পীরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি: থেমে নেই রংপুরের পীরগঞ্জে গত সোমবার ভেন্ডাবাড়ি ইউনিয়নের বুজুবাড়ি মৌজার কাশিপুর গ্রামে ভেন্ডাবাড়ি ইউপি চেয়ারম্যান মঞ্জুর হোসেন মন্ডল কর্তৃক নিরীহ দম্পতি প্রহারের স্বীকার হয়েছেন মর্মে গুরুতর অভিযোগের ভিত্তিতে দৈনিক যুগের আলোতে খবর প্রকাশিত হলে যুগের আলো প্রতিনিধিকে এবার ওই চেয়ারম্যান দেখে নেওয়ার হুমকী প্রদান করেন।

বিস্তারিত ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে জানা গেছে , ওই দিন দুপুরে তিন বন্ধু ধলু মন্ডল, মিঠু ও রিজু মিয়া মিলে ধান মাড়াই একটি মেশিন ১ লাখ ৫ হাজার টাকায় ক্রয় করেন। কিন্তু ওই গ্রামের মৃত্যু মকবুল হোসেনের পুত্র মিঠু মিয়ার নামে কাগজ পত্র করা হয়। এতে মিঠু ও রিজু এক জোট হয়ে বলেন এই মেশিনের মালিক আমরা দুই জন এবং এ ব্যাপারে ইউপি চেয়ারম্যান মঞ্জুর হোসেনকেও তারা ম্যানেজ করে বিচার দেন। ওই ঘটনায় চেয়ারম্যান উক্ত দিনে ধলুর বাড়িতে এসে বলে ওই মেশিনে তোমার কোন মালিকানা নেই। ধলু ও রমিচা বেগম এতে প্রতিবাদ জানালে মঞ্জুর হোসেন মন্ডল স্বামী ও স্ত্রী দুই জনকেই তাদের সন্তানদের সামনে ব্যাপক প্রহার করেন। স্বামী সঙ্গা হারিয়ে ফেলার পর স্ত্রী রমিচাকে শরীরের বিভিন্ন স্থানে এমনকি অস্পৃশ্য জায়গা গুলোতে লাথি মেরে গুরুত্বর আহত করেন। স্বামী ও স্ত্রী উভয়ের আঙ্গিনার মধ্যে সঙ্গা হারিয়ে ফেললে চেয়ারম্যান ধলুর বাড়ি থেকে চলে যান। এরপর স্থানীয়রা ওই দম্পতিকে মারাতœক আহত অবস্থায় তাদেরকে পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। রমিচা বেগম পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ৫ নং বেডে মৃত্যু যন্ত্রনায় কাতরাচ্ছেন। অপরদিকে তার স্বামী ধলু মিয়া পুরুষ ওয়ার্ডের ১৪ নং বেডে আশংকাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এদিকে এ ব্যাপারে পীরগঞ্জ থানা পুলিশ মামলা নিতে গড়িমসি শুরু করেছেন বলে জানা গেছে। খুব শিঘ্রই এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহনের জন্য এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগীরা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
অবশেষে পীরগঞ্জের কৃষি কর্মকর্তার বদলী

পীরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি: অবশেষে রংপুরের পীরগঞ্জে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে তারাগঞ্জ উপজেলায় বদলী করা হয়েছে এবং তারাগঞ্জ ষ্টেশনের কৃষি কর্মকর্তা পীরগঞ্জে যোগদান করেছেন মর্মে জানা গেছে
ঘটনার বিবরনে জানা গেছে, একের পর এক বিভিন্ন দূর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারীতার মাধ্যমে উপজেলায় কৃষি বিভাগের কর্মকান্ড পরিচালনা করেছেন। অভিযোগে জানা যায়, কুমেদপুর ইউনিয়নের ৪ নং ব্লকের কৃষি প্রযুক্তি হস্তান্তর প্রশিক্ষন বিষয়ক এক দিনের কর্মশালায় ৩০০ জন কৃষককে ১০০ টাকা হারে ভাতা প্রদান কথা থাকলেও তা তিনি নিজে পকেটস্থ করেছেন। ডিসেম্বর / ২০১৩ রামনাথপুর ইউনিয়নের আই,এ,পি,পি প্রকল্পের আওতায় গোবরের উপরের পলিথিন সেড বাবদ প্রশিক্ষন প্রাপ্ত সকল চাষীদের ৩০০ টাকা হারে ভাতা বাবদ ২০ জনের টাকা পকেটস্থ করেছেন। গত মঙ্গলবার দারিয়াপুর গ্রামের মৃত আব্দুল কাদেররের পুত্র জহুরুল ইসলাম ও দুরামিঠিপুর গ্রামের কুদ্দুস মাষ্টারের ছেলে নুরুন্নবী মিয়া আইএপিপির ক্লাবের সদস্য উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার নিকট থেকে তাদের নামে বরাদ্দ কৃত অর্থ ফেরৎ চেয়ে ব্যর্থ হন। জাতীয় শোক দিবসের মাসে তিনি সংসদের মাননীয় স্পীকারকে প্রধান অতিথি করে ৩ দিনের ফলজ ,বনজ ও ঔষধি কৃষি মেলার উদ্যোগ গ্রহন করেন। অথচ এ ব্যাপারে মাননীয় স্পীকার কিছুই জানতেন বলে তৈরী কৃত মেলা ভেঙ্গে দেওয়া হয়। এতে সাধারন কৃষকরা তাদের কৃষি পন্য নিয়ে এসে বিরাট ক্ষতির সম্মুখিন হন ও ডেকোরেশন ও অন্যান্য বাবদ বিপুল পরিমান অর্থ খরচ দেখান। উপজেলায় বিভিন্ন ব্যক্তি ওই কৃষি অফিসার সম্পর্কে বলেন ওনার চালচলন দেখে মনে হয় উনি কৃষি মন্ত্রী। দৈনিক যুগের আলো সহ একাধিক সাপ্তাহিক ও দৈনিক পত্রিকার ওই দূর্নীতিবাজ কৃষি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সংবাদ পরিবেশন করা হলে কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের খামারবাড়ি ফার্মগেট , ঢাকার মহাপরিচালক মো: আব্বাস আলী কর্তৃক স্বাক্ষরিত স্মারক নং ৮৭৬৮/১ (২১) তারিখ ৯ সেপ্টেম্বরর ২০১৪ মোতাবেক তাকে রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলায় কৃষি অফিসার রেজাউল করিমকে ও তারাগঞ্জ উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা সমীর চন্দ্র ঘোষকে পীরগঞ্জ উপজেলায় বদলী করা হয়। গতকাল বুধবার সমীর চন্দ্র ঘোষ তার স্ব-কর্মস্থলে যোগদান করেন ও ওই কৃষি অফিসার রেজাউল করিম বিদায় নেন।




