ads

বুধবার , ২১ মে ২০১৪ | ৪ঠা শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  1. ENGLISH
  2. অনিয়ম-দুর্নীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আমাদের ব্লগ
  6. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  7. ইসলাম
  8. উন্নয়ন-অগ্রগতি
  9. এক্সক্লুসিভ
  10. কৃষি ও কৃষক
  11. ক্রাইম
  12. খেলাধুলা
  13. খেলার খবর
  14. চাকরির খবর
  15. জাতীয় সংবাদ

ঘুরে এলাম হাওড়ের দেশ…

রফিকুল ইসলাম আধার , সম্পাদক
মে ২১, ২০১৪ ৮:৩১ অপরাহ্ণ

BAU Netrokona Tour Pic 2আব্দুর রহমান, বাকৃবি প্রতিনিধি : খুব সকালে একটা ফোন আসলো। ওপাশ থেকে মিষ্টি একটা কন্ঠস্বর বলল, ‘কিরে তুই যাবি না? বাস তো ছেড়ে দিবে তাড়াতাড়ি আই’। চট করে ঘুম থেকে উঠে কোনরকমে জামাকাপড় পড়ে রুদ্ধশ্বাসে দিলাম দৌড়। গিয়ে দেখি বিশ্ববিদ্যালয়ের হেলিপ্যাডে দুটি বাস দাঁড়িয়ে আছে। বন্ধুরা তখন থেকেই ছবি তুলতে শুরু করে দিয়েছে। আমিও তাদের সাথে গিয়ে মৌনসম্মতিপূর্বক ছবি তুলায় অংশ নিলাম।
ভেটেরিনারি অনুষদের প্যারাসাইটোলজি ডিপার্টমেন্টের আয়োজনে শিক্ষাসফরের গন্তব্য হাওড়ের দেশ নেত্রকোণা। যে যার মত বাসে উঠল। দুটি বাস ক্যাম্পাস ছাড়ল নেত্রকোণার উদ্দেশ্যে। বাসে উঠেই গানের তালে তালে শুরু হয়ে গেল নাচানাচি। আমি, শুভ, আনন্দ, সাগর, কনগ্রিব এবং সুকুমার। সারা রাস্তায় নাচ আর মজার কৌতুকে সবাইকে মাতিয়ে রাখল আমাদের এই গ্রুপ। বাসের জানালা দিয়ে তাকিয়ে দেখলাম চারদিকে জলশূণ্য ছোট বড় অনেক হাওড় যা নেত্রকোণাবাসীকে যুদ্ধ করে বেঁচে থাকতে শিখিয়েছে। অত:পর একটানা আড়াই ঘন্টার উত্তেজনাপূর্ণ বাসভ্রমন থামল নেত্রকোণার রাজুবাজার ডাক রিয়ারিং ইউনিটে।
হালকা নাস্তা করে আবার বাসে উঠলাম। গন্তব্য এবার নেত্রকোণা জেলায় নিজে অথবা সমন্বিত উদ্দ্যেগে গড়ে উঠা ডেইরী ফার্মগুলো পরিদর্শণ। প্রথমেই গেলাম আব্দুল মজিদ খানের ফার্মে। তার নিজ উদ্দ্যেগে গড়া ঐ ডেইরী ফার্মে রয়েছে ১২টি দুদ্ধবতি গাভী। এদের উৎপাদিত দুধ বিক্রি করে তিনি নিজে স্বাবলম্বি হয়েছেন। এদের মধ্যে একটি প্রতিদিন প্রায় ৫৮ কেজি দুধ দেয় যা বাংলাদেশে সর্বোচ্চ। পুথিগত বিদ্যা না থাকার পরেও তার এই ডেইরী ফার্মের গঠন যেকোন আধুনিক খামারকেও হার মানায়।
তিনি আমাদের গয়ানাথের বালিশ নামক মিষ্টি খাওয়ালেন যা নেত্রকোণার আদি ঐতিহ্য আজও ধরে রেখেছে। বালিশ মিষ্টির জনক গয়ানাথ ঘোষবারহাট্টা রোডে গয়ানাথ মিষ্টান্ন ভান্ডারে এটি প্রস্তুত করতেন। পাকিস্তান শাসনামল থেকেই এ মিস্টির সুনাম ছড়িয়ে পড়ে ছিল। সে সময়ে শুধু তার দোকানেই এইমিষ্টি বিক্রি হতো। ধীরে ধীরে তার নামটিও জড়িয়ে পড়ে মিষ্টির সঙ্গে, হয়ে উঠে গয়ানাথের বালিশ। ২০০ টাকা মূল্যের বালিশ আকারে ১৩ থেকে ১৪ ইঞ্চি হয়। ওই মিষ্টির ওজন ৮০০ থেকে ১০০০ গ্রাম হয়ে থাকে।
BAU Netrokona Tour Picসেখান থেকে গেলাম পরপর আরো দুইটি ফার্ম পরিদর্শনে। যেগুলোতে দুদ্ধবতি গাভীর পাশাপাশি রয়েছে মাছ চাষের জন্য পুকুর। নেত্রকোণার প্রত্যন্ত অঞ্চলে গড়ে উঠা এই ফার্মগলো একদিকে দর্শনার্থীদের জন্য যেমন দর্শনীয় স্থান তেমনি অন্যদিকে পশুবিজ্ঞানের সাথে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষার আদর্শ স্থান।
ফার্ম পরিদর্শণ শেয়ে আবার ফিরে এলাম রাজুবাজার ডাক রিয়ারিং ইউনিটে। আমাদের জন্য আগেই খাবার প্রস্তুত করা রয়েছে। সবাই মিলে খাওয়া দাওয়া শেষ করলাম। খাওয়া দাওয়া শেষে শুরু হল লটারি প্রতিযোগিতা। লটারিতে কারো ভাগ্যে উঠল সাবান, শ্যাম্পু, ব্রাশ, চুলের ক্লিপ। আবার কারো ভাগ্যে উঠল ললিপপ।
লটারি শেষে বীর মুক্তিযোদ্ধা কর্নেল আবু তাহের আর বিশিষ্ট লেখক হুমায়ূন আহমেদের পিতৃভূমিকে বিদায় দিয়ে রওনা হলাম প্রিয় ক্যাম্পাসের উদ্দেশ্যে। বাসে উঠে আবারও গানের তালে শুরু হলো নাচানাচি। অবশেষে সন্ধ্যার দিকে ক্যাম্পাসে পৌঁছালাম। ক্যাম্পাসে পা রাখা মাত্র শুরু হয়ে গেল বৃষ্টি ফলে সারাদিনের ক্লান্তি দূর করতে বৃষ্টির পানিতে ভিজতে কেউ ভূল করলো না।
কিছুদিন পরেই হয়তোবা ক্লাস-পরীক্ষা আর ঘুরাঘুরিতে ব্যস্ত হয়ে পড়ব কিন্তু হাওড়ের দেশ নেত্রকোণার স্মৃতিটুকু থেকে যাবে সকলের হৃদয়ের মণিকোটায়।

Need Ads

সর্বশেষ - ব্রেকিং নিউজ

Shamol Bangla Ads
error: কপি হবে না!