উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশের তত্বাবধানে। এসব উৎপাদিত বরফ দিয়ে অবরোধের মধ্যে ইলিশ নিয়ে তীরে ফিরে আসা ট্রলারের ইলিশ ওই সকল বরফ মিলের মধ্যেই মজুদ রাখছেন প্রশাসনের মাধ্যমে এমন অভিযোগ স্থানীয়দের।
১২ অক্টোবর রবিবার গভীর রাতে মৎস্যবন্দর আলীপুরে স্থানীয় সাংবাদিকরা সরেজমিনে গেলে দেখাযায়, রাতের আধারে স্টার আইচ প্লান্ট ও মুন আইচ ফ্যাক্টরী সহ একাধিক বরফ মিলে বরফ উৎপাদন ও বিক্রি করছে এবং মুন আইচ ফ্যাক্টরীতে কয়েক লাখ টাকার ইলিশ মজুদ রাখা হয়েছে। অবরোধের মধ্যে বরফ উৎপাদন এবং ইলিশ মজুদ রাখার বিষয়ে জানতে চাইলে মুন আইচ ফ্যাক্টরীর কেয়ারটেকার হাসান বলেন,উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা,মৎস্য কর্মকর্তা, স্থানীয় পুলিশ ও আলীপুর মৎস্য আড়ৎদার সমিতির সভাপতি ও লতাচাপলী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক আনছার মোল¬ার তত্ত্বাবধানে বরফ উৎপাদন ও ইলিশ মজুদ রাখা হয়েছে।
এ ব্যাপারে আলীপুর মৎস্য আড়ৎদার সমিতির সভাপতি আনছার মোল¬া সাংবাদিকদের কাছে প্রশাসনের সহযোগিতায় বরফ উৎপাদন ও ইলিশ মজুদ রাখার কথা স্বীকার করেন।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম মোটা অংকের টাকা লেনদেন এর কথা অস্বীকার করে তিনি বলেন,অবরোধ কর্মসুচীর অংশ হিসেবে প্রতিদিনই তারা অভিযান চালিয়ে অসাধু জেলেদের শাস্তি দিয়ে যাচ্ছেন। বরফ উৎপাদন ও মাছ মজুদ করার বিষয়ে সংবাদকর্মীদের জানান ৪ অক্টোবর বিকেলে ৩৩ মন ইলিশ বাজারজাত করতে না পাড়ায় আড়ৎদার সমিতির অনুরোধে জেলা প্রশাসনের নির্দেশক্রমে মুন আইচ প্ল¬ান্টে ওই ইলিশ মজুদ রাখা হয়েছে। মৎস্য কর্মকর্তা আরো জানান,মজুদ রাখা ইলিশ যাতে পচে না যায় সে জন্য প্রতিদিন ২ ঘন্টা করে আমাদের তত্ত্বাবধানে মুন আইচ প্ল¬ান্ট চালু রাখা হয়। সারারাত বরফ উৎপাদনের বিষয়ে তিনি বলেন,২ ঘন্টা বরফ মিল চালু রাখার পর বরফ মিলের চাবি কুয়াকাটা নৌ-পুলিশ ফাড়িঁর ইনচার্জ সঞ্জয় মন্ডলের কাছে রাখা হয়েছে। রাতভর বরফ মিল চালু রাখার বিষয়ে তিনি জানেন না বলে সাংবাদিকদের জানান। তবে বরফ মিল রাতভর চালু রাখার বিষয়ে কুয়াকাটা নৌ-পুলিশ ফাড়ির ইনচার্জ এস আই সঞ্জয় মন্ডলের সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন,উপজেলা ভূমি কর্মকর্তার উপস্থিতিতে ২ ঘন্টা বরফ উৎপাদন শেষে বরফ মিল সীল গালা করে দেয়া হয়েছে। সারারাত বরফ উৎপাদন করার বিষয়ে তিনি বলেন,সিলগালা করা বরফ মিলে উৎপাদন করার কথা তিনি অস্বীকার করে বলেন,এ বিষয়ে সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।
পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক বলেন,বরফ উৎপাদন এবং ইলিশ মজুদ রাখার বিষয়ে তিনি কিছুই অবগত নন। তার কাছে মৎস্য কর্মকর্তা বা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কেউই এ বিষয়ে অবহিত করেননি।




