এস.এম রফিক,দুর্গাপুর(নেত্রকোণা) : ভারতের মেঘালয় থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে নেত্রকোণার দুর্গাপুরে সোমেশ্বরী নদীর দুকুল ছাপিয়ে উপজেলার ৭ টি ইউনিয়নের দুই শতাধিক গ্রাম সহ দুর্গাপুর পৌরসভা প্লাবিত হয়েছে।

টানা বর্ষন অব্যাহত থাকায় সোমবার সকাল থেকে পানি বাড়তে শুরু করলে গ্রাম গুলোর বাড়ীঘরে পানি ঢোকে পড়ায় বানবাসী মানুষের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। কলাগাছের ভেলা,নৌকা সহ যে যে ভাবে সম্ভব গরু,ছাগল,হাঁস মুরগী সহ নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিচ্ছে। ধংশ হয়েগেছে অনেক পুঁজো মুর্তি।
মঙ্গলবার সকালে স্থানীয় সংসদ সদস্য ছবি বিশ্বাস,জেলা প্রশাসক ড.তরুন কান্তি শিকদার, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ এমদাদুল হক খান,মেয়র শ,ম, জয়নাল আবেদীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(অ.দি))মোঃ হেলাল উদ্দিন,এসি ল্যান্ড ফাহাদ পারভেজ বসুনীয়া বন্যা দুর্গত এলাকা পরিদর্শন করে উপজেলা প্রশাসন জরুরী ভিত্তিতে ত্রান ও দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা করেছেন। বানবাসীদের উদ্ধার কাজে সেনাবাহিনী, বিজিবি ও স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনকে মোতায়েন করা হয়েছে।
এদিকে দুর্গাপুর উপজেলার চকলেঙ্গুরা গ্রামের লোকমান মিয়া,ইসমাইল মিয়া, বাবুল মিয়া ও কুদ্দুছ মিয়ার বাড়ী সহ ৫০টি বাড়ী ১০টিরও বেশী বাঁধ ভেংগে সম্পূর্ণ পানির স্রোতে ভেসে গেছে। নলুয়াপাড়া, গোপালপুর, ভবানীপুর, মেনকীফান্দা, মাসকান্দা, চন্দ্রকোণা মায়ানগর, শ্যামনগর, গাঁওকান্দিয়া, ভাদুয়া, দক্ষিণ ভবানীপুর, বারইপাড়া, চৈতাটি, কুল্লাগড়া, কামারখালী, সনারকান্দা, খুজিগড়া,ডাকুমারা, বিপিনগঞ্জ, শিবগঞ্জবাজার, বিরিশিরি, দাখিনাইল, করুনিয়া, গাভীনা, সাগরদিঘীরপাড়, শাখাইত, কাপাসাটিয়া, খালিশাপাড়া, কাকরাকান্দা, কাকৈরগড়া, ঝাঞ্জাইলবাজার, নগুয়া, তাতিরকোনা, লক্ষীপুর, কৃষ্ণেরচর, বাকলজোড়া, কেট্রা, গুজিরকোনা, রামনগর, নাগেরগাতী, কুমুদগঞ্জবাজার, কেরনখলা, গোহালিয়াকান্দা, ফেচিয়া, সাতাশী, মেলাডহর, দশাল, ঠাকুরবাড়ীকান্দা, মুজিবনগর, চরমুক্তারপাড়া, দক্ষিণপাড়া, মুক্তারপাড়া, তেরীবাজার, উকিলপাড়া, বাগিচাপাড়া সহ বিভিন্ন এলাকার রাস্তাঘাট,কালভার্ট,বাঁধ এর ব্যাপক ক্ষতি সহ স্কুল মাদ্রাসা মসজিদ মন্দির সহ ১৫ হাজার হেক্টর ফসলিজমি পানির নীচে তলিয়ে গেছে, এছাড়া উপজেলার ৮০ শতাংশ পুকুরের মাছ পানিতে ভেসে গেছে। উপজেলার দুই শতাধিক গ্রামের দেড় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সোমেশ্বরী নদীর পানি বিপদসীমার ২৫০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।স্থানীয় সংসদ সদস্য,জেলা প্রশাসক,সেনাবাহিনী ও বিজিবির মাধ্যমে শুকনো খাবার বিতরন করছেন।




